জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। বিশ^ খাদ্য দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই দাবি তুলে ধরেন।

তারা বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ কিন্তু ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্যে বাজার সয়লাব। যার ফলে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য জটিল রোগের প্রার্দুভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই সব রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারন বিষাক্ত খাদ্য। কৃষি খাদ্য বিশেষ করে শাক-সব্জি, ফলমূল, মাছ-মাংস উৎপাদনে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত কেমিকেল বিশেষ করে হারবিসাইড, কীটনাশক, পেস্টিসাইড, হরমোন ও অনিয়ন্ত্রিত এন্টিবায়টিক ব্যবহার হচ্ছে।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। ধারণাপত্র পাঠ করেন বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। আলোচনা করেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান, স্কাউটস জাতীয় কমিশনার আকতারুজ্জামান খান প্রমুখ।

সেমিনারে বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাদ্যকে নিরাপদ রাখার জন্য ভেজাল প্রতিরোধে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাড়াতে হবে। খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাব চালু করতে হবে। কোভিড থাকা সত্ত্বেও খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে এবং পুষ্টির মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা পৃথিবীর চেয়ে বাংলাদেশের খাদ্যের উৎপাদন ভালো। কিন্তু খাদ্য উৎপাদনের পরিসংখ্যান একেক অধিদপ্তরে একেক রকম, এটা সমন্বয় করে সঠিক তথ্য বের করার কথা জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষি বাজেটের আকার বাড়েনি। তাই কৃষকদের ভর্তুকি বাড়াতে হবে।

বক্তরা বলেন, প্রতিটি এলাকায় কৃষক ক্লাব তৈরি করে নিরাপদ খাদ্য তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। খাদ্যের সরকারি উদ্যোগে পরীক্ষা করে তার ফলাফল জনগণকে জানাতে হবে। খাদ্যকে নিরাপদ করতে খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি ও খাদ্যের উৎস স্থলকেই প্রথমত নিরাপদ করাটা জরুরি। আমরা যেমন চাই নিরাপদভাবে খাবার উৎপাদন হোক, আবার ফরমালিন-কার্বাইড বা ক্ষতিকর কোন উপাদান খাবারে মিশে থাকুক তাও চাই না।

সেমিনারে বলা হয় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্যাদি মিশানোর সঙ্গে জড়িত এবং রাসায়নিক দ্রব্যাদিযুক্ত ও ভেজাল খাদ্য বিক্রয়কারীদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দন্ড প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে খাদ্যে বিষ বা ভেজাল রোধে কোন রকম বৈষম্য বা রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই আইন প্রয়োগে সরকারের প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিষ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারকে খাদ্যে বিষ ও ভেজাল মিশ্রণের উৎসমূল থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থের আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী এবং লেবেল ছাড়া বা মিথ্যা লেবেলের অধীন কীটনাশক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সময়োপযোগী কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে কৃষক, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের রাসায়নিক দ্রব্যাদি, কীটনাশক, ভেজাল মিশ্রণের ক্ষতিকর দিক এবং আইনে বর্ণিত দ- তুলে ধরে সচেতন করা। পণ্য আমদানি পর্যায়ে এনবিআর কর্তৃক বন্দরসমূহে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদি পরীক্ষা করা। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা। বিষযুক্ত খাদ্যের ভয়াবহ বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে দেশে জৈব কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন ও একে জনপ্রিয় করে তোলা। ২০১৯ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবটি দ্রুত কৃষকদের জন্য চালু করতে হবে যাতে আমাদের দেশের যুব কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান ঠিক রেখে দেশে এবং দেশের বাইরে রপ্তানি করতে পারে।

রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ , ০১ কার্তিক ১৪২৮ ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। বিশ^ খাদ্য দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই দাবি তুলে ধরেন।

তারা বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ কিন্তু ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্যে বাজার সয়লাব। যার ফলে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য জটিল রোগের প্রার্দুভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই সব রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারন বিষাক্ত খাদ্য। কৃষি খাদ্য বিশেষ করে শাক-সব্জি, ফলমূল, মাছ-মাংস উৎপাদনে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত কেমিকেল বিশেষ করে হারবিসাইড, কীটনাশক, পেস্টিসাইড, হরমোন ও অনিয়ন্ত্রিত এন্টিবায়টিক ব্যবহার হচ্ছে।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। ধারণাপত্র পাঠ করেন বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। আলোচনা করেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান, স্কাউটস জাতীয় কমিশনার আকতারুজ্জামান খান প্রমুখ।

সেমিনারে বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাদ্যকে নিরাপদ রাখার জন্য ভেজাল প্রতিরোধে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাড়াতে হবে। খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাব চালু করতে হবে। কোভিড থাকা সত্ত্বেও খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে এবং পুষ্টির মান বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা পৃথিবীর চেয়ে বাংলাদেশের খাদ্যের উৎপাদন ভালো। কিন্তু খাদ্য উৎপাদনের পরিসংখ্যান একেক অধিদপ্তরে একেক রকম, এটা সমন্বয় করে সঠিক তথ্য বের করার কথা জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বাজেটের আকার বাড়লেও কৃষি বাজেটের আকার বাড়েনি। তাই কৃষকদের ভর্তুকি বাড়াতে হবে।

বক্তরা বলেন, প্রতিটি এলাকায় কৃষক ক্লাব তৈরি করে নিরাপদ খাদ্য তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। খাদ্যের সরকারি উদ্যোগে পরীক্ষা করে তার ফলাফল জনগণকে জানাতে হবে। খাদ্যকে নিরাপদ করতে খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি ও খাদ্যের উৎস স্থলকেই প্রথমত নিরাপদ করাটা জরুরি। আমরা যেমন চাই নিরাপদভাবে খাবার উৎপাদন হোক, আবার ফরমালিন-কার্বাইড বা ক্ষতিকর কোন উপাদান খাবারে মিশে থাকুক তাও চাই না।

সেমিনারে বলা হয় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্যাদি মিশানোর সঙ্গে জড়িত এবং রাসায়নিক দ্রব্যাদিযুক্ত ও ভেজাল খাদ্য বিক্রয়কারীদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দন্ড প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে খাদ্যে বিষ বা ভেজাল রোধে কোন রকম বৈষম্য বা রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই আইন প্রয়োগে সরকারের প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিষ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারকে খাদ্যে বিষ ও ভেজাল মিশ্রণের উৎসমূল থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থের আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী এবং লেবেল ছাড়া বা মিথ্যা লেবেলের অধীন কীটনাশক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সময়োপযোগী কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে কৃষক, উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের রাসায়নিক দ্রব্যাদি, কীটনাশক, ভেজাল মিশ্রণের ক্ষতিকর দিক এবং আইনে বর্ণিত দ- তুলে ধরে সচেতন করা। পণ্য আমদানি পর্যায়ে এনবিআর কর্তৃক বন্দরসমূহে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদি পরীক্ষা করা। খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা। বিষযুক্ত খাদ্যের ভয়াবহ বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে দেশে জৈব কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন ও একে জনপ্রিয় করে তোলা। ২০১৯ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবটি দ্রুত কৃষকদের জন্য চালু করতে হবে যাতে আমাদের দেশের যুব কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান ঠিক রেখে দেশে এবং দেশের বাইরে রপ্তানি করতে পারে।