বাংলাদেশি কিশোরীকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে ধর্ষণ : গ্রেপ্তার ২ ধর্ষক

কাজের সন্ধানে চোরাই পথে ভারতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বাংলাদেশের এক কিশোরী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাগদা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় নিয়মের তোয়াক্কা না করে ওই কিশোরী কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের শরীয়তপুরের পুটিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা বিদেশি শরিফুল মল্লিক নামে এক যুবকের সঙ্গে অবৈধ পথে ভারতে চলে আসে। পরে সে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ মহকুমার বাগদা থানার হরিহরপুরে শরিফুলের বাড়িতেই আশ্রয় নেয়। সেখানে কাজের খোঁজ করছিল সে। এর পর গত ১৪ অক্টোবর শরিফুল মল্লিক (৩৩) ও তার সঙ্গী মহসিন বিশ্বাস (১৮) মেয়েটিকে কাজ দেয়ার নামকরে অজানা স্থানে নিয়ে যায় এবং থানায় ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তারা ওই নাবালিকাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি গ্রামবাসীর নজরে এলে গ্রামের বাসিন্দারাই এই অভিযোগ করে থানায় খবর দেয়। এর পর নাবালিকাকে বাগদা থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ অভিযুক্ত শরিফুল ও মহসিন নামে ওই দুই যুবকে শনিবার গ্রেপ্তার করে বনগাঁও মহকুমা আদালতে পাঠায়।

এ ব্যাপারে বাগদা থানায় যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার জানায়, ওই কিশোরীকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে বাগদায় নিয়ে আসে শরিফুল ও মহসিন। শুধু ওই বিদেশিকেই নয় ওই রকম প্রলোভন দেখিয়ে এভাবেই চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে ভারত এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে মানুষ পারাপার করে থাকে তারা। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসছিল তারা।

বনগাঁও আদালতের সরকারি আইনজীবী সমীর দাস বলেন, আদালতে জেরায় এই দুই যুবক জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ওই দুই যুবক লোকজনকে এপার-ওপার পারাপার করতো। কাজ দেবে বলে বাংলাদেশের শরীয়তপুরের ওই নাবালিকাকেও ভুলিয়ে এপারে আনে তারা। সমীর দাস জানান, ওই বালিকা প্রতিবেশীদের সব খুলে বলে। এর পর তাদের কথা মতো থানায় গিয়ে দুই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। ৩৭৬ ডি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এদিন মহকুমা হাকিম আদালত তাদের চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। মেয়েটি এখন কোথায় আছে প্রশ্ন করা হলে সমীর দাস জানান, নাবালিকাকে সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে। নভেম্বরের ২০ তারিখ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ , ০১ কার্তিক ১৪২৮ ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাংলাদেশি কিশোরীকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে ধর্ষণ : গ্রেপ্তার ২ ধর্ষক

প্রতিনিধি, কলকাতা

কাজের সন্ধানে চোরাই পথে ভারতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বাংলাদেশের এক কিশোরী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাগদা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় নিয়মের তোয়াক্কা না করে ওই কিশোরী কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের শরীয়তপুরের পুটিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা বিদেশি শরিফুল মল্লিক নামে এক যুবকের সঙ্গে অবৈধ পথে ভারতে চলে আসে। পরে সে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ মহকুমার বাগদা থানার হরিহরপুরে শরিফুলের বাড়িতেই আশ্রয় নেয়। সেখানে কাজের খোঁজ করছিল সে। এর পর গত ১৪ অক্টোবর শরিফুল মল্লিক (৩৩) ও তার সঙ্গী মহসিন বিশ্বাস (১৮) মেয়েটিকে কাজ দেয়ার নামকরে অজানা স্থানে নিয়ে যায় এবং থানায় ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তারা ওই নাবালিকাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি গ্রামবাসীর নজরে এলে গ্রামের বাসিন্দারাই এই অভিযোগ করে থানায় খবর দেয়। এর পর নাবালিকাকে বাগদা থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ অভিযুক্ত শরিফুল ও মহসিন নামে ওই দুই যুবকে শনিবার গ্রেপ্তার করে বনগাঁও মহকুমা আদালতে পাঠায়।

এ ব্যাপারে বাগদা থানায় যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার জানায়, ওই কিশোরীকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে বাগদায় নিয়ে আসে শরিফুল ও মহসিন। শুধু ওই বিদেশিকেই নয় ওই রকম প্রলোভন দেখিয়ে এভাবেই চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে ভারত এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে মানুষ পারাপার করে থাকে তারা। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসছিল তারা।

বনগাঁও আদালতের সরকারি আইনজীবী সমীর দাস বলেন, আদালতে জেরায় এই দুই যুবক জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ওই দুই যুবক লোকজনকে এপার-ওপার পারাপার করতো। কাজ দেবে বলে বাংলাদেশের শরীয়তপুরের ওই নাবালিকাকেও ভুলিয়ে এপারে আনে তারা। সমীর দাস জানান, ওই বালিকা প্রতিবেশীদের সব খুলে বলে। এর পর তাদের কথা মতো থানায় গিয়ে দুই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। ৩৭৬ ডি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এদিন মহকুমা হাকিম আদালত তাদের চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। মেয়েটি এখন কোথায় আছে প্রশ্ন করা হলে সমীর দাস জানান, নাবালিকাকে সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে। নভেম্বরের ২০ তারিখ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।