স্মরণ : কিংবদন্তি সাধক ফকির লালন শাহ

হাবিবুর রহমান স্বপন

সাধক লালন শাহের জন্ম তারিখ জানা না গেলেও তাকে ফাল্গুনের এই সময়ে অর্ধমৃত অবস্থায় কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে নদীতে পাওয়া যায় (লালন ভক্ত-শিষ্যরা মনে করেন এই ফাল্গুনের দোল পূর্ণিমার দিনেই ফকির লালনের জন্ম হয়েছিল)। দীর্ঘ জীবনের পর মহান এই সাধক মৃত্যুবরণ করেন ১২৩ বছর আগে ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭ অক্টোবর ১৮৯০)। প্রতি বছর দোল পূর্ণিমায় লালনের স্মৃতিবিজড়িত ছেঁউড়িয়ায় লালনের সমাধীপার্শ্বে ভক্তদের উৎসব হয় (৪ মার্চ থেকে ৮মার্চ পর্যন্ত উৎসব চলবে)। এছাড়াও ১ কার্তিক তার মৃত্যু দিবস উপলক্ষে ভক্তদের মহাসমাবেশ হয় কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া আঁখড়াবাড়িতে।

যারা লালনের দর্শন জানেন না বা বোঝেন না। তাদের কাছে সবই ব্যবসা বা ব্যক্তি স্বার্থের ব্যাপার। দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত এখন গবেষণা করছেন কি করে একজন অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তি কালজয়ী গান লিখে গেলেন। স্ব-শিক্ষিত লালন আজ আমাদের কাছে এক বিষ্ময় এবং কিংবদন্তি। যিনি রচনা করেছেন, ‘সত্য কাজে কেউ নয় রাজি/ সবই দেখি তা না না না...।’ অসাম্প্রদায়িক চেতানার লালন ফকির তার গানে মানবতাকে সবচেয়ে বড় করে তুলে ধরেছেন।

ছেঁউড়িয়া একটি ছায়াঘেরা নিবিড় গ্রাম। এখন সেটি কুষ্টিয়া শহরের একটা মহল্লা। একপাশে গড়াই অন্য পাশে কালিগঙ্গা দুটি বহমান নদী। আজ থেকে প্রায় দুইশত পঁচিশ বছর আগের একদিন ভোরবেলা ষোল-সতের বছর বয়সের অচেতন লালন ভাসতে ভাসতে কালিগঙ্গা নদীর তীরে এসে ভিড়ল। ছেঁউড়িয়া গ্রামের মওলানা মলম কারিকর নামাজি লোক। সেদিন ভোরবেলা মওলানা মলম ফজরের নামাজ পরে কালিগঙ্গা নদীর দিকে হাওয়া খেতে আসলেন, হঠাৎই দেখতে পেলেন এক অচেনা সংজ্ঞাহীন যুবক অর্ধজলমগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে, ছেলেটির মুখে ও শরীরে বসন্ত রোগের দাগ বিদ্যমান। তিনি কাছে গিয়ে দেখলেন ছেলেটি বেঁচে আছে, খুব ধীরলয়ে চলছে শ্বাস-প্রশ্বাস। নিঃসন্তান হাফেজ মলমের বুকের ভেতর হু হু করে উঠল, এ কোনো অচেনা যুবক নয়; খোদা যেন তার সন্তানকেই ভাসিয়ে এনেছেন তার কাছে। মলম তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরলেন এবং তার অপর তিন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আসলেন। এবার চার ভাইয়ে ধরাধরি করে অচেনা যুবককে নিজের বাড়িতে আনলেন। মলম ও তার স্ত্রী মতিজান দিনরাত সেবা-যত্ন করতে লাগলেন। দিনে দিনে অচেনা যুবকটির মুখে জীবনের আলো ফিরে এলো। মতিজান জিজ্ঞাসা করল বাবা তোমার নাম কী? ...ফকির লালন।

 লালনের জন্ম আসলে কোথায় তা আজো নিশ্চিত করে বলা যায়না। কোন কোন লালন গবেষক মনে করেন, লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাড়ারা গ্রামে জন্মেছিলেন। এই মতের সঙ্গে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন এই বলে যে, ছেঁউড়িয়া থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরের ভাড়ারা গ্রামের ষোল-সতের বছরের একটি যুবক নিখোঁজ হলো অথচ তার দীর্ঘ জীবদ্দশায় তাকে তার কোন আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিত জন কেউ চিহ্নিত করতে পারলোনা-তা এক বিস্ময়কর ব্যপার। ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনের জন্ম যশোর জেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মুসলিম পরিবারে বলে উল্লে­খ করা হয়। কারও কারও ধারণা লালন শাহ ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নদী তীরের কোন এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বসন্তে আক্রন্ত লালনকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়া হয় (তখন বসন্ত রোগকে মারাত্মক ছোঁয়াচে এবং মরণ ব্যধি হিসেবে গণ্য করা হতো)। গঙ্গার ¯্রােতে পদ্মা নদী হয়ে গড়াই নদী তীরে অসুস্থ লালন ভেসে এসেছিলেন ছেউড়িয়াতে কিন্তু তার জাতিত্ব পরিচয় রহস্যময়। আসলে লালন নিজও তার জন্ম পরিচয় প্রদান করতে উৎসাহবোধ করেননি, তা তার গানেই স্পষ্টমান-

সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।/লালন কয় জাতের কিরূপ/দেখলাম না এই নজরে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে লালনের দেখা হয়েছিল কি না এ নিয়ে মতভেদ আছে। জমিদারীর তাগিদেই রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়ীতে থাকতেন, পদ্মার পাড়ের নির্জনতায় বসে কাব্য রচনা করতেন। ফকির লালনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দেখা হয় তখন তিনি বয়সে কিশোর। তিনি একবার লালনের মৃত্যুর পর আঁখড়ায় এসেছিলেন, গভীর অথচ সহজ ভাষায় রচিত লালনের গান তাকে মুগ্ধ করেছিলো। লালন ফকিরের প্রায় আড়াইশ গান রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ করেন, যা ধারাবাহিকভাবে তৎকালীন সময়ে কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের সেজ দাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই বোটে বসা ভ্রমণরত ফকির লালনের একটি স্কেচ এঁকে ফেলেন যার একটি কপি এখনো লালন একাডেমির মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে। গভীর জ্ঞানের অধিকারী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীরভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন ফকির লালন এবং তার গানকে। তাই তো অঁজো পাড়াগাঁর সমাজ বঞ্চিত ফকির লালন এবং তার গরিব শিষ্যরা উঠে এসেছে তার গানে, কবিতায়-উপন্যাসে।

লালন ফকিরের বয়স তখন ১১৬ বছর, একদিন তিনি শিষ্যদের ডেকে বললেন, এই আশ্বিন মাসের শেষের দিকে তোমরা কোথাও যেও না কারণ পহেলা কার্তিকে গজব হবে। গজবের বিষয়টি শিষ্যরা কেউ সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারলেও আসন্ন বিপদের আশঙ্কা করতে লাগলো। মৃত্যুর প্রায় একমাস আগে তার পেটের অসুখ হয়, হাত পায়ের গ্রন্থিতে পানি জমে। শিষ্যদের বললেন, আমি চললাম। লালন চাদর মুড়ি দিয়ে বিশ্রাম নিলেন, শিষ্যরা মেঝেতে বসে থাকলেন। এক সময় লালন কপালের চাদর সরিয়ে বললেন, তোমাদের আমি শেষ গান শোনাবো। লালন গান ধরলেন, গভীর অপরূপ সুন্দর গান-

পার কর হে দয়াল চাঁদ আমারে।/ক্ষম হে অপরাধ আমার/এই ভবকারাগারে।

গান শেষ হলো, চাদর মুড়ি দিয়ে চিরদিনের জন্য নিরব হয়ে গেলেন ফকির লালন। ফকির লালনের জন্ম সাল জানা যায়নি, তিনি ১ কার্তিক ১২৯৭ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৭ অক্টোবর ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে মারা যান এবং তিনি বেঁচে ছিলেন ১১৬ বছর। সেই হিসেবে তিনি জন্মে ছিলেন ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে।

(সংক্ষেপিত। পূর্ণাঙ্গ লেখাটি সংবাদ-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।)

[লেখক : সাংবাদিক]

রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ , ০১ কার্তিক ১৪২৮ ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

স্মরণ : কিংবদন্তি সাধক ফকির লালন শাহ

হাবিবুর রহমান স্বপন

সাধক লালন শাহের জন্ম তারিখ জানা না গেলেও তাকে ফাল্গুনের এই সময়ে অর্ধমৃত অবস্থায় কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে নদীতে পাওয়া যায় (লালন ভক্ত-শিষ্যরা মনে করেন এই ফাল্গুনের দোল পূর্ণিমার দিনেই ফকির লালনের জন্ম হয়েছিল)। দীর্ঘ জীবনের পর মহান এই সাধক মৃত্যুবরণ করেন ১২৩ বছর আগে ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭ অক্টোবর ১৮৯০)। প্রতি বছর দোল পূর্ণিমায় লালনের স্মৃতিবিজড়িত ছেঁউড়িয়ায় লালনের সমাধীপার্শ্বে ভক্তদের উৎসব হয় (৪ মার্চ থেকে ৮মার্চ পর্যন্ত উৎসব চলবে)। এছাড়াও ১ কার্তিক তার মৃত্যু দিবস উপলক্ষে ভক্তদের মহাসমাবেশ হয় কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া আঁখড়াবাড়িতে।

যারা লালনের দর্শন জানেন না বা বোঝেন না। তাদের কাছে সবই ব্যবসা বা ব্যক্তি স্বার্থের ব্যাপার। দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত এখন গবেষণা করছেন কি করে একজন অক্ষরজ্ঞানহীন ব্যক্তি কালজয়ী গান লিখে গেলেন। স্ব-শিক্ষিত লালন আজ আমাদের কাছে এক বিষ্ময় এবং কিংবদন্তি। যিনি রচনা করেছেন, ‘সত্য কাজে কেউ নয় রাজি/ সবই দেখি তা না না না...।’ অসাম্প্রদায়িক চেতানার লালন ফকির তার গানে মানবতাকে সবচেয়ে বড় করে তুলে ধরেছেন।

ছেঁউড়িয়া একটি ছায়াঘেরা নিবিড় গ্রাম। এখন সেটি কুষ্টিয়া শহরের একটা মহল্লা। একপাশে গড়াই অন্য পাশে কালিগঙ্গা দুটি বহমান নদী। আজ থেকে প্রায় দুইশত পঁচিশ বছর আগের একদিন ভোরবেলা ষোল-সতের বছর বয়সের অচেতন লালন ভাসতে ভাসতে কালিগঙ্গা নদীর তীরে এসে ভিড়ল। ছেঁউড়িয়া গ্রামের মওলানা মলম কারিকর নামাজি লোক। সেদিন ভোরবেলা মওলানা মলম ফজরের নামাজ পরে কালিগঙ্গা নদীর দিকে হাওয়া খেতে আসলেন, হঠাৎই দেখতে পেলেন এক অচেনা সংজ্ঞাহীন যুবক অর্ধজলমগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে, ছেলেটির মুখে ও শরীরে বসন্ত রোগের দাগ বিদ্যমান। তিনি কাছে গিয়ে দেখলেন ছেলেটি বেঁচে আছে, খুব ধীরলয়ে চলছে শ্বাস-প্রশ্বাস। নিঃসন্তান হাফেজ মলমের বুকের ভেতর হু হু করে উঠল, এ কোনো অচেনা যুবক নয়; খোদা যেন তার সন্তানকেই ভাসিয়ে এনেছেন তার কাছে। মলম তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরলেন এবং তার অপর তিন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আসলেন। এবার চার ভাইয়ে ধরাধরি করে অচেনা যুবককে নিজের বাড়িতে আনলেন। মলম ও তার স্ত্রী মতিজান দিনরাত সেবা-যত্ন করতে লাগলেন। দিনে দিনে অচেনা যুবকটির মুখে জীবনের আলো ফিরে এলো। মতিজান জিজ্ঞাসা করল বাবা তোমার নাম কী? ...ফকির লালন।

 লালনের জন্ম আসলে কোথায় তা আজো নিশ্চিত করে বলা যায়না। কোন কোন লালন গবেষক মনে করেন, লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাড়ারা গ্রামে জন্মেছিলেন। এই মতের সঙ্গে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেন এই বলে যে, ছেঁউড়িয়া থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরের ভাড়ারা গ্রামের ষোল-সতের বছরের একটি যুবক নিখোঁজ হলো অথচ তার দীর্ঘ জীবদ্দশায় তাকে তার কোন আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিত জন কেউ চিহ্নিত করতে পারলোনা-তা এক বিস্ময়কর ব্যপার। ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনের জন্ম যশোর জেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মুসলিম পরিবারে বলে উল্লে­খ করা হয়। কারও কারও ধারণা লালন শাহ ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নদী তীরের কোন এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বসন্তে আক্রন্ত লালনকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়া হয় (তখন বসন্ত রোগকে মারাত্মক ছোঁয়াচে এবং মরণ ব্যধি হিসেবে গণ্য করা হতো)। গঙ্গার ¯্রােতে পদ্মা নদী হয়ে গড়াই নদী তীরে অসুস্থ লালন ভেসে এসেছিলেন ছেউড়িয়াতে কিন্তু তার জাতিত্ব পরিচয় রহস্যময়। আসলে লালন নিজও তার জন্ম পরিচয় প্রদান করতে উৎসাহবোধ করেননি, তা তার গানেই স্পষ্টমান-

সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।/লালন কয় জাতের কিরূপ/দেখলাম না এই নজরে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে লালনের দেখা হয়েছিল কি না এ নিয়ে মতভেদ আছে। জমিদারীর তাগিদেই রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়ীতে থাকতেন, পদ্মার পাড়ের নির্জনতায় বসে কাব্য রচনা করতেন। ফকির লালনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দেখা হয় তখন তিনি বয়সে কিশোর। তিনি একবার লালনের মৃত্যুর পর আঁখড়ায় এসেছিলেন, গভীর অথচ সহজ ভাষায় রচিত লালনের গান তাকে মুগ্ধ করেছিলো। লালন ফকিরের প্রায় আড়াইশ গান রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ করেন, যা ধারাবাহিকভাবে তৎকালীন সময়ে কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের সেজ দাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই বোটে বসা ভ্রমণরত ফকির লালনের একটি স্কেচ এঁকে ফেলেন যার একটি কপি এখনো লালন একাডেমির মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে। গভীর জ্ঞানের অধিকারী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীরভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন ফকির লালন এবং তার গানকে। তাই তো অঁজো পাড়াগাঁর সমাজ বঞ্চিত ফকির লালন এবং তার গরিব শিষ্যরা উঠে এসেছে তার গানে, কবিতায়-উপন্যাসে।

লালন ফকিরের বয়স তখন ১১৬ বছর, একদিন তিনি শিষ্যদের ডেকে বললেন, এই আশ্বিন মাসের শেষের দিকে তোমরা কোথাও যেও না কারণ পহেলা কার্তিকে গজব হবে। গজবের বিষয়টি শিষ্যরা কেউ সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারলেও আসন্ন বিপদের আশঙ্কা করতে লাগলো। মৃত্যুর প্রায় একমাস আগে তার পেটের অসুখ হয়, হাত পায়ের গ্রন্থিতে পানি জমে। শিষ্যদের বললেন, আমি চললাম। লালন চাদর মুড়ি দিয়ে বিশ্রাম নিলেন, শিষ্যরা মেঝেতে বসে থাকলেন। এক সময় লালন কপালের চাদর সরিয়ে বললেন, তোমাদের আমি শেষ গান শোনাবো। লালন গান ধরলেন, গভীর অপরূপ সুন্দর গান-

পার কর হে দয়াল চাঁদ আমারে।/ক্ষম হে অপরাধ আমার/এই ভবকারাগারে।

গান শেষ হলো, চাদর মুড়ি দিয়ে চিরদিনের জন্য নিরব হয়ে গেলেন ফকির লালন। ফকির লালনের জন্ম সাল জানা যায়নি, তিনি ১ কার্তিক ১২৯৭ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৭ অক্টোবর ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে মারা যান এবং তিনি বেঁচে ছিলেন ১১৬ বছর। সেই হিসেবে তিনি জন্মে ছিলেন ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে।

(সংক্ষেপিত। পূর্ণাঙ্গ লেখাটি সংবাদ-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।)

[লেখক : সাংবাদিক]