ক্লাসে ফিরেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জাতির জন্য অনুকরণীয় : উপাচার্য বললেন

কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে অন্তত এক ডোজ টিকা নেয়ার শর্তে দীর্ঘ দেড় বছর পর সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। গতকাল ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, সমাজ কল্যাণ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটে ক্লাস শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ভবনগুলো চিরচেনা কোলাহল। ব্যাগ কাঁধে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢুকছেন। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় আড্ডায় মেতেছেন। এর আগে, ২০২০ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগ। চলতি বছর বিভাগগুলো অনলাইনে ফাইনাল পরীক্ষাও গ্রহণ করে।

সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়া উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ ও পরীক্ষার হল পরিদর্শন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত। তারা যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে এটা সমগ্র জাতির জন্য অনুকরণীয়। করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে লস-রিকভারি প্ল্যান অনুসরণ করে আমরা শিক্ষার্থীদের সে ক্ষতি পুষিয়ে নেব।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার যে নানা ধাপ ও পদক্ষেপ সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ার মাধ্যমে তা পরিপূর্ণতা পেল। একটি বিষয় খুবই আশাব্যঞ্জক যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে সকলেই ভ্যাকসিনেটেড। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন। এখানকার শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং করোনা পরিস্থিতি উন্নতিতে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লস রিকভারি প্ল্যান রয়েছে। সে অনুযায়ীই আমরা কাজ করছি। কারণ, আমরা চাচ্ছি শিক্ষার্থীদের যে সময়টুকু নষ্ট হয়েছে সে সময়টুকু যেন আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারি। কম সময়ে অধিক কাজ করে, শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা, পরীক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ আমাদের লস রিকভারি প্ল্যানের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোন বিভাগ বা ইনস্টিটিউট চাইলে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে নিতে পারবে। তবে বাকি ৬০ শতাংশ ক্লাস নিতে হবে সশরীরে। এদিকে ক্ষতি পোষাতে সেমিস্টার পদ্ধতিতে চলা বিভাগগুলোতে ছয় মাসের পরিবর্তে চার মাসে একটি সেমিস্টার সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। এ ছাড়া বার্ষিক পদ্ধতিতে চলা বিভাগগুলোর ক্ষেত্রে ১২ মাসের পরিবর্তে আট মাসে কোর্স শেষ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, সেমিস্টার ৬ মাসের পরিবর্তে ৪ মাসে ও বার্ষিক কোর্স ১২ মাসের পরিবর্তে ৮ মাসে সম্পন্ন করা হবে। শনিবারও বিভাগগুলো ক্লাস নিতে পারবে। অতিরিক্ত ক্লাসও নিতে পারবে বিভাগ-ইন্সটিটিউটগুলো। তবে সিলেবাস সংকুচিত হবে না।

image

দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গতকাল খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম দিনই শুরু হয় পরীক্ষা। একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের চিত্র -সংবাদ

আরও খবর
আজ শেখ রাসেল দিবস
অর্থ পাচার, আট মামলার প্রতিবেদন হাইকোর্টে
‘বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা বিশ্বে তুলে ধরতে হবে’
কুমিল্লার ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি পুনঃনির্ধারণ ২০ অক্টোবর
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছভর্তি পরীক্ষা : ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট এম এ মান্নানের মৃত্যু
চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নিহত ১
রাজধানীর কিছু এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে
রাজধানীতে দুই মরদেহ উদ্ধার
ক্যাসিনো সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ৩১ অক্টোবর
জি বাংলার পর দেশে স্টার জলসাও সম্প্রচারে
ফের বাড়ছে সয়াবিন তেলের দাম
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ১৬, শনাক্তের হার ১.৭৪
জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক মহাজোটের ৩ দাবি

সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ , ০২ কার্তিক ১৪২৮ ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ক্লাসে ফিরেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জাতির জন্য অনুকরণীয় : উপাচার্য বললেন

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গতকাল খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম দিনই শুরু হয় পরীক্ষা। একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের চিত্র -সংবাদ

কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে অন্তত এক ডোজ টিকা নেয়ার শর্তে দীর্ঘ দেড় বছর পর সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি)। গতকাল ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, সমাজ কল্যাণ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটে ক্লাস শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ভবনগুলো চিরচেনা কোলাহল। ব্যাগ কাঁধে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢুকছেন। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় আড্ডায় মেতেছেন। এর আগে, ২০২০ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগ। চলতি বছর বিভাগগুলো অনলাইনে ফাইনাল পরীক্ষাও গ্রহণ করে।

সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়া উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ ও পরীক্ষার হল পরিদর্শন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত। তারা যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে এটা সমগ্র জাতির জন্য অনুকরণীয়। করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে লস-রিকভারি প্ল্যান অনুসরণ করে আমরা শিক্ষার্থীদের সে ক্ষতি পুষিয়ে নেব।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার যে নানা ধাপ ও পদক্ষেপ সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ার মাধ্যমে তা পরিপূর্ণতা পেল। একটি বিষয় খুবই আশাব্যঞ্জক যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে সকলেই ভ্যাকসিনেটেড। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন। এখানকার শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং করোনা পরিস্থিতি উন্নতিতে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লস রিকভারি প্ল্যান রয়েছে। সে অনুযায়ীই আমরা কাজ করছি। কারণ, আমরা চাচ্ছি শিক্ষার্থীদের যে সময়টুকু নষ্ট হয়েছে সে সময়টুকু যেন আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারি। কম সময়ে অধিক কাজ করে, শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা, পরীক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ আমাদের লস রিকভারি প্ল্যানের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোন বিভাগ বা ইনস্টিটিউট চাইলে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে নিতে পারবে। তবে বাকি ৬০ শতাংশ ক্লাস নিতে হবে সশরীরে। এদিকে ক্ষতি পোষাতে সেমিস্টার পদ্ধতিতে চলা বিভাগগুলোতে ছয় মাসের পরিবর্তে চার মাসে একটি সেমিস্টার সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। এ ছাড়া বার্ষিক পদ্ধতিতে চলা বিভাগগুলোর ক্ষেত্রে ১২ মাসের পরিবর্তে আট মাসে কোর্স শেষ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, সেমিস্টার ৬ মাসের পরিবর্তে ৪ মাসে ও বার্ষিক কোর্স ১২ মাসের পরিবর্তে ৮ মাসে সম্পন্ন করা হবে। শনিবারও বিভাগগুলো ক্লাস নিতে পারবে। অতিরিক্ত ক্লাসও নিতে পারবে বিভাগ-ইন্সটিটিউটগুলো। তবে সিলেবাস সংকুচিত হবে না।