কুমিল্লার ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

হন্যে হয়ে খুঁজছে, নগরীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অব্যাহত

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা দুষ্কৃতকারীর সন্ধানে মাঠে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দুষ্কৃতকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ঢাকা থেকে এন্টি টেরোরিজম, সোয়াত, পুলিশ ইন্টারন্যাল অর্গানাইজেশন (পিআইও), জেলা পুলিশ-ডিবি, সিআইডি, র‌্যাব, পিবিআইসহ পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

জেলায় এ ঘটনার পরবর্তী সহিংসতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও আলোচিত ওই দুষ্কৃতকারী ও নেপথ্য নায়কদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সম্প্রীতি অটুট রাখার লক্ষ্যে প্রতিদিনই নগরীতে বিক্ষোভ-শান্তি সমাবেশ অব্যাহত আছে। আজ বিকেলে নগরীর টাউনহল মাঠে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশাল সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবার কথা।

জানা যায়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় জেলার কোতোয়ালি মডেল থানা, সদর দক্ষিণ মডেল থানা, দাউদকান্দি মডেল থানায় গতকাল পর্যন্ত ৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় ৭৯২ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের এক কাউন্সিলরসহ ৯২ জনের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ঘটনার পরপর ফেইসবুকে লাইভসহ ভিডিও-ছবি তুলে ভাইরাল করে জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনায় ফয়েজ নামে একজনকে পুলিশ এবং গোলাম মাওলা নামে এক ভিডিও এক্সপার্টকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। উভয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‌্যাব বাদী হয়ে পৃথকভাবে কোতোয়ালি মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে।

এসব মামলায় ৪৩ জন আসামি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে আছে। এ ঘটনায় দায়ের করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা ও অবমাননার অপরাধের মামলায় গতকাল পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারকৃত ফয়েজ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার বিকেলে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

দেশব্যাপী আলোচিত এ ঘটনার মূল হোতাকে ধরতে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় অবস্থান করছেন সোয়াত, এন্টি টেরোরিজম, পিআইও ইউনিট।

এছাড়া রয়েছে জেলা পুলিশ-ডিবি, সিআইডি, র‌্যাব, পিবিআইসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারসহ সম্ভাব্য সব স্থানে দিন-রাত হন্যে হয়ে খুঁজছে মূল দুষ্কৃতকারী ও তার পেছনে থাকা নেপথ্য নায়কদের। তবে এসব বিষয় নিয়ে কেউই কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে ৪ দিন পর কুমিল্লা মহানগরীর সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলেও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বিজিবি।

এদিকে জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখতে এবং যে কোন ধরনের সহিংসতা-অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, জেলা-মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি, জাসদ, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনগুলো নগরীতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন অব্যাহত রেখেছে।

আরও খবর
আজ শেখ রাসেল দিবস
অর্থ পাচার, আট মামলার প্রতিবেদন হাইকোর্টে
‘বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা বিশ্বে তুলে ধরতে হবে’
ক্লাসে ফিরেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি পুনঃনির্ধারণ ২০ অক্টোবর
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছভর্তি পরীক্ষা : ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট এম এ মান্নানের মৃত্যু
চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে নিহত ১
রাজধানীর কিছু এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে
রাজধানীতে দুই মরদেহ উদ্ধার
ক্যাসিনো সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ৩১ অক্টোবর
জি বাংলার পর দেশে স্টার জলসাও সম্প্রচারে
ফের বাড়ছে সয়াবিন তেলের দাম
করোনায় মৃত্যু বেড়ে ১৬, শনাক্তের হার ১.৭৪
জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক মহাজোটের ৩ দাবি

সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ , ০২ কার্তিক ১৪২৮ ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কুমিল্লার ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

হন্যে হয়ে খুঁজছে, নগরীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অব্যাহত

জেলা বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা দুষ্কৃতকারীর সন্ধানে মাঠে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দুষ্কৃতকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ঢাকা থেকে এন্টি টেরোরিজম, সোয়াত, পুলিশ ইন্টারন্যাল অর্গানাইজেশন (পিআইও), জেলা পুলিশ-ডিবি, সিআইডি, র‌্যাব, পিবিআইসহ পুলিশের সব ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

জেলায় এ ঘটনার পরবর্তী সহিংসতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও আলোচিত ওই দুষ্কৃতকারী ও নেপথ্য নায়কদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সম্প্রীতি অটুট রাখার লক্ষ্যে প্রতিদিনই নগরীতে বিক্ষোভ-শান্তি সমাবেশ অব্যাহত আছে। আজ বিকেলে নগরীর টাউনহল মাঠে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশাল সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবার কথা।

জানা যায়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় জেলার কোতোয়ালি মডেল থানা, সদর দক্ষিণ মডেল থানা, দাউদকান্দি মডেল থানায় গতকাল পর্যন্ত ৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় ৭৯২ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে সিটি করপোরেশনের এক কাউন্সিলরসহ ৯২ জনের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ঘটনার পরপর ফেইসবুকে লাইভসহ ভিডিও-ছবি তুলে ভাইরাল করে জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনায় ফয়েজ নামে একজনকে পুলিশ এবং গোলাম মাওলা নামে এক ভিডিও এক্সপার্টকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। উভয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‌্যাব বাদী হয়ে পৃথকভাবে কোতোয়ালি মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে।

এসব মামলায় ৪৩ জন আসামি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে আছে। এ ঘটনায় দায়ের করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা ও অবমাননার অপরাধের মামলায় গতকাল পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারকৃত ফয়েজ আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোববার বিকেলে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

দেশব্যাপী আলোচিত এ ঘটনার মূল হোতাকে ধরতে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় অবস্থান করছেন সোয়াত, এন্টি টেরোরিজম, পিআইও ইউনিট।

এছাড়া রয়েছে জেলা পুলিশ-ডিবি, সিআইডি, র‌্যাব, পিবিআইসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারসহ সম্ভাব্য সব স্থানে দিন-রাত হন্যে হয়ে খুঁজছে মূল দুষ্কৃতকারী ও তার পেছনে থাকা নেপথ্য নায়কদের। তবে এসব বিষয় নিয়ে কেউই কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে ৪ দিন পর কুমিল্লা মহানগরীর সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলেও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বিজিবি।

এদিকে জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখতে এবং যে কোন ধরনের সহিংসতা-অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, জেলা-মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি, জাসদ, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনগুলো নগরীতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন অব্যাহত রেখেছে।