ঠিকাদারদের বিক্ষোভে, অবশেষে গোপন লটারি বাতিল এলজিইডি প্রকৌশলীর

গত রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঠিকাদারদের অনুপস্থিতিতে ও গোপন লটারির মাধ্যমে পছন্দের তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে এলজিইডি কার্যালয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে কার্যালয় জুড়ে। এসময় পুলিশ এলজিইডির চত্বরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শিরাজুল ইসলাম ও কাজে প্রত্যাশী ঠিকাদারদের সঙ্গে চরম বাদানুবাদ হয়। এ সময় গোপন লটারিতে কাজ পাইয়ের দেয়ার ঘটনায় সকল ঠিকাদারদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী গোপন লটারিতে পাওয়া কাজগুলো বাতিল করে পুনর্লটারি গ্রহণের ঘোষণা দেন। জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়ক সংঙ্কারের জন্য ৩৬টি দরপত্রের আহ্বান করে। বিকেলে সাড়ে ৪টায় এলজিইডির সভাকক্ষে ঠিকাদারদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার কথা। অথচ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম গত রোববার সকালে অফিসে এসে কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পছন্দের ৩ জন ঠিকাদারের মাঝে লটারির মাধ্যমে কাজ দিয়ে দেন। দরপত্রের বাকি কাজগুলো বিকেলে লটারির মাধ্যমে দেবেন বলে অফিস থেকে জানানো হয়। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, ৩৬টি কাজের দরপত্র গত রোববার বিকেলে লটারির মাধ্যমে ঘোষণা দেয়ার কথা নোটিসের মাধ্যমে জানানো হয়। অথচ নির্বাহী প্রকৌশলী ও কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ইসলামের যোগসাজশে পছন্দের ঠিকাদারদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে সকাল ১১টায় সদরের ৩টি কাজ গোপন লটারির মাধ্যমে দিয়ে দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী সকল ঠিকাদার এলজিইডি ভবনে উপস্থিত হয়। এই সময় নির্বাহী প্রকৌশলী ও কম্পিউটার অপারেটর অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। বিকেলে লটারির সময় নির্বাহী প্রকৌশলী উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন। এই সময় ঠিকাদাররা তার পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম গোপনে লটারির মাধ্যমে দেয়া ৩টি কাজ পুনরায় সকলের উপস্থিতিতে লটারি দেয়া হবে বলে লিখিত দেন।

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১ , ০৩ কার্তিক ১৪২৮ ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ঠিকাদারদের বিক্ষোভে, অবশেষে গোপন লটারি বাতিল এলজিইডি প্রকৌশলীর

জেলা বার্তা পরিবেশক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

গত রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঠিকাদারদের অনুপস্থিতিতে ও গোপন লটারির মাধ্যমে পছন্দের তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে এলজিইডি কার্যালয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে কার্যালয় জুড়ে। এসময় পুলিশ এলজিইডির চত্বরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শিরাজুল ইসলাম ও কাজে প্রত্যাশী ঠিকাদারদের সঙ্গে চরম বাদানুবাদ হয়। এ সময় গোপন লটারিতে কাজ পাইয়ের দেয়ার ঘটনায় সকল ঠিকাদারদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী গোপন লটারিতে পাওয়া কাজগুলো বাতিল করে পুনর্লটারি গ্রহণের ঘোষণা দেন। জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়ক সংঙ্কারের জন্য ৩৬টি দরপত্রের আহ্বান করে। বিকেলে সাড়ে ৪টায় এলজিইডির সভাকক্ষে ঠিকাদারদের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার কথা। অথচ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম গত রোববার সকালে অফিসে এসে কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পছন্দের ৩ জন ঠিকাদারের মাঝে লটারির মাধ্যমে কাজ দিয়ে দেন। দরপত্রের বাকি কাজগুলো বিকেলে লটারির মাধ্যমে দেবেন বলে অফিস থেকে জানানো হয়। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, ৩৬টি কাজের দরপত্র গত রোববার বিকেলে লটারির মাধ্যমে ঘোষণা দেয়ার কথা নোটিসের মাধ্যমে জানানো হয়। অথচ নির্বাহী প্রকৌশলী ও কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ইসলামের যোগসাজশে পছন্দের ঠিকাদারদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে সকাল ১১টায় সদরের ৩টি কাজ গোপন লটারির মাধ্যমে দিয়ে দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী সকল ঠিকাদার এলজিইডি ভবনে উপস্থিত হয়। এই সময় নির্বাহী প্রকৌশলী ও কম্পিউটার অপারেটর অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। বিকেলে লটারির সময় নির্বাহী প্রকৌশলী উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন। এই সময় ঠিকাদাররা তার পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম গোপনে লটারির মাধ্যমে দেয়া ৩টি কাজ পুনরায় সকলের উপস্থিতিতে লটারি দেয়া হবে বলে লিখিত দেন।