সাড়ে ৫ হাজার আন্দোলনকারীকে মুক্তি দিচ্ছে মায়ানমার জান্তা

অং সান সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তাবিরোধী বিক্ষোভের কারণে আটককৃত ৫ হাজার ৬৩৬ জন বন্দীকে মুক্তি দেবে মায়ানমার। চলতি মাসেই এসব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। মানবিক কারণে তাদের মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জান্তা সরকারের প্রধান জেনারেল মান অং হ্লেইং।

আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়ার একদিনের মাথায় এ ঘোষণা দেন তিনি। তবে বার্মায় সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির পেছনে সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছে জান্তা সরকার। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। পৃথক এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, চলতি অক্টোবর মাসের শেষের দিকে থাডিংয়্যুট উৎসব উপলক্ষে মোট ৫ হাজার ৬৩৬ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মায়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের প্রধান।

পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তা সরকারের হাতে দেশটিতে কমপক্ষে ১১৬৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭ হাজার ২ শতাধিকের বেশি মানুষকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

এদিকে মায়ানমারে গত কয়েক মাস ধরে যে অস্থিরতা চলছে, তার জন্য দেশটির ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার বিরোধীদের দায়ী করেছেন সরকারপ্রধান জেনারেল মান অং হ্লেইং। সোমবার এক টেলিভিশন ভাষণে এ বিষয়ে আসিয়ানের সহায়তাও চেয়েছেন তিনি।

সিভিল পোশাক পরিহিত জান্তাপ্রধান এই দিন টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘মায়ানমারে বেশিরভাগ সংঘাত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উস্কানির কারণে। সবাই শুধু আমাদের দোষারোপ করে, কিন্তু তারা যে উস্কানি দেওয়াসহ সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে-সেসব কেউ দেখে না। আসিয়ানের উচিতÑ এ ব্যাপারটিতে মনোযোগ দেওয়া।’

গত ১ ফেব্রয়ারি সেনাপ্রধান মান অং হ্লেইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মায়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত ও বন্দি হন মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচিসহ তার দল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

অভ্যুত্থানের পরপরই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে মায়ানমারের সামরিক সরকারবিরোধী জনগণ। দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিক্ষোভ দমনের পন্থা নিলেও এক পর্যায়ে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার শুরু করে। অভ্যুত্থানের পরপর এক ভাষণে মান অং হ্লেইং বলেছিলেন- সামরিক বাহিনী স্থায়ীভাবে মায়ানমারে আসন গাড়বে না, বরং দেশটিতে সত্যিকার গণতন্ত্র আনাই সামরিক বাহিনীর উদ্দেশ্য।

গত এপ্রিলে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা সংগঠন আসিয়ানের প্রতিনিধিদের কাছে মায়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি ৫ স্তরের রোডম্যাপও দিয়েছিল মায়ানমারের সামরিক বাহিনী।

তবে ৬ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও রোডম্যাপ অনুযায়ী কোনো উন্নতি না হওয়ায় হতাশা জানিয়েছে আসিয়ান। চলতি বছর ২৬ আগস্ট থেকে সংস্থাটির যে সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে, তাতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে যেন না পাঠানো হয় তা ইতোমধ্যে মায়ানমারের সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। আসিয়ানের চিঠির জবাবেই ভাষণ দিলেন মান অং হ্লেইং। তার ভাষণ শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় ৫ হাজার ৬০০ কয়েদিকে।

রক্তপাতহীন এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন মায়ানমারের সেনাপ্রধান মান অং হ্লেইং। আগস্টে মান অং হ্লেইং নিজেকে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে ২০২৩ সালের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। যদিও তার ওই প্রতিশ্রুুতি নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১ , ০৩ কার্তিক ১৪২৮ ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাড়ে ৫ হাজার আন্দোলনকারীকে মুক্তি দিচ্ছে মায়ানমার জান্তা

image

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মায়ানমারে অস্থিতিশীলতা চলছে

অং সান সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তাবিরোধী বিক্ষোভের কারণে আটককৃত ৫ হাজার ৬৩৬ জন বন্দীকে মুক্তি দেবে মায়ানমার। চলতি মাসেই এসব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। মানবিক কারণে তাদের মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জান্তা সরকারের প্রধান জেনারেল মান অং হ্লেইং।

আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়ার একদিনের মাথায় এ ঘোষণা দেন তিনি। তবে বার্মায় সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির পেছনে সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছে জান্তা সরকার। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। পৃথক এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, চলতি অক্টোবর মাসের শেষের দিকে থাডিংয়্যুট উৎসব উপলক্ষে মোট ৫ হাজার ৬৩৬ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মায়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের প্রধান।

পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের (এএপিপি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে জান্তা সরকারের হাতে দেশটিতে কমপক্ষে ১১৬৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৭ হাজার ২ শতাধিকের বেশি মানুষকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

এদিকে মায়ানমারে গত কয়েক মাস ধরে যে অস্থিরতা চলছে, তার জন্য দেশটির ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার বিরোধীদের দায়ী করেছেন সরকারপ্রধান জেনারেল মান অং হ্লেইং। সোমবার এক টেলিভিশন ভাষণে এ বিষয়ে আসিয়ানের সহায়তাও চেয়েছেন তিনি।

সিভিল পোশাক পরিহিত জান্তাপ্রধান এই দিন টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘মায়ানমারে বেশিরভাগ সংঘাত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উস্কানির কারণে। সবাই শুধু আমাদের দোষারোপ করে, কিন্তু তারা যে উস্কানি দেওয়াসহ সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে-সেসব কেউ দেখে না। আসিয়ানের উচিতÑ এ ব্যাপারটিতে মনোযোগ দেওয়া।’

গত ১ ফেব্রয়ারি সেনাপ্রধান মান অং হ্লেইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মায়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত ও বন্দি হন মায়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচিসহ তার দল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

অভ্যুত্থানের পরপরই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে মায়ানমারের সামরিক সরকারবিরোধী জনগণ। দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিক্ষোভ দমনের পন্থা নিলেও এক পর্যায়ে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার শুরু করে। অভ্যুত্থানের পরপর এক ভাষণে মান অং হ্লেইং বলেছিলেন- সামরিক বাহিনী স্থায়ীভাবে মায়ানমারে আসন গাড়বে না, বরং দেশটিতে সত্যিকার গণতন্ত্র আনাই সামরিক বাহিনীর উদ্দেশ্য।

গত এপ্রিলে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা সংগঠন আসিয়ানের প্রতিনিধিদের কাছে মায়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি ৫ স্তরের রোডম্যাপও দিয়েছিল মায়ানমারের সামরিক বাহিনী।

তবে ৬ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও রোডম্যাপ অনুযায়ী কোনো উন্নতি না হওয়ায় হতাশা জানিয়েছে আসিয়ান। চলতি বছর ২৬ আগস্ট থেকে সংস্থাটির যে সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে, তাতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে যেন না পাঠানো হয় তা ইতোমধ্যে মায়ানমারের সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। আসিয়ানের চিঠির জবাবেই ভাষণ দিলেন মান অং হ্লেইং। তার ভাষণ শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় ৫ হাজার ৬০০ কয়েদিকে।

রক্তপাতহীন এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন মায়ানমারের সেনাপ্রধান মান অং হ্লেইং। আগস্টে মান অং হ্লেইং নিজেকে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে ২০২৩ সালের মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। যদিও তার ওই প্রতিশ্রুুতি নিয়ে সংশয় রয়েছে।