ঘাটারচর-কাঁচপুর রুট হবে সিটিং সার্ভিস দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে চায় বাস মালিকরা

ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটের ‘ঢাকা নগর পরিবহন বাস সার্ভিসে’ দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে চায় বাস মালিকরা। তবে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে দাঁড়িয়ে কোন যাত্রী নেয়া যাবে না বলে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানায়।

বাসের সিট, ভাড়া ও দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে বাসমালিক ও রুট রেশনালাইজেশনের সমন্বয় কমিটির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও সিদ্ধান্ত পৌঁছানো যায়নি। তাই পহেলা ডিসেম্বর এই রুটে নতুন বাস সার্ভিস চালু এখনও সংশয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ডিটিসিএর সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত এই রুটের দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটারের চেয়ে একটু বেশি। এই রুটে থাকবে ৪০টি বাস স্টপেজ। এর মধ্যে থাকবে ১৬টি যাত্রী ছাউনি। এই রুটে ১২০টি নতুন বাস চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া হবে ১০ টাকা। ঘাটারচর-কাঁচপুর পর্যন্ত ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৫ টাকা। এই রুটে ৩৮ সিটের বেশি কোন বাস চলাচল করবে না। তবে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়ার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই রুটে ২০১৯ সালের আগের কোন পুরাতন বাস চলাচল করতে পারবে না। ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে বাসভাড়া কিলোমিটারে এক টাকা ৭০ পয়সা। নতুন রুটে সেটা ৫০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি কিলোমিটার দুই টাকা ২০ পয়সা প্রস্তাব করা হয়েছে বলে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সূত্র জানায়।

জানা গেছে, বর্তমানে এই রুটে পাঁচটি কোম্পানির বাস চলাচল করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫৫টি বাস চলে রজনীগন্ধ্যা ও মালঞ্চ পরিবহনের। রজনীগন্ধ্যার ১২২টি বাসের মধ্যে ৪৪টি বাসের ফিটনেস ও রুট পারমিট নেই। এছাড়া মালঞ্চের ৩৩টি বাসের মধ্যে ফিটনেস ও রুট পারমিট নেই ১৮টির। এই রুটে সাত মসজিদ রোডের অংশে তরঙ্গপ্লাস, মিডলাইন ও রমজান নামের আরও তিনটি কোম্পানির বাস চলাচল করে। এসব কোম্পানির বাস আসাদগেট দিয়ে মিরপুর রোড হয়ে বাইপাস করার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এই তিনটি কোম্পানির পরিবর্তে ট্রান্সসিলভা, লাভলী ও পরিস্থান নামের অন্য তিন কোম্পানির বাস এই রুটে চলাচলের বিষয়ে কথা রয়েছে বলে বাস মালিকরা জানান।

এ বিষয়ে মালঞ্চ পরিবহনের চেয়ারম্যান একরাম উল্লাহ সংবাদকে বলেন, ‘বাস মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া দুই টাকা ৫০ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। তা না হলে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিত-া হয়। এছাড়া বাসের কোম্পানির নাম, ডিজাউন ও কোম্পানি প্রধান কে হবে এ বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’ আগামী ২৩ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুট রেশনালাইজেশন কমিটির এক সদস্য সংবাদকে বলেন, ‘দীর্ঘ জঞ্জাল রাতারাতি দূর করা কঠিন। তবু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। পরিবহন সেক্টকে এর আগে কেউ হাত দেয়নি। তাই এই সেক্টরের শাখা-প্রশাখা অনেক বড় হয়ে গেছে। ঘাটারচর-মতিঝিল-কাঁচপুর রুটে বিদ্যমান বাস দিয়ে পাইলটিং রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি করা হবে। এই রুটে ১২০টি বাস চলাচল করে। বাস কোম্পানির মালিকদের যত চাওয়া-পাওয়া ছিল, সব মেনে নেয়া হয়েছে। তারা ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল, তা মেনে নেয়া হয়েছে। কিন্তু, তারপর মালিক সমিতি এখনও জানাতে পারছে না- এই রুটের বাসগুলোর মালিক কতজন। তাই যৌথ কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ সংবাদকে বলেন, ‘ঘাটারচর-মতিঝিল-কাঁচপুর রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতির চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে চালুর কথা রয়েছে। তবে এ নিয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কোন কোম্পানির কতটি বাস চলবে, সে বিষয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী বৈঠকে তা জানানো হবে।’

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১ , ০৩ কার্তিক ১৪২৮ ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ঘাটারচর-কাঁচপুর রুট হবে সিটিং সার্ভিস দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে চায় বাস মালিকরা

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটের ‘ঢাকা নগর পরিবহন বাস সার্ভিসে’ দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে চায় বাস মালিকরা। তবে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে দাঁড়িয়ে কোন যাত্রী নেয়া যাবে না বলে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানায়।

বাসের সিট, ভাড়া ও দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে বাসমালিক ও রুট রেশনালাইজেশনের সমন্বয় কমিটির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও সিদ্ধান্ত পৌঁছানো যায়নি। তাই পহেলা ডিসেম্বর এই রুটে নতুন বাস সার্ভিস চালু এখনও সংশয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ডিটিসিএর সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত এই রুটের দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটারের চেয়ে একটু বেশি। এই রুটে থাকবে ৪০টি বাস স্টপেজ। এর মধ্যে থাকবে ১৬টি যাত্রী ছাউনি। এই রুটে ১২০টি নতুন বাস চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া হবে ১০ টাকা। ঘাটারচর-কাঁচপুর পর্যন্ত ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৫ টাকা। এই রুটে ৩৮ সিটের বেশি কোন বাস চলাচল করবে না। তবে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়ার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই রুটে ২০১৯ সালের আগের কোন পুরাতন বাস চলাচল করতে পারবে না। ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে বাসভাড়া কিলোমিটারে এক টাকা ৭০ পয়সা। নতুন রুটে সেটা ৫০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি কিলোমিটার দুই টাকা ২০ পয়সা প্রস্তাব করা হয়েছে বলে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সূত্র জানায়।

জানা গেছে, বর্তমানে এই রুটে পাঁচটি কোম্পানির বাস চলাচল করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫৫টি বাস চলে রজনীগন্ধ্যা ও মালঞ্চ পরিবহনের। রজনীগন্ধ্যার ১২২টি বাসের মধ্যে ৪৪টি বাসের ফিটনেস ও রুট পারমিট নেই। এছাড়া মালঞ্চের ৩৩টি বাসের মধ্যে ফিটনেস ও রুট পারমিট নেই ১৮টির। এই রুটে সাত মসজিদ রোডের অংশে তরঙ্গপ্লাস, মিডলাইন ও রমজান নামের আরও তিনটি কোম্পানির বাস চলাচল করে। এসব কোম্পানির বাস আসাদগেট দিয়ে মিরপুর রোড হয়ে বাইপাস করার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এই তিনটি কোম্পানির পরিবর্তে ট্রান্সসিলভা, লাভলী ও পরিস্থান নামের অন্য তিন কোম্পানির বাস এই রুটে চলাচলের বিষয়ে কথা রয়েছে বলে বাস মালিকরা জানান।

এ বিষয়ে মালঞ্চ পরিবহনের চেয়ারম্যান একরাম উল্লাহ সংবাদকে বলেন, ‘বাস মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া দুই টাকা ৫০ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। তা না হলে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিত-া হয়। এছাড়া বাসের কোম্পানির নাম, ডিজাউন ও কোম্পানি প্রধান কে হবে এ বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’ আগামী ২৩ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুট রেশনালাইজেশন কমিটির এক সদস্য সংবাদকে বলেন, ‘দীর্ঘ জঞ্জাল রাতারাতি দূর করা কঠিন। তবু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। পরিবহন সেক্টকে এর আগে কেউ হাত দেয়নি। তাই এই সেক্টরের শাখা-প্রশাখা অনেক বড় হয়ে গেছে। ঘাটারচর-মতিঝিল-কাঁচপুর রুটে বিদ্যমান বাস দিয়ে পাইলটিং রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি করা হবে। এই রুটে ১২০টি বাস চলাচল করে। বাস কোম্পানির মালিকদের যত চাওয়া-পাওয়া ছিল, সব মেনে নেয়া হয়েছে। তারা ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল, তা মেনে নেয়া হয়েছে। কিন্তু, তারপর মালিক সমিতি এখনও জানাতে পারছে না- এই রুটের বাসগুলোর মালিক কতজন। তাই যৌথ কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ সংবাদকে বলেন, ‘ঘাটারচর-মতিঝিল-কাঁচপুর রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতির চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ ডিসেম্বর থেকে চালুর কথা রয়েছে। তবে এ নিয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কোন কোম্পানির কতটি বাস চলবে, সে বিষয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী বৈঠকে তা জানানো হবে।’