সিআইডি’র এএসপি সারোয়ারের সম্পদের খোঁজে দুদক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

দিনাজপুরে মা ও ছেলেকে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সেই আলোচিত এএসপি সারোয়ার কবিরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল কমিশন এই অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে। এদিকে ঢাকা ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (জশলদিয়া) মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল কমিশন এই অনুমোদন দেয়।

দুদকের তথ্য মতে, পুলিশের এএসপি সারোয়ার কবির কয়েক বছর চাকরি করেই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ পায় দুদক। কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে। এরপরই গতকাল সংস্থাটির উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, সিআইডি’র রংপুরের এএসপি সারোয়ার বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। তিনি ঠিক কী পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, সে বিষয়ে দুদকের কাছে কোনও তথ্য নেই। দুদক তার অবৈধ সম্পদের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

জানা গেছে, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে এক নারী ও তার ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট সারোয়ার কবিরসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলো- রংপুর সিআইডির এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক, মাইক্রোবাস চালক হাবিবুর ও সিআইডির সোর্স খাসিউর রহমান।

এজাহারে বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে চিরিরবন্দরের নান্দারাই গ্রামের লুৎফর রহমানের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে মা-ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন তারা। এরপর অপহরণকারীদের দেয়া তথ্য মতে ৮ লাখ টাকা নিয়ে ২৪ আগস্ট বিকালে দিনাজপুর সদরের বাশেরহাটে যান লুৎফরের পরিবারের সদস্যরা। অপহরণকারীরা টাকা নিতে এলে এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে। তখন তারা মাইক্রোবাসটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকা থেকে পুলিশ সারোয়ারসহ সিআইডির ৩ সদস্য ও মাইক্রোবাস চালককে আটক করে। পরে রাতে সিআইডির সোর্স খাসিউর রহমানকে আটক করা হয়।

ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, ঢাকা ওয়াসার কয়েকটি প্রকল্পের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। আগে থেকেই সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। সম্প্রতি মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে পদ্মা (জলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রকল্প ও রামপুরা-কমলাপুর পানির পাম্প প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পায় দুদক। কমিশন এই অভিযোগ আগের অভিযোগের সাথে যুক্ত করে অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দেয়। এরপর সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আলীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

দুদকের তথ্য মতে, ওয়াসার ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের (ডিডব্লিউএসএনআইপি) প্রকল্প পরিচালক আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঠিকাদার নিয়োগ, দূষণমুক্ত প্রকল্প ও ঢাকা ওয়াসার কর্মচারী সমিতির অর্থ লোপাটসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দুদকে। এছাড়া পানির লাইন স্থাপনের বিভিন্ন প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ সরবরাহের ৫০০ কোটি টাকা, নদীর তলদেশে পাইপ সুরক্ষার কেসিং পাইপের জন্য বরাদ্দকৃত ১০০ কোটি টাকা ও রামপুরা-কমলাপুর পানির পাম্প প্রকল্পের ৪০০ কোটি টাকার বরাদ্দ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১ , ০৩ কার্তিক ১৪২৮ ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সিআইডি’র এএসপি সারোয়ারের সম্পদের খোঁজে দুদক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

দিনাজপুরে মা ও ছেলেকে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সেই আলোচিত এএসপি সারোয়ার কবিরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল কমিশন এই অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে। এদিকে ঢাকা ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (জশলদিয়া) মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল কমিশন এই অনুমোদন দেয়।

দুদকের তথ্য মতে, পুলিশের এএসপি সারোয়ার কবির কয়েক বছর চাকরি করেই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ পায় দুদক। কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে। এরপরই গতকাল সংস্থাটির উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, সিআইডি’র রংপুরের এএসপি সারোয়ার বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। তিনি ঠিক কী পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, সে বিষয়ে দুদকের কাছে কোনও তথ্য নেই। দুদক তার অবৈধ সম্পদের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

জানা গেছে, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে এক নারী ও তার ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট সারোয়ার কবিরসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলো- রংপুর সিআইডির এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক, মাইক্রোবাস চালক হাবিবুর ও সিআইডির সোর্স খাসিউর রহমান।

এজাহারে বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে চিরিরবন্দরের নান্দারাই গ্রামের লুৎফর রহমানের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে মা-ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন তারা। এরপর অপহরণকারীদের দেয়া তথ্য মতে ৮ লাখ টাকা নিয়ে ২৪ আগস্ট বিকালে দিনাজপুর সদরের বাশেরহাটে যান লুৎফরের পরিবারের সদস্যরা। অপহরণকারীরা টাকা নিতে এলে এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে। তখন তারা মাইক্রোবাসটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকা থেকে পুলিশ সারোয়ারসহ সিআইডির ৩ সদস্য ও মাইক্রোবাস চালককে আটক করে। পরে রাতে সিআইডির সোর্স খাসিউর রহমানকে আটক করা হয়।

ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, ঢাকা ওয়াসার কয়েকটি প্রকল্পের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। আগে থেকেই সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। সম্প্রতি মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে পদ্মা (জলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রকল্প ও রামপুরা-কমলাপুর পানির পাম্প প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পায় দুদক। কমিশন এই অভিযোগ আগের অভিযোগের সাথে যুক্ত করে অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দেয়। এরপর সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আলীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

দুদকের তথ্য মতে, ওয়াসার ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের (ডিডব্লিউএসএনআইপি) প্রকল্প পরিচালক আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঠিকাদার নিয়োগ, দূষণমুক্ত প্রকল্প ও ঢাকা ওয়াসার কর্মচারী সমিতির অর্থ লোপাটসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দুদকে। এছাড়া পানির লাইন স্থাপনের বিভিন্ন প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ সরবরাহের ৫০০ কোটি টাকা, নদীর তলদেশে পাইপ সুরক্ষার কেসিং পাইপের জন্য বরাদ্দকৃত ১০০ কোটি টাকা ও রামপুরা-কমলাপুর পানির পাম্প প্রকল্পের ৪০০ কোটি টাকার বরাদ্দ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।