বেড়ার সাবেক মেয়র বাতেনের বিরুদ্ধে ৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কৃত এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুুল বাতেনের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদকে দায়ের। দুদক মহাপরিচালক দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। বেড়া পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় আইনি মারপ্যাঁচে প্রায় দুই যুগ ধরে ক্ষমতায় থেকে এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল বাতেন। গত ৩ ডিসেম্বর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। উক্ত অভিযোগটি গত ২৩-০৯-২০২১ইং তারিখের সভায় ০০.০১.৭৬০০.৬৩৬.০০২.২০ নং স্মারকে বিশেষ তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা হয়। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক এহেন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দমনে দুদক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে বেড়া পৌরবাসী আশা প্রকাশ করেন। এছাড়াও উক্ত সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে ৬/১৭, ৭/১৭ ও ৪/১৯ নং মামলা তিনটি পাবনা জেলা ও দায়রা জজ/বিশেষ জজ আদালতে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৭/১৭ মামলার সাক্ষীর তারিখ থাকলেও মামলার কার্যক্রম গত প্রায় তিন বছর ধরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়েছে। ৪/১৯নং মামলা আদেশের অপেক্ষায় আছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়রের দুর্নীতির চিত্রসমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো : ঢাকায় মিরপুর ১নং এ ক্রিসেন্ট হোলডিং এ পাঁচটি ফ্ল্যাট বাসা, মতিঝিল আল আমিন গ্রুপে আটটি ফ্ল্যাট নিজ নামে ক্রয় করেছেন সাবেক মেয়র আবদুল বাতেন। ঢাকার কাঁটাবন এলাকায় ২২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, বেড়ায় রয়েছে তিনটি বাড়ি। ঢাকায় রয়েছে ১৯টি ফ্ল্যাট, বেড়ায় পাঁচতলা ভবন রয়েছে তিনটি, সাবেক মেয়র আবদুল বাতেনের ছোট ছেলে রাজ নেভিগেশনের নামে রয়েছে রাজ ঘাটে ২৩টি কার্গো জাহাজ। বিদেশের মাটিতে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে রয়েছে একটি ফ্ল্যাট, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বিলাসবহুল ভবন, কানাডার বেগম পাড়ায় বয়েছে একটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং মানিলন্ডারিং করে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা করেছেন সাবেক মেয়র আবদুল বাতেন। ছোট ছেলে রাজের নামে চট্টগ্রাম গভীর নৌবন্দরে মাদার ভ্যাসেল ও মায়ানমার গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে সিমেন্ট ও সার পরিবহনের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাদক পরিবহন করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাবেক মেয়র আবদুল বাতেনের বিরুদ্ধে।

বেড়া থানার পাশে পাঁচতলা ভবন, বেড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে তিন তলা ভবন, বেড়া বৃশালিকা ঘাটে অবৈধভাবে তৈরি করা রাজঘাট নেভিগেশনের ২৩টির একটি কার্গো জাহাজ, বেড়া বৃশালিকা ঘাট যা কি না বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব জায়গা বড়পিঠ জবরদখল করে রাজ নেভিগেশনের নামে রাজঘাট নির্মাণ করে শত শত কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন সাবেক মেয়র। বৃশালিকা ঘাটের বড় পিঠ এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে দুশ একর সম্পত্তি ও বেড়া মোহনগঞ্জ এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জমি জবরদখল করে, মাটি ভরাট করে, নিজস্ব ভবন তৈরি করে, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বাজার/ঘাট নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া প্রদান করে কোটি কোটি টাকা কামানোর অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিকী মামলার তদন্ত করছেন।

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১ , ০৩ কার্তিক ১৪২৮ ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বেড়ার সাবেক মেয়র বাতেনের বিরুদ্ধে ৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা

বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কৃত এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুুল বাতেনের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদকে দায়ের। দুদক মহাপরিচালক দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। বেড়া পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় আইনি মারপ্যাঁচে প্রায় দুই যুগ ধরে ক্ষমতায় থেকে এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল বাতেন। গত ৩ ডিসেম্বর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। উক্ত অভিযোগটি গত ২৩-০৯-২০২১ইং তারিখের সভায় ০০.০১.৭৬০০.৬৩৬.০০২.২০ নং স্মারকে বিশেষ তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা হয়। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক এহেন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দমনে দুদক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে বেড়া পৌরবাসী আশা প্রকাশ করেন। এছাড়াও উক্ত সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে ৬/১৭, ৭/১৭ ও ৪/১৯ নং মামলা তিনটি পাবনা জেলা ও দায়রা জজ/বিশেষ জজ আদালতে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৭/১৭ মামলার সাক্ষীর তারিখ থাকলেও মামলার কার্যক্রম গত প্রায় তিন বছর ধরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়েছে। ৪/১৯নং মামলা আদেশের অপেক্ষায় আছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়রের দুর্নীতির চিত্রসমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো : ঢাকায় মিরপুর ১নং এ ক্রিসেন্ট হোলডিং এ পাঁচটি ফ্ল্যাট বাসা, মতিঝিল আল আমিন গ্রুপে আটটি ফ্ল্যাট নিজ নামে ক্রয় করেছেন সাবেক মেয়র আবদুল বাতেন। ঢাকার কাঁটাবন এলাকায় ২২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, বেড়ায় রয়েছে তিনটি বাড়ি। ঢাকায় রয়েছে ১৯টি ফ্ল্যাট, বেড়ায় পাঁচতলা ভবন রয়েছে তিনটি, সাবেক মেয়র আবদুল বাতেনের ছোট ছেলে রাজ নেভিগেশনের নামে রয়েছে রাজ ঘাটে ২৩টি কার্গো জাহাজ। বিদেশের মাটিতে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে রয়েছে একটি ফ্ল্যাট, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বিলাসবহুল ভবন, কানাডার বেগম পাড়ায় বয়েছে একটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং মানিলন্ডারিং করে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা করেছেন সাবেক মেয়র আবদুল বাতেন। ছোট ছেলে রাজের নামে চট্টগ্রাম গভীর নৌবন্দরে মাদার ভ্যাসেল ও মায়ানমার গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে সিমেন্ট ও সার পরিবহনের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাদক পরিবহন করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাবেক মেয়র আবদুল বাতেনের বিরুদ্ধে।

বেড়া থানার পাশে পাঁচতলা ভবন, বেড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে তিন তলা ভবন, বেড়া বৃশালিকা ঘাটে অবৈধভাবে তৈরি করা রাজঘাট নেভিগেশনের ২৩টির একটি কার্গো জাহাজ, বেড়া বৃশালিকা ঘাট যা কি না বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব জায়গা বড়পিঠ জবরদখল করে রাজ নেভিগেশনের নামে রাজঘাট নির্মাণ করে শত শত কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছেন সাবেক মেয়র। বৃশালিকা ঘাটের বড় পিঠ এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে দুশ একর সম্পত্তি ও বেড়া মোহনগঞ্জ এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জমি জবরদখল করে, মাটি ভরাট করে, নিজস্ব ভবন তৈরি করে, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বাজার/ঘাট নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া প্রদান করে কোটি কোটি টাকা কামানোর অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিকী মামলার তদন্ত করছেন।