বানিয়াচংয়ে জরাজীর্ণ ঘরে আনোয়ারার কষ্টের জীবন

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর ইউনিয়নের বানিয়াচংয়ে জীর্ণ ঘরে আনোয়ারা বেগম বসবাস। তিনি ষাটোর্ধ। ৪০ বছর আগে গত হয়েছেন স্বামী রেনু মিয়া। সহায়-সম্বল কিছুই নেই । বৃষ্টি এলেই ঘরে পানি পড়ে। প্রবল বৃষ্টিতে আশ্রয় নেন অন্যের ঘরে । একটি ভালো ঘরই তার স্বপ্ন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘর দেয়ার আশ্বাস দিলেও এ বিষয়ে প্রকৃতপক্ষে কোন পদক্ষেপ নেই। জানা যায়, চার বছর আগে বানিয়াচং-খৈয়াপাড়া সড়ক নির্মাণের সময় আনোয়ারা বেগম এর টিন শেড ঘরটি ভাঙা পড়ে। পরে রাস্তার কাজ শেষ হলেও ভাঙা ঘরটি অর্থের অভাবে পুনর্নির্মাণ করতে পারেননি আনোয়ারা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে কাটিয়ে এসেছেন দীর্ঘ ৪০ বছর। অন্যের বাড়িতে কাজ করে চালাতেন সংসার। এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ তিনি। কাজ করতে পারেননা। নানা রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। বানিয়াচং গ্রামে স্বামীর রেখে যাওয়া ৪ শতাংশ ভিটিতে একটি একচালা জীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন তিনি। সরকারি বা স্থানীয় বিত্তবানদের সাহায্যের হাত প্রসারিত করলে ওই ৪ শতাংশ ভিটিতেই একটি ভালো ঘর নির্মাণ করা সম্ভব। আনোয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে মো. হানিফ পার্শ্ববর্তী শালচর বাজারে চা বিক্রি করে কোন রকমে সংসার চালান। আনোয়ারা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে অনেক কষ্ট করেই বেঁচে আছি। চার বছর আগে রাস্তা করার সময় আমার ঘরটি ভাঙ্গা হয়। তখন আমাকে নতুন ঘর করে দেয়ার কথা বলেছিল স্থানীয় চেয়ারম্যান। কিন্তু চারবছর পরও আমার ঘর হয়নি। এতবারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম মামুনুর রশিদ আবু বলেন, করোনাকালে নতুন কোন ঘর বরাদ্দ আসেনি। পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দ পেলে তাকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুন নাহার বলেন ভিটি আছে ঘর নেই। এই প্রকল্পটি সরকার আপাতত বন্ধ রেখেছে। ওই প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পেলে এই আনোয়ারা বেগমকে ঘর দেয়া হবে।

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ , ০৪ কার্তিক ১৪২৮ ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বানিয়াচংয়ে জরাজীর্ণ ঘরে আনোয়ারার কষ্টের জীবন

প্রতিনিধি, চান্দিনা (কুমিল্লা)

image

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর ইউনিয়নের বানিয়াচংয়ে জীর্ণ ঘরে আনোয়ারা বেগম বসবাস। তিনি ষাটোর্ধ। ৪০ বছর আগে গত হয়েছেন স্বামী রেনু মিয়া। সহায়-সম্বল কিছুই নেই । বৃষ্টি এলেই ঘরে পানি পড়ে। প্রবল বৃষ্টিতে আশ্রয় নেন অন্যের ঘরে । একটি ভালো ঘরই তার স্বপ্ন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘর দেয়ার আশ্বাস দিলেও এ বিষয়ে প্রকৃতপক্ষে কোন পদক্ষেপ নেই। জানা যায়, চার বছর আগে বানিয়াচং-খৈয়াপাড়া সড়ক নির্মাণের সময় আনোয়ারা বেগম এর টিন শেড ঘরটি ভাঙা পড়ে। পরে রাস্তার কাজ শেষ হলেও ভাঙা ঘরটি অর্থের অভাবে পুনর্নির্মাণ করতে পারেননি আনোয়ারা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে কাটিয়ে এসেছেন দীর্ঘ ৪০ বছর। অন্যের বাড়িতে কাজ করে চালাতেন সংসার। এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ তিনি। কাজ করতে পারেননা। নানা রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। বানিয়াচং গ্রামে স্বামীর রেখে যাওয়া ৪ শতাংশ ভিটিতে একটি একচালা জীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন তিনি। সরকারি বা স্থানীয় বিত্তবানদের সাহায্যের হাত প্রসারিত করলে ওই ৪ শতাংশ ভিটিতেই একটি ভালো ঘর নির্মাণ করা সম্ভব। আনোয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে মো. হানিফ পার্শ্ববর্তী শালচর বাজারে চা বিক্রি করে কোন রকমে সংসার চালান। আনোয়ারা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে অনেক কষ্ট করেই বেঁচে আছি। চার বছর আগে রাস্তা করার সময় আমার ঘরটি ভাঙ্গা হয়। তখন আমাকে নতুন ঘর করে দেয়ার কথা বলেছিল স্থানীয় চেয়ারম্যান। কিন্তু চারবছর পরও আমার ঘর হয়নি। এতবারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম মামুনুর রশিদ আবু বলেন, করোনাকালে নতুন কোন ঘর বরাদ্দ আসেনি। পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দ পেলে তাকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুন নাহার বলেন ভিটি আছে ঘর নেই। এই প্রকল্পটি সরকার আপাতত বন্ধ রেখেছে। ওই প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পেলে এই আনোয়ারা বেগমকে ঘর দেয়া হবে।