নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসে ১০ বছরের কারাদণ্ড

সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার। পাশাপশি কেন্দ্রীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের জন্য ব্যবস্থাপনা আইনও করতে যাচ্ছে সরকার। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন আইন, ২০২১’ ও ‘যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদ আইন ২০২১-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদনও করে মন্ত্রিসভা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ১৯৭৭ সালের একটি অধ্যাদেশ দিয়ে পিএসসি চলে আসছে। একটি পূর্ণাঙ্গ আইন করার জন্য এ আইনের খসড়া পেশ করা হয়েছে। হাইকোর্টের একটি রায়ের আলোকেই এ আইনটি বিবেচনায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের ধারা আটে কিছু অপরাধের কথা বলা হয়েছে। কমিশন যে পরীক্ষাগুলো নেবে সেসবে কেউ যদি অসৎ উপায় অবলম্বন করেন তাহলে সর্বোচ্চ ২ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডই দেয়া হতে পারে। আর প্রশ্ন ফাঁসে যারা জড়িত থাকবেন তাদের বিষয়টা নোটেবল জিনিস। তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ বছর ও সর্বোনিম্ন ৩ বছর বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। শক্ত একটি অবস্থান নেয়া হয়েছে, জরিমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আর উত্তরপত্র জালিয়াতিতে যারা জড়িত থাকবেন তারা সর্বোচ্চ ২ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এখানেও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অসৎ উপায় অবলম্বনে যদি কেউ সহায়তা করে সেও সর্বোচ্চ ২ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা দুটোতেই দণ্ডিত হবেন। পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া হলে তাদেরকেও এক বছরের কারাদণ্ড কিংবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়া যাবে। পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তি যদি অপরাধ করেন তাহলে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। মোবাইল কোর্টের মধ্যেও এ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনটা মূলত রুল বেইজড আইন। বেশিরভাগ জিনিসগুলো রুল দিয়ে করে নেয়া হবে। একটা জেনারেল প্রবিশন করে দেয়া হয়েছে আইনটিতে। এতে মাত্র ১৫টি ধারা আছে। এখানে একটি কমিশন গঠন করা হবে সেটার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। কমিশন থাকবে এবং এতে ৬ জন সদস্য থাকবেন। তবে কোনক্রমেই সদস্য ১৫ জনের বেশি হবে না, এরকম একটি আউটলাইন করে দেয়া হয়েছে। বাকিটা রুল দিয়ে করে দেয়া হবে। তাদের দায়িত্ব হলো সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন রিক্রুটমেন্টের বিষয়ে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

যাকাত তহবিল

ব্যবস্থাপনা আইন

কেন্দ্রীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের জন্য নতুন যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যাকাত তহবিল গঠন করা হবে। তহবিলের অর্থ সরকারিভাবে সংগৃহীত হবে। প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি কোন ব্যক্তি বা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অর্থ যে কোন তফসিলি ব্যাংকের যাকাত ফান্ডে জমা দিয়ে যাকাত আদায় করতে পারবেন। আর একটি বোর্ড থাকবে। ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এটির চেয়ারম্যান থাকবেন। তিনি বলেন, সুরা তাওবায় প্রিসাইসলি সাতটি ক্যাটাগরি করে দেয়া হয়েছে। সেই সাত ক্যাটাগরির যে কোন এক ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হলেই একজন ব্যক্তি যাকাত দিতে পারবেন। বিভিন্ন ইসলামিক দেশগুলোতে বোর্ড আছে। অনেকেরই হয়তো ব্যক্তিগতভাবে দেয়ার সুযোগ থাকে না, সে হয়তো যাকাত ফান্ডে দিয়ে দিল। তখন যাকাত ফান্ড তার পক্ষে যাকাত আদায় করে দেবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি তো কোরআনে পরিষ্কার বলে দেয়া হয়েছে যে, তোমার যখন সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা ওই পরিমাণ টাকা যদি এক বছর থাকে তাহলে আড়াই শতাংশ যাকাত দিতে হবে। সেটি যদি ব্যক্তিগতভাবে দিলে তো দিলে, না হলে সরকারের ফান্ডে দিলে সেটিও দিতে পারবে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আপনি যখন হজে যাবেন আপনি কিন্তু কোরবানি করতে যাবেন না। আপনি টাকা জমা দিয়ে দেবেন। ব্যাংক একটা টাইম দিয়ে দেবে ১০ তারিখ এতটার সময় আপনার কোরবানি হয়ে যাবে। সে জন্য এ সিস্টেমটা পুরো পৃথিবীতেই আছে। আইনটিতে ১৪টি ধারা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারিভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ করা হবে এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারিভাবে যাকাত দানে উদ্বুদ্ধ করা হবে। যাকাত সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন, যাকাত দানে আগ্রহী ব্যক্তিদের যাকাতযোগ্য সম্পদ ও প্রত্যয়ন প্রদানের বিষয় খসড়া আইনে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাকাত বোর্ডে সদস্য থাকবে ১০ জন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করে দেবে ইসলামি ফাউন্ডেশন বা ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে। কালেকশন ও ডিস্ট্রিবিউশনটা তারা করবেন। কাকে কাকে কীভাবে দেবে এটি তারা ঠিক করবে। তাদের একটি অ্যাকাউন্ট থাকবে, সেখান থেকে তারা সংগ্রহ করবে।

ই-কমার্স

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ই-কমার্স নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ই-কমার্স নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মিটিং করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটি এক মাস সময় নিয়েছে, অল্প দিনে প্রতিবেদন দিয়ে দেবেন।

তিনি বলেন, আজকে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সচিব বলেছেন, তারা অনেক অগ্রসর হয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এনটিএমসি সবাইকে নিয়ে। গত দুই আড়াই মাস থেকে একটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। আজকে এটাও সিদ্ধান্ত হয়েছে- এই জাতীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের যারা জড়িত তাদের নিবন্ধনের মধ্যে মনিটরিং করতে হবে। কীভাবে করা হবে সেটাও আলোচনা হয়েছে। পেমেন্ট গেটওয়েগুলো সুপারভিশন করারও একটা মেকানিজম ডেভেলপ করা হচ্ছে, যাতে রেজিস্টার্ড পেমেন্ট গেটওয়ের বাইরে কেউ অপারেট না করে।

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ , ০৪ কার্তিক ১৪২৮ ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পিএসসি ও যাকাত তহবিল আইন অনুমোদন

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসে ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার। পাশাপশি কেন্দ্রীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের জন্য ব্যবস্থাপনা আইনও করতে যাচ্ছে সরকার। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন আইন, ২০২১’ ও ‘যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদ আইন ২০২১-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদনও করে মন্ত্রিসভা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ১৯৭৭ সালের একটি অধ্যাদেশ দিয়ে পিএসসি চলে আসছে। একটি পূর্ণাঙ্গ আইন করার জন্য এ আইনের খসড়া পেশ করা হয়েছে। হাইকোর্টের একটি রায়ের আলোকেই এ আইনটি বিবেচনায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের ধারা আটে কিছু অপরাধের কথা বলা হয়েছে। কমিশন যে পরীক্ষাগুলো নেবে সেসবে কেউ যদি অসৎ উপায় অবলম্বন করেন তাহলে সর্বোচ্চ ২ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডই দেয়া হতে পারে। আর প্রশ্ন ফাঁসে যারা জড়িত থাকবেন তাদের বিষয়টা নোটেবল জিনিস। তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ বছর ও সর্বোনিম্ন ৩ বছর বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। শক্ত একটি অবস্থান নেয়া হয়েছে, জরিমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আর উত্তরপত্র জালিয়াতিতে যারা জড়িত থাকবেন তারা সর্বোচ্চ ২ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এখানেও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অসৎ উপায় অবলম্বনে যদি কেউ সহায়তা করে সেও সর্বোচ্চ ২ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা দুটোতেই দণ্ডিত হবেন। পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া হলে তাদেরকেও এক বছরের কারাদণ্ড কিংবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়া যাবে। পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তি যদি অপরাধ করেন তাহলে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। মোবাইল কোর্টের মধ্যেও এ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনটা মূলত রুল বেইজড আইন। বেশিরভাগ জিনিসগুলো রুল দিয়ে করে নেয়া হবে। একটা জেনারেল প্রবিশন করে দেয়া হয়েছে আইনটিতে। এতে মাত্র ১৫টি ধারা আছে। এখানে একটি কমিশন গঠন করা হবে সেটার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। কমিশন থাকবে এবং এতে ৬ জন সদস্য থাকবেন। তবে কোনক্রমেই সদস্য ১৫ জনের বেশি হবে না, এরকম একটি আউটলাইন করে দেয়া হয়েছে। বাকিটা রুল দিয়ে করে দেয়া হবে। তাদের দায়িত্ব হলো সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন রিক্রুটমেন্টের বিষয়ে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

যাকাত তহবিল

ব্যবস্থাপনা আইন

কেন্দ্রীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের জন্য নতুন যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যাকাত তহবিল গঠন করা হবে। তহবিলের অর্থ সরকারিভাবে সংগৃহীত হবে। প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি কোন ব্যক্তি বা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অর্থ যে কোন তফসিলি ব্যাংকের যাকাত ফান্ডে জমা দিয়ে যাকাত আদায় করতে পারবেন। আর একটি বোর্ড থাকবে। ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এটির চেয়ারম্যান থাকবেন। তিনি বলেন, সুরা তাওবায় প্রিসাইসলি সাতটি ক্যাটাগরি করে দেয়া হয়েছে। সেই সাত ক্যাটাগরির যে কোন এক ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হলেই একজন ব্যক্তি যাকাত দিতে পারবেন। বিভিন্ন ইসলামিক দেশগুলোতে বোর্ড আছে। অনেকেরই হয়তো ব্যক্তিগতভাবে দেয়ার সুযোগ থাকে না, সে হয়তো যাকাত ফান্ডে দিয়ে দিল। তখন যাকাত ফান্ড তার পক্ষে যাকাত আদায় করে দেবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি তো কোরআনে পরিষ্কার বলে দেয়া হয়েছে যে, তোমার যখন সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা ওই পরিমাণ টাকা যদি এক বছর থাকে তাহলে আড়াই শতাংশ যাকাত দিতে হবে। সেটি যদি ব্যক্তিগতভাবে দিলে তো দিলে, না হলে সরকারের ফান্ডে দিলে সেটিও দিতে পারবে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আপনি যখন হজে যাবেন আপনি কিন্তু কোরবানি করতে যাবেন না। আপনি টাকা জমা দিয়ে দেবেন। ব্যাংক একটা টাইম দিয়ে দেবে ১০ তারিখ এতটার সময় আপনার কোরবানি হয়ে যাবে। সে জন্য এ সিস্টেমটা পুরো পৃথিবীতেই আছে। আইনটিতে ১৪টি ধারা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারিভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ করা হবে এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারিভাবে যাকাত দানে উদ্বুদ্ধ করা হবে। যাকাত সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন, যাকাত দানে আগ্রহী ব্যক্তিদের যাকাতযোগ্য সম্পদ ও প্রত্যয়ন প্রদানের বিষয় খসড়া আইনে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাকাত বোর্ডে সদস্য থাকবে ১০ জন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করে দেবে ইসলামি ফাউন্ডেশন বা ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে। কালেকশন ও ডিস্ট্রিবিউশনটা তারা করবেন। কাকে কাকে কীভাবে দেবে এটি তারা ঠিক করবে। তাদের একটি অ্যাকাউন্ট থাকবে, সেখান থেকে তারা সংগ্রহ করবে।

ই-কমার্স

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ই-কমার্স নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ই-কমার্স নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মিটিং করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটি এক মাস সময় নিয়েছে, অল্প দিনে প্রতিবেদন দিয়ে দেবেন।

তিনি বলেন, আজকে বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সচিব বলেছেন, তারা অনেক অগ্রসর হয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এনটিএমসি সবাইকে নিয়ে। গত দুই আড়াই মাস থেকে একটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। আজকে এটাও সিদ্ধান্ত হয়েছে- এই জাতীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের যারা জড়িত তাদের নিবন্ধনের মধ্যে মনিটরিং করতে হবে। কীভাবে করা হবে সেটাও আলোচনা হয়েছে। পেমেন্ট গেটওয়েগুলো সুপারভিশন করারও একটা মেকানিজম ডেভেলপ করা হচ্ছে, যাতে রেজিস্টার্ড পেমেন্ট গেটওয়ের বাইরে কেউ অপারেট না করে।