প্রকৌশলী নজরুলের ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য

স্ত্রীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটি টাকারও বেশি। ঘুষ নেয়াসহ নানা দুর্নীতির মাধ্যমে এ সম্পদ গড়েছেন তিনি। দুর্নীতি দমন কশিমনের অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া পর প্রকৌশলী নজরুলসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। উপসহকারী পরিচালক আশীষ কুমার কু- বাদী হয়ে গতকাল ঢাকা জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। নজরুল ছাড়াও আসামি করা হয়েছে স্ত্রী সৈয়দা তামান্না শাহেরীন এবং ভাই সৈয়দ হাসান শিবলী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের নামে ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ১৪টি এফডিআরে আট কোটি টাকা এবং যমুনা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় আট লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৭ টাকা জমার তথ্য পায় দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে আট কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সরকারি চাকরির আগের সঞ্চয় ও চাকরিকালীন সঞ্চয়সহ অন্যান্য আয় মিলিয়ে দুই কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকার গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ছয় কোটি ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, নজরুল ইসলাম ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদান করেন। তিনি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে অবসর নেন। চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার আগে প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১৪টি এফডিআর হিসাবে আট কোটি টাকা নগদ জমা করেন। এছাড়া যমুনা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার সঞ্চয়ী হিসাবে আট লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৭ টাকা জমা করেন। এক বছরে তার ব্যাংকে হিসাবে নগদ আট কোটি টাকা জমা হয়, যার অর্জনের গ্রহণযোগ্য কোন তথ্য-প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। একজন সরকারি কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে নগদ আট কোটি টাকা জমা কোন তথ্য না থাকায় এ অর্থ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম তার স্ত্রীর তামান্না শাহেরীনের কাছ থেকে ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই কোটি টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে চার কোটি টাকাসহ মোট ছয় কোটি টাকা দান হিসাবে গ্রহণ দেখান। তার স্ত্রী একজন গৃহিনী। তার খামার বা মৎস্য চাষের কোন ব্যবসা নেই। তিনি গৃহিনী স্ত্রীকে মৎস্য ব্যবসায়ী দেখিয়ে ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত ছয় কোটি অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেন। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে আট কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকার সম্পদ রয়েছে, যার মধ্যে অবৈধভাবে অর্জিত ছয় কোটি ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৩ টাকার সম্পদ।

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ , ০৪ কার্তিক ১৪২৮ ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

প্রকৌশলী নজরুলের ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য

স্ত্রীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটি টাকারও বেশি। ঘুষ নেয়াসহ নানা দুর্নীতির মাধ্যমে এ সম্পদ গড়েছেন তিনি। দুর্নীতি দমন কশিমনের অনুসন্ধানে এমন তথ্য পাওয়া পর প্রকৌশলী নজরুলসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। উপসহকারী পরিচালক আশীষ কুমার কু- বাদী হয়ে গতকাল ঢাকা জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। নজরুল ছাড়াও আসামি করা হয়েছে স্ত্রী সৈয়দা তামান্না শাহেরীন এবং ভাই সৈয়দ হাসান শিবলী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের নামে ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ১৪টি এফডিআরে আট কোটি টাকা এবং যমুনা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় আট লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৭ টাকা জমার তথ্য পায় দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে আট কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সরকারি চাকরির আগের সঞ্চয় ও চাকরিকালীন সঞ্চয়সহ অন্যান্য আয় মিলিয়ে দুই কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকার গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ছয় কোটি ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় মামলা দায়ের করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, নজরুল ইসলাম ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদান করেন। তিনি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে অবসর নেন। চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার আগে প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১৪টি এফডিআর হিসাবে আট কোটি টাকা নগদ জমা করেন। এছাড়া যমুনা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার সঞ্চয়ী হিসাবে আট লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৭ টাকা জমা করেন। এক বছরে তার ব্যাংকে হিসাবে নগদ আট কোটি টাকা জমা হয়, যার অর্জনের গ্রহণযোগ্য কোন তথ্য-প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। একজন সরকারি কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে নগদ আট কোটি টাকা জমা কোন তথ্য না থাকায় এ অর্থ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম তার স্ত্রীর তামান্না শাহেরীনের কাছ থেকে ২০১০-১১ অর্থবছরে দুই কোটি টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে চার কোটি টাকাসহ মোট ছয় কোটি টাকা দান হিসাবে গ্রহণ দেখান। তার স্ত্রী একজন গৃহিনী। তার খামার বা মৎস্য চাষের কোন ব্যবসা নেই। তিনি গৃহিনী স্ত্রীকে মৎস্য ব্যবসায়ী দেখিয়ে ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত ছয় কোটি অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেন। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে আট কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকার সম্পদ রয়েছে, যার মধ্যে অবৈধভাবে অর্জিত ছয় কোটি ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৩ টাকার সম্পদ।