সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপসনালয়ে একের পর এক হামলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রচেষ্টার কারণে বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের সমন্বয়কারী সংগঠন এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ (এডাব) গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

গতকাল সংস্থাটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে সংস্থাটির চেয়ারপারসন জয়ন্ত অধিকারী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক বিষাক্ত পরিবেশ থেকে মুক্ত অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। অসাম্প্রদায়িক এই দেশে সকল ধর্মের মানুষ, স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মপালন করবে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করবে, এটাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বসবাসরত সকল ধর্মের মানুষ সেই চেতনাই লালন করে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিগত কিছুদিন যাবৎ ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে অবমাননার নামে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নির্বিচারে নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপর পৈশাচিক হামলা, বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করছে। তিনি বলেন, এসব হামলা দেশে বিরাজমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ, উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে, দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রয়াস। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তার ধর্মপালন, পূর্ণনিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা মানে দেশের সংবিধানের উপর হামলা, আইনের শাসনের উপর হামলা, সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর হামলা।

এডাব চেয়ারপারসন, অবিলম্বে এসব হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সেই সাথে, বিবৃতিতে তিনি দেশের সকল নাগরিকের বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জান-মাল ও তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ , ০৪ কার্তিক ১৪২৮ ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপসনালয়ে একের পর এক হামলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রচেষ্টার কারণে বাংলাদেশে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের সমন্বয়কারী সংগঠন এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ (এডাব) গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

গতকাল সংস্থাটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে সংস্থাটির চেয়ারপারসন জয়ন্ত অধিকারী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক বিষাক্ত পরিবেশ থেকে মুক্ত অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। অসাম্প্রদায়িক এই দেশে সকল ধর্মের মানুষ, স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মপালন করবে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করবে, এটাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বসবাসরত সকল ধর্মের মানুষ সেই চেতনাই লালন করে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিগত কিছুদিন যাবৎ ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে অবমাননার নামে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নির্বিচারে নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপর পৈশাচিক হামলা, বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করছে। তিনি বলেন, এসব হামলা দেশে বিরাজমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ, উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে, দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রয়াস। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তার ধর্মপালন, পূর্ণনিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা মানে দেশের সংবিধানের উপর হামলা, আইনের শাসনের উপর হামলা, সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর হামলা।

এডাব চেয়ারপারসন, অবিলম্বে এসব হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সেই সাথে, বিবৃতিতে তিনি দেশের সকল নাগরিকের বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জান-মাল ও তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।