২০২২ সালেও চলবে করোনা মহামারী : ডব্লিউএইচও

করোনা মহামারীতে পুরো বিশ্ব থমকে গেছে প্রায় দু’বছর হতে চলেছে। বিশ্বের সব দেশে এখন ব্যস্ত মানুষকে টিকা দিয়ে ঝুঁকি কমাতে। সবাই আশায় আছে দ্রুত এই মহামারীর অবসানের। কিন্তু সেই আশায় কার্যত পানি ঢেলে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউিএইচও)। সংস্থাটি বলেছে, ২০২২ সালেও বিদায় নেবে না করোনা।

সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডা. ব্রুস আইলওয়ার্ড এক সাক্ষাৎকারে বিবিসিকে জানিয়েছেন, এখনও বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশ করোনা টিকার কোনো ডোজ পায়নি। টিকার ডোজের মজুত না থাকায় টিকাদান কর্মসূচি শুরুই করতে পারেনি- এমন দেশের সংখ্যাও কম নয়। ফলে, বিশ্বজুড়ে টিকা বণ্টনের যে বর্তমান চিত্র- তাতে খুব সহজেই বোঝা যায়, ২০২২ সালের মধ্যে পৃথিবী থেকে করোনা নির্মূল হবে না। তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোতে যেখানে গড়ে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই করোনা টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন, সেখানে আফ্রিকার দেশগুলোতে টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন ৫ শতাংশেরও কম মানুষ। আমি আপনাকে দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি- মহামারী নির্মূলে আমরা সঠিক পথে নেই। টিকাদান কর্মসূচির গতি ও বিস্তৃতি যদি বাড়ানো না হয়, সেক্ষেত্রে আগামী ২০২২ সালেও আমাদের মহামারীর মধ্যেই বসবাস করতে হবে।

অথচ, টিকা বণ্টনে যদি ন্যূনতম সমতা থাকত, বিশ্বের সব দেশকে প্রয়োজনীয় করোনা টিকা সরবরাহ করা যেত, তাহলে চলতি বছরই আমরা পৃথিবীকে মহামারীমুক্ত করতে পারতাম। আমরা মনে করি, টিকা কিনতে কোম্পানিগুলোতে গ্রাহকদের যে লাইন বা সারি আছে, উন্নত দেশগুলোর উচিত সেই সারি থেকে অবিলম্বে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়া।

কারণ, প্রচুর পারিমাণে টিকার ডোজের মজুত তাদের কাছে এখনও আছে, যা তাদের মোট চাহিদা বা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকা কোম্পানিগুলোর লাভের বিষয়টিতে কম গুরুত্ব দিয়ে অনুন্নত দেশগুলোতে কীভাবে টিকার সরবরাহ বাড়ানো যায়, সেটি বিবেচনায় আনা উচিত বলেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ব্রুস আইলইয়ার্ড।

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ , ০৬ কার্তিক ১৪২৮ ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

২০২২ সালেও চলবে করোনা মহামারী : ডব্লিউএইচও

করোনা মহামারীতে পুরো বিশ্ব থমকে গেছে প্রায় দু’বছর হতে চলেছে। বিশ্বের সব দেশে এখন ব্যস্ত মানুষকে টিকা দিয়ে ঝুঁকি কমাতে। সবাই আশায় আছে দ্রুত এই মহামারীর অবসানের। কিন্তু সেই আশায় কার্যত পানি ঢেলে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউিএইচও)। সংস্থাটি বলেছে, ২০২২ সালেও বিদায় নেবে না করোনা।

সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডা. ব্রুস আইলওয়ার্ড এক সাক্ষাৎকারে বিবিসিকে জানিয়েছেন, এখনও বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশ করোনা টিকার কোনো ডোজ পায়নি। টিকার ডোজের মজুত না থাকায় টিকাদান কর্মসূচি শুরুই করতে পারেনি- এমন দেশের সংখ্যাও কম নয়। ফলে, বিশ্বজুড়ে টিকা বণ্টনের যে বর্তমান চিত্র- তাতে খুব সহজেই বোঝা যায়, ২০২২ সালের মধ্যে পৃথিবী থেকে করোনা নির্মূল হবে না। তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোতে যেখানে গড়ে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই করোনা টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন, সেখানে আফ্রিকার দেশগুলোতে টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন ৫ শতাংশেরও কম মানুষ। আমি আপনাকে দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি- মহামারী নির্মূলে আমরা সঠিক পথে নেই। টিকাদান কর্মসূচির গতি ও বিস্তৃতি যদি বাড়ানো না হয়, সেক্ষেত্রে আগামী ২০২২ সালেও আমাদের মহামারীর মধ্যেই বসবাস করতে হবে।

অথচ, টিকা বণ্টনে যদি ন্যূনতম সমতা থাকত, বিশ্বের সব দেশকে প্রয়োজনীয় করোনা টিকা সরবরাহ করা যেত, তাহলে চলতি বছরই আমরা পৃথিবীকে মহামারীমুক্ত করতে পারতাম। আমরা মনে করি, টিকা কিনতে কোম্পানিগুলোতে গ্রাহকদের যে লাইন বা সারি আছে, উন্নত দেশগুলোর উচিত সেই সারি থেকে অবিলম্বে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়া।

কারণ, প্রচুর পারিমাণে টিকার ডোজের মজুত তাদের কাছে এখনও আছে, যা তাদের মোট চাহিদা বা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকা কোম্পানিগুলোর লাভের বিষয়টিতে কম গুরুত্ব দিয়ে অনুন্নত দেশগুলোতে কীভাবে টিকার সরবরাহ বাড়ানো যায়, সেটি বিবেচনায় আনা উচিত বলেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ব্রুস আইলইয়ার্ড।