হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ঢাবিতে প্রতিবাদী মৌন মিছিল

কুমিল্লার নানুয়াদীঘি ও রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের ১০টি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও পবিত্র কোরআন অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মৌন মিছিল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সকাল এগারোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ কেন্দ্র এবং বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কুমিল্লা ও রংপুরে হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তারা অনেক পরে এসেছিল। তাদের অবহেলাও এর জন্য দায়ী। কোথায় ছিল সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনগুলো, কোথায় ছিল সরকারদলীয় অন্যান্য সংগঠন! জাতির পিতার জীবনকালে ৩০০ থেকে ৩৫০টি বক্তব্য দিয়েছেন। একটিতেও সাম্প্রদায়িকতাকে কোন প্রশ্রয় দেয়া হয়নি। কোন হিন্দু একাজ করতে পারে না। কোন প্রকৃত মুসলিম এ কাজ করতে পারে না। সব ধর্মেরই মূল শিক্ষা হচ্ছে শান্তি।

অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, মধ্যযুগে ভারতবর্ষে তথা বাংলায় মুসলিম শাসক ছিল, অথচ হিন্দু ধর্মের উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছিল সেখানে, ধর্ম কোন সমস্যা ছিল না। ’৪৭-এ ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের মাধ্যমে সাম্প্রদায?িক বীজ বপন করা হয়েছিল। বহু আগে থেকেই শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করে আসছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এ হামলাগুলো বারবার সংগঠিত হচ্ছে। কেউ একজন কোন অপরাধ করলো তার জন্য পুরো সম্প্রদায়কে কেন পরিণতি ভোগ করতে হবে! গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উচিত হবে, এ হামলায় রাজনৈতিক কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খুঁজে বের করা। তা নাহলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে না।

এ সময় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ‘তৃতীয় পক্ষ’ নামে একটি মুকাভিনয় প্রদর্শনী পরিবেশনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাইম একশন।

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ , ০৬ কার্তিক ১৪২৮ ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ঢাবিতে প্রতিবাদী মৌন মিছিল

প্রতিনিধি, ঢাবি

কুমিল্লার নানুয়াদীঘি ও রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের ১০টি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও পবিত্র কোরআন অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মৌন মিছিল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সকাল এগারোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ কেন্দ্র এবং বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কুমিল্লা ও রংপুরে হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তারা অনেক পরে এসেছিল। তাদের অবহেলাও এর জন্য দায়ী। কোথায় ছিল সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনগুলো, কোথায় ছিল সরকারদলীয় অন্যান্য সংগঠন! জাতির পিতার জীবনকালে ৩০০ থেকে ৩৫০টি বক্তব্য দিয়েছেন। একটিতেও সাম্প্রদায়িকতাকে কোন প্রশ্রয় দেয়া হয়নি। কোন হিন্দু একাজ করতে পারে না। কোন প্রকৃত মুসলিম এ কাজ করতে পারে না। সব ধর্মেরই মূল শিক্ষা হচ্ছে শান্তি।

অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, মধ্যযুগে ভারতবর্ষে তথা বাংলায় মুসলিম শাসক ছিল, অথচ হিন্দু ধর্মের উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছিল সেখানে, ধর্ম কোন সমস্যা ছিল না। ’৪৭-এ ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের মাধ্যমে সাম্প্রদায?িক বীজ বপন করা হয়েছিল। বহু আগে থেকেই শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করে আসছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই এ হামলাগুলো বারবার সংগঠিত হচ্ছে। কেউ একজন কোন অপরাধ করলো তার জন্য পুরো সম্প্রদায়কে কেন পরিণতি ভোগ করতে হবে! গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উচিত হবে, এ হামলায় রাজনৈতিক কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খুঁজে বের করা। তা নাহলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে না।

এ সময় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ‘তৃতীয় পক্ষ’ নামে একটি মুকাভিনয় প্রদর্শনী পরিবেশনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাইম একশন।