শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস

দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও মুখরিত পুরো ক্যাম্পাস। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শ্রেণীকক্ষে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত ও উৎফুল্ল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর আবদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে মুক্ত বাতাসে স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এর আগে, গত ১১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি আবাসিক হল খুলে দেয়া হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোতে আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাস্ক, ফুল, চকলেট ও হালকা নাস্তা দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর মিলিত হওয়ার আনন্দে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া, মুক্তমঞ্চ, মুন্নি চত্বর ও মুরাদ চত্বরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আড্ডায় মেতে ছিল শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিভাগগুলোর নির্দেশনা ছিল, করোনা ভাইরাসের টিকার অন্তত একটি ডোজ যেসব শিক্ষার্থী নিয়েছেন শুধু তারাই সশরীরে ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণীকক্ষে আসতে বলা হয়। সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনে বিভাগে এসব নির্দেশনা মানতে দেখা গেছে। সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনেও শিক্ষা কার্যক্রম চলবে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে আমরা আনন্দিত। এতোদিন ক্যাম্পাসের এমন একটা পরিবেশের অপেক্ষায় ছিলাম। আজকে অনেকদিন পর শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে দেখা হচ্ছে। ক্লাসে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। এই অনুভূতি প্রকাশের মতো না।

ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ দিদারে আলম মুহসিন বলেন, সরাসরি ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে মিথস্ক্রিয়ার একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সেটি অনলাইনে সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যমে ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সমস্যাটা অনেক বড় বাধা ছিল।

তিনি বলেন, ক্লাসগুলো তুলনামূলক ছোট হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে সশরীরে ক্লাস নেয়া সম্ভব না। তাই আমরা সশরীর ও অনলাইন দুই মাধ্যমেই ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দুটি আলাদা ক্লাসরুমে বসিয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রোজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, হল খোলার পর আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী ছাড়া ক্যাম্পাস আসলে শূন্য। আজকে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাণের স্পন্দন ফিরে পেয়েছে।

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ , ০৬ কার্তিক ১৪২৮ ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাবিতে

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস

প্রতিনিধি, জাবি

দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও মুখরিত পুরো ক্যাম্পাস। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শ্রেণীকক্ষে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত ও উৎফুল্ল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর আবদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে মুক্ত বাতাসে স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এর আগে, গত ১১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি আবাসিক হল খুলে দেয়া হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোতে আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাস্ক, ফুল, চকলেট ও হালকা নাস্তা দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর মিলিত হওয়ার আনন্দে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া, মুক্তমঞ্চ, মুন্নি চত্বর ও মুরাদ চত্বরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আড্ডায় মেতে ছিল শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিভাগগুলোর নির্দেশনা ছিল, করোনা ভাইরাসের টিকার অন্তত একটি ডোজ যেসব শিক্ষার্থী নিয়েছেন শুধু তারাই সশরীরে ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণীকক্ষে আসতে বলা হয়। সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনে বিভাগে এসব নির্দেশনা মানতে দেখা গেছে। সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনেও শিক্ষা কার্যক্রম চলবে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন পর ক্লাসে ফিরতে পেরে আমরা আনন্দিত। এতোদিন ক্যাম্পাসের এমন একটা পরিবেশের অপেক্ষায় ছিলাম। আজকে অনেকদিন পর শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে দেখা হচ্ছে। ক্লাসে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। এই অনুভূতি প্রকাশের মতো না।

ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ দিদারে আলম মুহসিন বলেন, সরাসরি ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে মিথস্ক্রিয়ার একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সেটি অনলাইনে সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যমে ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সমস্যাটা অনেক বড় বাধা ছিল।

তিনি বলেন, ক্লাসগুলো তুলনামূলক ছোট হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে সশরীরে ক্লাস নেয়া সম্ভব না। তাই আমরা সশরীর ও অনলাইন দুই মাধ্যমেই ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দুটি আলাদা ক্লাসরুমে বসিয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রোজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, হল খোলার পর আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী ছাড়া ক্যাম্পাস আসলে শূন্য। আজকে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাণের স্পন্দন ফিরে পেয়েছে।