বিচ্ছিন্ন ঘটনা, ইকবালকে খুঁজে বের করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কুমিল্লা থেকে শুরু করে রংপুর পর্যন্ত যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত। মানুষের মন থেকে আতঙ্ক কমে গেছে। গতকাল বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতীয় সমন্বয় সভার বৈঠক শেষে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িতক হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, কুমিলায় পূজাম-পে যে পবিত্র কোরআন রেখেছে তার নাম ইকবাল হোসেন। ‘তাকে খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়েছি।’ কখন তাকে জনসম্মুখে হাজির করা হবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লাার যে টার্গেট....আমি আগেই বলেছি আমরা সুনিশ্চিত, যে লোকটি করেছে, আমাদের ক্যামেরার মাধ্যমে তাকে আমরা চিহ্নিত করেছি। যে মাজারের সঙ্গে মসজিদ, ওটা খুব প্রসিদ্ধ মসজিদ। দেখা গেছে, সেই মসজিদে রাত ৩টার দিকে গেছে। একবার নয় তিনবার গেছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন ‘সেখানে মসজিদের দুজন খাদেম অবস্থান করছিলেন। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছে। আমাদের অভিজ্ঞ টিম দীর্ঘক্ষণ এটা অ্যানালাইসিস করে সুনিশ্চিত হয়েছে। এই ব্যক্তিটি (ইকবাল) মসজিদ থেকে কোরআন এনে রেখেছে, সেটা তারই কর্ম। রেখে সে মূর্তির গদাটি কাঁধে করে নিয়ে এসেছে, সেই দৃশ্যটিও আপনারা দেখেছেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই লোকটি (ইকবাল) কার প্ররোচনায় কার নির্দেশে, কীভাবে এই কর্মটি করল.... এটি নির্দেশিত হয়ে বা কারও প্ররোচনা ছাড়া করেছে বলে আমরা এখনও মনে করি না। তাকে ধরতে পারলে বাকি সব উদ্ধার করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘সে (ইকবাল) কোন মোবাইল ব্যবহার করছে না। যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারাও হয়তো.... এখনও বলতে পারছি না.... লুকিয়ে রাখতে পারেন। তাকে খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়েছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, কুমিল্লার ঘটনার মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রেপ্তারের কাজটি তো আমরা করছি। পুলিশ করছে। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধানও এখানে আছেন। আমরা যেটুকু বলেছি, সেটুকুই আমরা জানি। এরপর যদি কেউ কিছু বলে থাকে হয়তো তিনি আরও তথ্য জেনে বলেছেন। কিন্তু আমাদের কাছে এর বেশি তথ্য নেই।’

রামু, নাসিরনগরসহ অন্যান্য স্থানে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনায় বিচার না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করছেন সমালোচকরা, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। রামুর তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে, সেখানে সাক্ষী যাচ্ছে না। কী করবেন আপনি? নাসিরনগরে একটি মামলা বাকি রয়েছে, সবগুলোর চার্জশিট দেয়া হয়েছে। সেখানেও সাক্ষীরা যাচ্ছে না। ভোলায় দু-পক্ষই মিলেমিশে একটা সেটেলমেন্ট হয়েছে, সেখানে আর অসুবিধা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় নাসিরনগরে যেটুকু বাকি আছে, সেটুকুও শেষ হবে। আরেকটা ইনফরমেশন দেই। যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, পুলিশ আমাদের এসে রিপোর্ট করে গেছে, সাক্ষীরা এখন সাক্ষ্য দিতে যায় না। সাক্ষীরা অনীহা প্রকাশ করছে। সে জন্য বিচার হয়তো দেরি হতে পারে। সেটাও একটা কারণ হতে পারে। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন, তারা তাদের জুরিসডিকশনে চলে।’

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ , ০৬ কার্তিক ১৪২৮ ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কুমিল্লা-রংপুরে

বিচ্ছিন্ন ঘটনা, ইকবালকে খুঁজে বের করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কুমিল্লা থেকে শুরু করে রংপুর পর্যন্ত যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত। মানুষের মন থেকে আতঙ্ক কমে গেছে। গতকাল বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতীয় সমন্বয় সভার বৈঠক শেষে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িতক হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, কুমিলায় পূজাম-পে যে পবিত্র কোরআন রেখেছে তার নাম ইকবাল হোসেন। ‘তাকে খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়েছি।’ কখন তাকে জনসম্মুখে হাজির করা হবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লাার যে টার্গেট....আমি আগেই বলেছি আমরা সুনিশ্চিত, যে লোকটি করেছে, আমাদের ক্যামেরার মাধ্যমে তাকে আমরা চিহ্নিত করেছি। যে মাজারের সঙ্গে মসজিদ, ওটা খুব প্রসিদ্ধ মসজিদ। দেখা গেছে, সেই মসজিদে রাত ৩টার দিকে গেছে। একবার নয় তিনবার গেছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন ‘সেখানে মসজিদের দুজন খাদেম অবস্থান করছিলেন। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছে। আমাদের অভিজ্ঞ টিম দীর্ঘক্ষণ এটা অ্যানালাইসিস করে সুনিশ্চিত হয়েছে। এই ব্যক্তিটি (ইকবাল) মসজিদ থেকে কোরআন এনে রেখেছে, সেটা তারই কর্ম। রেখে সে মূর্তির গদাটি কাঁধে করে নিয়ে এসেছে, সেই দৃশ্যটিও আপনারা দেখেছেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই লোকটি (ইকবাল) কার প্ররোচনায় কার নির্দেশে, কীভাবে এই কর্মটি করল.... এটি নির্দেশিত হয়ে বা কারও প্ররোচনা ছাড়া করেছে বলে আমরা এখনও মনে করি না। তাকে ধরতে পারলে বাকি সব উদ্ধার করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘সে (ইকবাল) কোন মোবাইল ব্যবহার করছে না। যারা তাকে পাঠিয়েছিল তারাও হয়তো.... এখনও বলতে পারছি না.... লুকিয়ে রাখতে পারেন। তাকে খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়েছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, কুমিল্লার ঘটনার মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রেপ্তারের কাজটি তো আমরা করছি। পুলিশ করছে। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধানও এখানে আছেন। আমরা যেটুকু বলেছি, সেটুকুই আমরা জানি। এরপর যদি কেউ কিছু বলে থাকে হয়তো তিনি আরও তথ্য জেনে বলেছেন। কিন্তু আমাদের কাছে এর বেশি তথ্য নেই।’

রামু, নাসিরনগরসহ অন্যান্য স্থানে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনায় বিচার না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করছেন সমালোচকরা, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। রামুর তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে, সেখানে সাক্ষী যাচ্ছে না। কী করবেন আপনি? নাসিরনগরে একটি মামলা বাকি রয়েছে, সবগুলোর চার্জশিট দেয়া হয়েছে। সেখানেও সাক্ষীরা যাচ্ছে না। ভোলায় দু-পক্ষই মিলেমিশে একটা সেটেলমেন্ট হয়েছে, সেখানে আর অসুবিধা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় নাসিরনগরে যেটুকু বাকি আছে, সেটুকুও শেষ হবে। আরেকটা ইনফরমেশন দেই। যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, পুলিশ আমাদের এসে রিপোর্ট করে গেছে, সাক্ষীরা এখন সাক্ষ্য দিতে যায় না। সাক্ষীরা অনীহা প্রকাশ করছে। সে জন্য বিচার হয়তো দেরি হতে পারে। সেটাও একটা কারণ হতে পারে। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন, তারা তাদের জুরিসডিকশনে চলে।’