সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রশ্নে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে

দেশে যে কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, উসকানিমূলক কর্মকা-সহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

গতকাল সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিয়োপয়েন্টে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

দেশেজুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে করোনাকালে স্বেচ্ছায় সেবাদানকারী সংগঠন শহিদ জামিল ব্রিগেডের সদস্যরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সংহতি জানিয়ে অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব সব নাগরিকের। কিন্তু প্রধান দায়িত্ব প্রশাসনের। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনার পর প্রশাসনের অবস্থান আমাদের কিছুটা হলেও হতাশ করেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবিলাসহ দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাদের আরও কঠোর অবস্থানে থাকা প্রয়োজন। দেশের প্রশাসন অত্যন্ত দক্ষ। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখে দেয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। আমরা আশা করি, সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে তারা আরও সজাগ, কঠোর ও দায়িত্বশীল হবেন।

মানববন্ধন থেকে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার দাবি করে বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা প্রতিষ্ঠায় ’৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি- গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশে হারিয়ে যাওয়া সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেনতায় তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। মৌলবাদ-জঙ্গিবাদসহ সব ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবিলা করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তির আদর্শগত ঐক্য এখন সময়ের দাবি। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধন থেকে বক্তারা হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো সাম্প্রদায়িক কর্মকা-ের ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়ে সামগ্রিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শহিদ জামিল ব্রিগেডের প্রধান সমন্বয়ক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু। বক্তব্য দেন, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, সেক্টর কমান্ডার ফোরামের রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, সাংবদিক রাশেদ রিপন, জামিল ব্রিগেডের মনিটরিং সেলের সদস্য আবদুল মতিন, নাজমুল করিম অপু, সীতানাথ বণিক, জাতীয় কৃষক সমিতির নেতা মতিউর রহমান তপন, যুবমৈত্রীর রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, মহিলা পরিষদের রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা রায়, জামিল ব্রিগেডের মনিটরিং সেলের সদস্য শামীম ইমতিয়াজ, একাত্তরে রাজশাহীতে প্রথম শহিদ সুরেশ পাণ্ডের ছেলে শোভন পাণ্ডে, সাবেক ছাত্রনেতা তামিম সিরাজী, দীগন্ত প্রসারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অশোক সাহা প্রমুখ।

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ , ০৬ কার্তিক ১৪২৮ ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রশ্নে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে

জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

দেশে যে কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, উসকানিমূলক কর্মকা-সহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

গতকাল সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিয়োপয়েন্টে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

দেশেজুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে করোনাকালে স্বেচ্ছায় সেবাদানকারী সংগঠন শহিদ জামিল ব্রিগেডের সদস্যরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সংহতি জানিয়ে অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব সব নাগরিকের। কিন্তু প্রধান দায়িত্ব প্রশাসনের। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনার পর প্রশাসনের অবস্থান আমাদের কিছুটা হলেও হতাশ করেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবিলাসহ দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাদের আরও কঠোর অবস্থানে থাকা প্রয়োজন। দেশের প্রশাসন অত্যন্ত দক্ষ। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখে দেয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। আমরা আশা করি, সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে তারা আরও সজাগ, কঠোর ও দায়িত্বশীল হবেন।

মানববন্ধন থেকে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার দাবি করে বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা প্রতিষ্ঠায় ’৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি- গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশে হারিয়ে যাওয়া সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেনতায় তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। মৌলবাদ-জঙ্গিবাদসহ সব ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবিলা করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তির আদর্শগত ঐক্য এখন সময়ের দাবি। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধন থেকে বক্তারা হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো সাম্প্রদায়িক কর্মকা-ের ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়ে সামগ্রিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শহিদ জামিল ব্রিগেডের প্রধান সমন্বয়ক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু। বক্তব্য দেন, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, সেক্টর কমান্ডার ফোরামের রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, সাংবদিক রাশেদ রিপন, জামিল ব্রিগেডের মনিটরিং সেলের সদস্য আবদুল মতিন, নাজমুল করিম অপু, সীতানাথ বণিক, জাতীয় কৃষক সমিতির নেতা মতিউর রহমান তপন, যুবমৈত্রীর রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, মহিলা পরিষদের রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা রায়, জামিল ব্রিগেডের মনিটরিং সেলের সদস্য শামীম ইমতিয়াজ, একাত্তরে রাজশাহীতে প্রথম শহিদ সুরেশ পাণ্ডের ছেলে শোভন পাণ্ডে, সাবেক ছাত্রনেতা তামিম সিরাজী, দীগন্ত প্রসারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অশোক সাহা প্রমুখ।