সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে অবরোধ

সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে তারা। দুই ঘণ্টার অবরোধ শেষে সন্ধা সাড়ে ৫টার দিকে মশাল মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব যান তারা। এর আগে দুপুরের পর থেকে জাগো হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ, ইন্টারন্যাশনাল শ্রীশ্রী হরি-গরুচাঁদ মতুয়া মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, আর্য প্রতিনিধি সভা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন শাহবাগ এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক ডা. মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায় বলেন, সারাদেশে হিন্দুদের ওপর বারবার হত্যা-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অথচ একটিরও বিচার হচ্ছে না। অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে, তা নাহলে আমরা আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাব এবং আরও কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

অবরোধের কারণে শাহবাগ থেকে পল্টন, সায়েন্স ল্যাব, বাংলা মোটর ও টিএসসি অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় তারা ‘জিহাদিদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, ‘মৌলবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, ‘দুনিয়ার হিন্দু এক হও, লড়াই কর’, মন্দিরে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই, তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, ‘তুমি কে? আমি কে? বাঙালি, বাঙালি’ ইত্যাদি সেøøাগান দিতে থাকেন ।

অবরোধ কর্মসূচি থেকে তারা পাঁচ দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো, ১. মহান জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে ৬০টি (ষাট) সংরক্ষিত আসন এবং একজন উপ-রাষ্ট্রপতি ও একজন উপ-প্রধান মন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করা। ২. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে একটি সুরক্ষা আইন পাস ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করা। ৩. বেদখলকৃত সব দেবোত্তর সম্পত্তি স্ব স্ব মঠ/মন্দিরে হস্তান্তরসহ উদ্ধারকৃত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিমা জাদুঘরের পরিবর্তে মঠ-মন্দিরের কাছে ফেরত প্রদান। ৪. সরকারি চাকরিতে ২০% কোটা পদ্ধতি চালুসহ হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা। ৫. শারদীয় দুর্গাপূজা তিন দিনের সরকারি ছুটি ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে সংস্কৃত শিক্ষা পুনরায় চালু করা।

শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ , ০৭ কার্তিক ১৪২৮ ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে অবরোধ

প্রতিনিধি, ঢাবি

সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে তারা। দুই ঘণ্টার অবরোধ শেষে সন্ধা সাড়ে ৫টার দিকে মশাল মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব যান তারা। এর আগে দুপুরের পর থেকে জাগো হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ, ইন্টারন্যাশনাল শ্রীশ্রী হরি-গরুচাঁদ মতুয়া মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, আর্য প্রতিনিধি সভা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন শাহবাগ এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক ডা. মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায় বলেন, সারাদেশে হিন্দুদের ওপর বারবার হত্যা-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অথচ একটিরও বিচার হচ্ছে না। অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে, তা নাহলে আমরা আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাব এবং আরও কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

অবরোধের কারণে শাহবাগ থেকে পল্টন, সায়েন্স ল্যাব, বাংলা মোটর ও টিএসসি অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় তারা ‘জিহাদিদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, ‘মৌলবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, ‘দুনিয়ার হিন্দু এক হও, লড়াই কর’, মন্দিরে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই, তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, ‘তুমি কে? আমি কে? বাঙালি, বাঙালি’ ইত্যাদি সেøøাগান দিতে থাকেন ।

অবরোধ কর্মসূচি থেকে তারা পাঁচ দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো, ১. মহান জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে ৬০টি (ষাট) সংরক্ষিত আসন এবং একজন উপ-রাষ্ট্রপতি ও একজন উপ-প্রধান মন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করা। ২. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে একটি সুরক্ষা আইন পাস ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করা। ৩. বেদখলকৃত সব দেবোত্তর সম্পত্তি স্ব স্ব মঠ/মন্দিরে হস্তান্তরসহ উদ্ধারকৃত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিমা জাদুঘরের পরিবর্তে মঠ-মন্দিরের কাছে ফেরত প্রদান। ৪. সরকারি চাকরিতে ২০% কোটা পদ্ধতি চালুসহ হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা। ৫. শারদীয় দুর্গাপূজা তিন দিনের সরকারি ছুটি ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে সংস্কৃত শিক্ষা পুনরায় চালু করা।