নিয়ন্ত্রণহীন বাজার

মুরগি ও সবজির দাম নাগালের বাইরে

মুরগির দামে স্বস্তি মিলছে না কিছুতেই। দীর্ঘদিন ধরে এই পণ্যটির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। তাই নিম্নবিত্ত অনেক পরিবার মুরগি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা আশা করছে, হয়তো আগামী সপ্তাহে দাম কিছুটা কমবে এবং তারাও মুরগি কিনবে। কিন্তু, তা আর হচ্ছে না। সপ্তাহের পর সপ্তাহ যায়, কিন্তু মুরগির দাম আর কমছে না, উল্টো বাড়ছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিকেজিতে দাম বেড়েছে বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা।

গতকাল কারওয়ান বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী মো. হাসান ইকবালের সঙ্গে। তিনি জানান, যখন প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যেত, তখন প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের একটি মুরগি কিনতেন। এখন আর কিনতে পারেন না।

তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ থেকে মুরগির দাম বাড়তি থাকার কারণে মুরগি কেনা বাদ দিয়েছি। দাম কমলে কিনব। প্রতি সপ্তাহেই মনে করছি, এবার হয়তো দাম কমবে। কিন্তু দাম আর কমে না। আর অন্য বাজারের টাকা বাঁচিয়ে যে মুরগি কিনব তাও হচ্ছে না। কারণ, শুধু মুরগিই নয়, পেঁয়াজ, তেল, আটাসহ সব জিনিসেরই দাম বেশি। এভাবে চলতে থাকলে কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না।’

গতকাল কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা দাম বেড়েছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, বেগুন (গোল) ৮০ টাকায়, বেগুন (লম্বা) ৬০ টাকায়, ফুল কপি প্রতি পিস ৬০ টাকায়, করলা ৬০ টাকায়, টমেটো ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, বরবটি ৮০ টাকায়। চায়না গাজর প্রতিকেজি ১৬০ টাকায়, চাল কুমড়া পিস ৪০ টাকায়, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকায়, চিচিঙা ৬০ টাকা, পোটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা ও পেঁপের কেজি ২০ টাকা।

এ সব বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজের কেজি ৭০ টাকা। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।

আমদানি করা পণ্যের দাম হয়তো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু দেশে উৎপাদিত সবজির দাম কেন সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, প্রশ্ন হাসান ইকবালের। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু সবজি তো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা হচ্ছে না। তাহলে কেন দাম বাড়ছে?’ সরকার কি তাহলে দেশের ব্যবসায়ীদের মনিটরিং করতে ব্যর্থ হচ্ছে- প্রশ্ন হাসান ইকবালের।

এইসব বাজারে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে, গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পেঁপে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। এছাড়া শুকনা মরিচ প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, রসুনের কেজি ৮০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। চায়না আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। কাঁচা হলুদের কেজি ১৬০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। দেশি ডাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

এসব বাজারে ভোজ্যতেলের প্রতি লিটার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এছাড়াও বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। প্যাকেট চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। আটা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। বাজারে অপরিবর্তিত আছে ডিমের দাম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা। সোনালি (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।

গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। এক কেজি থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের রুইমাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে। দেড় কেজির আশপাশের বোয়াল মাছের কেজি চাওয়া হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। কাতলা মাছ ৪০০ টাকা। এমনকি ছোট আকারের পাঙ্গাস মাছের দামও দুইশ ছুঁইছুঁই।

বাজারে এই সপ্তাহে গরু মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৬০-৫৮০ টাকা কেজি। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।

শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ , ০৭ কার্তিক ১৪২৮ ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নিয়ন্ত্রণহীন বাজার

মুরগি ও সবজির দাম নাগালের বাইরে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

image

মুরগির দামে স্বস্তি মিলছে না কিছুতেই। দীর্ঘদিন ধরে এই পণ্যটির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। তাই নিম্নবিত্ত অনেক পরিবার মুরগি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা আশা করছে, হয়তো আগামী সপ্তাহে দাম কিছুটা কমবে এবং তারাও মুরগি কিনবে। কিন্তু, তা আর হচ্ছে না। সপ্তাহের পর সপ্তাহ যায়, কিন্তু মুরগির দাম আর কমছে না, উল্টো বাড়ছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিকেজিতে দাম বেড়েছে বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা।

গতকাল কারওয়ান বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী মো. হাসান ইকবালের সঙ্গে। তিনি জানান, যখন প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যেত, তখন প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের একটি মুরগি কিনতেন। এখন আর কিনতে পারেন না।

তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ থেকে মুরগির দাম বাড়তি থাকার কারণে মুরগি কেনা বাদ দিয়েছি। দাম কমলে কিনব। প্রতি সপ্তাহেই মনে করছি, এবার হয়তো দাম কমবে। কিন্তু দাম আর কমে না। আর অন্য বাজারের টাকা বাঁচিয়ে যে মুরগি কিনব তাও হচ্ছে না। কারণ, শুধু মুরগিই নয়, পেঁয়াজ, তেল, আটাসহ সব জিনিসেরই দাম বেশি। এভাবে চলতে থাকলে কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না।’

গতকাল কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা দাম বেড়েছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, বেগুন (গোল) ৮০ টাকায়, বেগুন (লম্বা) ৬০ টাকায়, ফুল কপি প্রতি পিস ৬০ টাকায়, করলা ৬০ টাকায়, টমেটো ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, বরবটি ৮০ টাকায়। চায়না গাজর প্রতিকেজি ১৬০ টাকায়, চাল কুমড়া পিস ৪০ টাকায়, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকায়, চিচিঙা ৬০ টাকা, পোটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা ও পেঁপের কেজি ২০ টাকা।

এ সব বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজের কেজি ৭০ টাকা। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।

আমদানি করা পণ্যের দাম হয়তো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু দেশে উৎপাদিত সবজির দাম কেন সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, প্রশ্ন হাসান ইকবালের। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু সবজি তো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনা হচ্ছে না। তাহলে কেন দাম বাড়ছে?’ সরকার কি তাহলে দেশের ব্যবসায়ীদের মনিটরিং করতে ব্যর্থ হচ্ছে- প্রশ্ন হাসান ইকবালের।

এইসব বাজারে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে, গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পেঁপে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। এছাড়া শুকনা মরিচ প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, রসুনের কেজি ৮০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। চায়না আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। কাঁচা হলুদের কেজি ১৬০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় ডাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। দেশি ডাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

এসব বাজারে ভোজ্যতেলের প্রতি লিটার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এছাড়াও বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। প্যাকেট চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। আটা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। বাজারে অপরিবর্তিত আছে ডিমের দাম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা। সোনালি (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।

গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ মাছ। এক কেজি থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের রুইমাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে। দেড় কেজির আশপাশের বোয়াল মাছের কেজি চাওয়া হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। কাতলা মাছ ৪০০ টাকা। এমনকি ছোট আকারের পাঙ্গাস মাছের দামও দুইশ ছুঁইছুঁই।

বাজারে এই সপ্তাহে গরু মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৬০-৫৮০ টাকা কেজি। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।