পিরোজপুরে এনজিওর ঋণ নিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

এনজিও ঋণ পরিশোধ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে পিরোজপুর সদর উপজেলায় স্ত্রী তাহমিনা বেগমকে (৪৪) কুপিয়ে হত্যা করেছেন পাষণ্ড স্বামী সত্তার শেখ। সত্তার শেখ (৫০) শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের মৃত আলী শেখের ছেলে।

গতকাল ভোরে হত্যাকারী স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ জা মো. মাসুদুজ্জামান।

নিহত তাহমিনার ছেলে রবিউল ইসলাম জানান, মায়ের নামে স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা সুদে ঋণ নিয়েছিলেন বাবা। এই ঋণ পরিশোধ নিয়ে বিভিন্ন সময় বাবা তার মা তাহমিনাকে মারধর করতেন। বৃহস্পতিবার তাদের একটি অটোরিকশা বাবা বিক্রি করার জন্য নিয়ে গেলে বাধা দিয়ে পরিবারের অন্যরা ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় বাবা সত্তার মাকে সন্ধ্যা থেকেই নানা হুমকি দিয়ে আসছিল বলে রাতে তার মা তাহমিনা তাদের জানান। রাত ১২টা পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি পাশেই অন্য ঘরে ঘুমোতে যান।

সকালে বোন সনিয়া মাকে ডেকে সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের সামনে থেকে তালা মারা দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা ঘরের তালা খুলে দেখতে পায় মায়ের রক্তাক্ত দেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কামরুজ্জামান চান সরদার জানান, আবদুস সত্তার বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে পরিবারের মধ্যে কলহ লেগে থাকত। হয়তো এর জেরে সে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। পরে শুক্রবার ভোরে ঘাতক স্বামী তার ছোট কন্যা সাদিয়া আক্তারকে (৬) সঙ্গে নিয়ে থানায় হাজির হন।

শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ , ০৭ কার্তিক ১৪২৮ ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পিরোজপুরে এনজিওর ঋণ নিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিনিধি, পিরোজপুর

এনজিও ঋণ পরিশোধ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে পিরোজপুর সদর উপজেলায় স্ত্রী তাহমিনা বেগমকে (৪৪) কুপিয়ে হত্যা করেছেন পাষণ্ড স্বামী সত্তার শেখ। সত্তার শেখ (৫০) শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের মৃত আলী শেখের ছেলে।

গতকাল ভোরে হত্যাকারী স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ জা মো. মাসুদুজ্জামান।

নিহত তাহমিনার ছেলে রবিউল ইসলাম জানান, মায়ের নামে স্থানীয় বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা সুদে ঋণ নিয়েছিলেন বাবা। এই ঋণ পরিশোধ নিয়ে বিভিন্ন সময় বাবা তার মা তাহমিনাকে মারধর করতেন। বৃহস্পতিবার তাদের একটি অটোরিকশা বাবা বিক্রি করার জন্য নিয়ে গেলে বাধা দিয়ে পরিবারের অন্যরা ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় বাবা সত্তার মাকে সন্ধ্যা থেকেই নানা হুমকি দিয়ে আসছিল বলে রাতে তার মা তাহমিনা তাদের জানান। রাত ১২টা পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি পাশেই অন্য ঘরে ঘুমোতে যান।

সকালে বোন সনিয়া মাকে ডেকে সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের সামনে থেকে তালা মারা দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা ঘরের তালা খুলে দেখতে পায় মায়ের রক্তাক্ত দেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।

ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কামরুজ্জামান চান সরদার জানান, আবদুস সত্তার বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে পরিবারের মধ্যে কলহ লেগে থাকত। হয়তো এর জেরে সে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। পরে শুক্রবার ভোরে ঘাতক স্বামী তার ছোট কন্যা সাদিয়া আক্তারকে (৬) সঙ্গে নিয়ে থানায় হাজির হন।