অতি বৃষ্টিতে আমনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় গত দুই দিনের অতি বৃষ্টিতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করেছে কৃষকরা। বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় ধান গাছ নুয়ে পড়ে ডুবে গেছে। অনেক ফসলি ধানের জমি ইতোমধ্যে বৃষ্টি ও বাতাসে মাটিতে পড়ে গেছে। গত ২ দিনের থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কৃষকরা এ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ধান অপরিপক্ক হওয়ায় ধান গাছসহ ধান পচে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। অনেক নিচু যায়গায় ধান পানিতে ডুবে যাওয়া ও ধানগাছ পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। জলাবদ্ধতার কারণে রোপণকৃত বীজ ও ফসলে পচন ধরেছে। পানি দ্রুত না সরলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।

গত শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন খেতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। অনেক কৃষকের আমন ধান জমিতে শুয়ে গেছে। আধাপাকা আমন ধানও মাটিতে নুয়ে পড়েছে। খেতে কেটে রাখা আগাম জাতের ধান পানিতে ভেসে আছে। বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদের, মনোরঞ্জন রায়, সলেমান আলী জানান, টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে আমাদের খেতের ধানগুলো জমিতে জমে থাকা পানিতে ডুবে আছে। এভাবে কয়েকদিন থাকলে ধান সম্পূর্ণরুপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনিতেই পোকার আক্রমণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। একই খেতে ৪ থেকে ৫ বার কীটনাশক প্রয়োগ করে কিছুটা ফসল রক্ষা হয়েছে। কিন্তু অকাল বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। ডোমার সদর ইউনিয়নের কৃষক মো.মশিউর রহমান বলেন, আমার ৬ বিঘা জমিতে আমি আমন ধান রোপণ করেছি। কিন্ত হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর দমকা হাওয়াতে ২ বিঘা জমির ধানের গাছ শুয়ে গেছে, জানিনা এখন কী হবে। কৃষক সাগিন বলেন, আমি ২ বিঘা জমি মানুষে কাজ থেকে বর্গা নিয়েছি। সেই জমিতে আমন ধান লাগিয়েছি টানা দুই দিন ধরে বৃষ্টিতে আমার ১ বিঘা জমির ধানগাছ শুয়ে গেছে, এখন একমাত্র আল্লাহ ভরসা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিছুজ্জামান জানান, অকাল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় অনেক কৃষকের ধান জমিতে নুয়ে পড়েছে ও পানিতে ডুবে গেছে। তবে এখন আবহাওয়া ভালো রয়েছে।

ডুবে যাওয়া ফসলের খেতের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এতে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১ , ০৮ কার্তিক ১৪২৮ ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অতি বৃষ্টিতে আমনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

প্রতিনিধি, ডোমার (নীলফামারী)

image

ডোমার (নীলফারী) : দুই দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া প্রায় পাকা আমন ক্ষেত -সংবাদ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় গত দুই দিনের অতি বৃষ্টিতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করেছে কৃষকরা। বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় ধান গাছ নুয়ে পড়ে ডুবে গেছে। অনেক ফসলি ধানের জমি ইতোমধ্যে বৃষ্টি ও বাতাসে মাটিতে পড়ে গেছে। গত ২ দিনের থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কৃষকরা এ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ধান অপরিপক্ক হওয়ায় ধান গাছসহ ধান পচে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। অনেক নিচু যায়গায় ধান পানিতে ডুবে যাওয়া ও ধানগাছ পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। জলাবদ্ধতার কারণে রোপণকৃত বীজ ও ফসলে পচন ধরেছে। পানি দ্রুত না সরলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।

গত শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন খেতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। অনেক কৃষকের আমন ধান জমিতে শুয়ে গেছে। আধাপাকা আমন ধানও মাটিতে নুয়ে পড়েছে। খেতে কেটে রাখা আগাম জাতের ধান পানিতে ভেসে আছে। বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদের, মনোরঞ্জন রায়, সলেমান আলী জানান, টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে আমাদের খেতের ধানগুলো জমিতে জমে থাকা পানিতে ডুবে আছে। এভাবে কয়েকদিন থাকলে ধান সম্পূর্ণরুপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনিতেই পোকার আক্রমণে অনেক ক্ষতি হয়েছে। একই খেতে ৪ থেকে ৫ বার কীটনাশক প্রয়োগ করে কিছুটা ফসল রক্ষা হয়েছে। কিন্তু অকাল বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। ডোমার সদর ইউনিয়নের কৃষক মো.মশিউর রহমান বলেন, আমার ৬ বিঘা জমিতে আমি আমন ধান রোপণ করেছি। কিন্ত হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর দমকা হাওয়াতে ২ বিঘা জমির ধানের গাছ শুয়ে গেছে, জানিনা এখন কী হবে। কৃষক সাগিন বলেন, আমি ২ বিঘা জমি মানুষে কাজ থেকে বর্গা নিয়েছি। সেই জমিতে আমন ধান লাগিয়েছি টানা দুই দিন ধরে বৃষ্টিতে আমার ১ বিঘা জমির ধানগাছ শুয়ে গেছে, এখন একমাত্র আল্লাহ ভরসা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিছুজ্জামান জানান, অকাল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় অনেক কৃষকের ধান জমিতে নুয়ে পড়েছে ও পানিতে ডুবে গেছে। তবে এখন আবহাওয়া ভালো রয়েছে।

ডুবে যাওয়া ফসলের খেতের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এতে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।