মিতু হত্যার আসামি ভোলা বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি এহতেশামুল হক ভোলাকে যশোরের বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার রাতে ভোলাকে বেনাপোল থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। গতকাল দুপুরে তাকে মিতু হত্যা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই, চট্টগ্রাম মহানগরের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ২৭ জুন নগরীর বাকলিয়া এলাকা থেকে মিতু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলিসহ এহতেশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মো. মনিরকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর জামিনে কারামুক্তি পান এহতেশামুল হক।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর। এরপর আস্তে আস্তে জট খুলতে থাকে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী চাঞ্চল্যকর এই মামলার। চলতি বছরের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের লক্ষ্যে ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

আগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেনÑ মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু এবং শাহজাহান মিয়া। ওইদিনই (১২ মে) বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দ্বিতীয় মামলায় জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে গিয়ে ব্যর্থ হন এহতেশামুল হক ভোলা। পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের তোড়জোড়ের মধ্যে ভোলা যশোরের বেনাপোলে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ভোলা।

রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১ , ০৮ কার্তিক ১৪২৮ ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মিতু হত্যার আসামি ভোলা বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি এহতেশামুল হক ভোলাকে যশোরের বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার রাতে ভোলাকে বেনাপোল থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। গতকাল দুপুরে তাকে মিতু হত্যা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই, চট্টগ্রাম মহানগরের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে। স্ত্রী খুনের ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ২৭ জুন নগরীর বাকলিয়া এলাকা থেকে মিতু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলিসহ এহতেশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মো. মনিরকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর জামিনে কারামুক্তি পান এহতেশামুল হক।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার পড়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর। এরপর আস্তে আস্তে জট খুলতে থাকে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী চাঞ্চল্যকর এই মামলার। চলতি বছরের ১১ মে বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের লক্ষ্যে ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

আগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ১২ মে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তারসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বাকি সাত আসামি হলেনÑ মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক প্রকাশ হানিফুল হক প্রকাশ ভোলাইয়া, মো. মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু, মো. সাইদুল ইসলাম সিকদার সাক্কু এবং শাহজাহান মিয়া। ওইদিনই (১২ মে) বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দ্বিতীয় মামলায় জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে গিয়ে ব্যর্থ হন এহতেশামুল হক ভোলা। পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের তোড়জোড়ের মধ্যে ভোলা যশোরের বেনাপোলে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ভোলা।