সনদবিহীন ১৪ শিক্ষক অব্যাহতির পরও খণ্ডকালীন হিসেবে বহাল!

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জাল সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছিলেন কলেজ শিক্ষক মালেকা খাতুন। বিষয়টি জানার পর এক বছর আগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর সহকারী পরিচালক (পমূপ্র-৩) তাজুল ইসলাম নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার, কিন্তু আজো হয়নি। শুধু তাই নয়, ১৪ জন শিক্ষকের নেই কোনো নিবন্ধন সনদ। সরিষাবাড়ীর মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজে এভাবেই চলছে শিক্ষাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।

কলেজের গভর্নিং বডির সভায় জাল সনদধারী শিক্ষক মালেকা খাতুনসহ ১৪ জন প্রভাষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ না থাকায় তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাগজে কলমে অব্যাহতি দিলেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কলেজে কর্মরত রাখা হয়েছে এবং তাদের বেতন ভাতাও সঠিক সময়ে দেয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রভাষক বলেন, আমরা এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কলেজ অংশের বেতন দেয়া হচ্ছে না। আমাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক মালেকা খাতুন কাজীপুর উপজেলার মাজনাবাড়ী গ্রামের এম.ডি জলিল মণ্ডলের কন্যা। তিনি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জাল সনদ দিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এনটিআরসিএ’র সনদ জাল করে মালেকা খাতুন ২০১১ সালে সরিষাবাড়ী মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স শাখায় প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তার জাল সনদের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। অবশেষে কলেজ কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ মালেকা খাতুনের দাখিলকৃত নিবন্ধন সনদ যাচাই করে। যাচাইয়ের পরে এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক (পমূপ্র-৩) তাজুল ইসলাম ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং ৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০২.২০.১৭২৭ নং স্মারকে সংশ্লিষ্ট কলেজে পত্র প্রেরণ করেন। ওই পত্রে প্রভাষক মালেকা খাতুনের জমা দেয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল ও ভুয়া বলে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার জন্য অধ্যক্ষকে নির্দেশনা দেন ও অফিসার ইনচার্জ, সরিষাবাড়ী থানাকে অনুলিপি দেন।

এনটিআরসিএ’র পত্র সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মালেকা খাতুনের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পাশের সনদটি ৪র্থ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা- ২০০৮ এর রোল নং ২০৩১৩২৮৪ এবং রেজিস্ট্রেশন নং ৮০০১৫২৬৬ কিন্তু অনুত্তীর্ণ।

এ ব্যাপারে মালেকা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এখনো সরিষাবাড়ী মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজে কর্মরত আছি। আমি একজন মহিলা মানুষ যাতে আমার সমস্যা না হয় বিষয়টি দেখবেন।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূরুন নাহার জানান, এনটিআরসিএ’র পত্রের প্রেক্ষিতে গতবছরের ৭ ডিসেম্বর গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাল সনদধারী প্রভাষক মালেকা খাতুনসহ অনার্স শাখায় কর্মরত শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিহীন ও আইনের পরিপন্থী নিয়োগ দেয়ায় ১৪ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আগের কমিটি নিয়োগ দিয়েছে কিভাবে তা আমি জানি না।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, পারিপার্শ্বিকতা ও সামাজিকতা রক্ষার স্বার্থে তাদেরকে খণ্ডকালীন হিসেবে রাখা হয়েছে। যেহেতু এতগুলো শিক্ষক একবারে চলে গেলে ক্লাসের সমস্যা হবে।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই, জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অধ্যক্ষ সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১ , ০৮ কার্তিক ১৪২৮ ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সরিষাবাড়ী মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজ

সনদবিহীন ১৪ শিক্ষক অব্যাহতির পরও খণ্ডকালীন হিসেবে বহাল!

প্রতিনিধি, সরিষাবাড়ী ( জামালপুর)

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জাল সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছিলেন কলেজ শিক্ষক মালেকা খাতুন। বিষয়টি জানার পর এক বছর আগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর সহকারী পরিচালক (পমূপ্র-৩) তাজুল ইসলাম নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার, কিন্তু আজো হয়নি। শুধু তাই নয়, ১৪ জন শিক্ষকের নেই কোনো নিবন্ধন সনদ। সরিষাবাড়ীর মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজে এভাবেই চলছে শিক্ষাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।

কলেজের গভর্নিং বডির সভায় জাল সনদধারী শিক্ষক মালেকা খাতুনসহ ১৪ জন প্রভাষকের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ না থাকায় তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাগজে কলমে অব্যাহতি দিলেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কলেজে কর্মরত রাখা হয়েছে এবং তাদের বেতন ভাতাও সঠিক সময়ে দেয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রভাষক বলেন, আমরা এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কলেজ অংশের বেতন দেয়া হচ্ছে না। আমাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক মালেকা খাতুন কাজীপুর উপজেলার মাজনাবাড়ী গ্রামের এম.ডি জলিল মণ্ডলের কন্যা। তিনি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জাল সনদ দিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এনটিআরসিএ’র সনদ জাল করে মালেকা খাতুন ২০১১ সালে সরিষাবাড়ী মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স শাখায় প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তার জাল সনদের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। অবশেষে কলেজ কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ মালেকা খাতুনের দাখিলকৃত নিবন্ধন সনদ যাচাই করে। যাচাইয়ের পরে এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক (পমূপ্র-৩) তাজুল ইসলাম ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং ৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০২.২০.১৭২৭ নং স্মারকে সংশ্লিষ্ট কলেজে পত্র প্রেরণ করেন। ওই পত্রে প্রভাষক মালেকা খাতুনের জমা দেয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল ও ভুয়া বলে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার জন্য অধ্যক্ষকে নির্দেশনা দেন ও অফিসার ইনচার্জ, সরিষাবাড়ী থানাকে অনুলিপি দেন।

এনটিআরসিএ’র পত্র সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক মালেকা খাতুনের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পাশের সনদটি ৪র্থ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা- ২০০৮ এর রোল নং ২০৩১৩২৮৪ এবং রেজিস্ট্রেশন নং ৮০০১৫২৬৬ কিন্তু অনুত্তীর্ণ।

এ ব্যাপারে মালেকা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এখনো সরিষাবাড়ী মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজে কর্মরত আছি। আমি একজন মহিলা মানুষ যাতে আমার সমস্যা না হয় বিষয়টি দেখবেন।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূরুন নাহার জানান, এনটিআরসিএ’র পত্রের প্রেক্ষিতে গতবছরের ৭ ডিসেম্বর গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাল সনদধারী প্রভাষক মালেকা খাতুনসহ অনার্স শাখায় কর্মরত শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বিহীন ও আইনের পরিপন্থী নিয়োগ দেয়ায় ১৪ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আগের কমিটি নিয়োগ দিয়েছে কিভাবে তা আমি জানি না।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, পারিপার্শ্বিকতা ও সামাজিকতা রক্ষার স্বার্থে তাদেরকে খণ্ডকালীন হিসেবে রাখা হয়েছে। যেহেতু এতগুলো শিক্ষক একবারে চলে গেলে ক্লাসের সমস্যা হবে।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই, জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অধ্যক্ষ সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।