অপরাধ ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে

আগামী জুনে চালু করা সম্ভব হবে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবোঝাই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ প্রায় ৩০ হাজার যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। এ সব যানবাহনে রপ্তানি করা পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এ মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা-নেয়া করা হয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গভীর রাতে পণ্যবাহী যানবাহন থেকে মালামাল চুরি, ডাকাতি ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ঈদসহ বিভিন্ন ছুটির সময় মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা গেছে, মহাসড়কে সব ধরনের অপরাধ দমনে সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হচ্ছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ৪৯০টি পয়েন্টে সিসি ক্যামরা স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে কাজও চলছে। আগামী বছরের জুনের আগেই সিসি ক্যামরা স্থাপনের কাজ শেষ করে তা চালু করার টার্গেট আছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান সংবাদকে মুঠোফোনে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আড়াইশ কিলোমিটার রাস্তা সিসি ক্যামরার আওতায় আসলে সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক মনিটরিং সিস্টেম থাকবে। মহাসড়কে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষনিকভাবে জানা যাবে। এমনকি মোবাইল ফোনে মহাসড়কের অপরাধের তথ্য জানা যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে গর্মেন্টেসের পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের মালামাল চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় পথে পথে চাঁদবাজি, এমনকি রাতে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে মালামাল লুট করা হয়েছে। করোনা মহামারীর সময় ভোরবেলায় প্রাইভেটকারের যাত্রীরা দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েছে। অনেকেই টাকা হারিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য মহাসড়কের যানবাহন আটক করে চাঁদাবাজি করেছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় ঘটছে। বিশেষ করে ঈদের সময় এ সব ঘটনা বেশি ঘটছে।

মহাসড়কের অপরাধ নিয়ে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। আর অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। একাধিক মিটিং ও আলোচনার প্রেক্ষিতে মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়। এরপরও জনবল, যানবাহন ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

অবশেষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হচ্ছে। মেঘনাঘাটসহ পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে ডাটা মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। ওই মনিটরিং সেন্টারে ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে হাইওয়ে পুলিশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে থাকবে তিন হাজারেও বেশি অত্যাধুনিক ক্যামরা বসানো থাকবে।

সূত্র জানায়, মহাসড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ সব যানবাহন শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একটি গাড়ি আরেকটি গাড়িকে পাস কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, দুর্ঘটনার কবলে পড়লে, রাস্তায় কোন কোন পয়েন্টে যানজট আছে, সব কিছু মনিটরিং করার জন্য চীনের তৈরি সরঞ্জাম স্থাপন করার কাজ চলছে। বিটিসিএলের প্রধান কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদকে জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাইওয়ে পুলিশের সিসি ক্যামরা থেকে মনিটিং সেন্টারের সংযোগে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইকার ক্যাবল ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রতিটি ক্যামরা থেকে মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে রাস্তার নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ সব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এ নিয়ে সম্প্রতি হাইওয়ে পুলিশ ও বিটিসিএলের মধ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শনিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২১ , ১৪ কার্তিক ১৪২৮ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে

অপরাধ ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে

আগামী জুনে চালু করা সম্ভব হবে

বাকী বিল্লাহ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবোঝাই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ প্রায় ৩০ হাজার যানবাহন নিয়মিত চলাচল করে। এ সব যানবাহনে রপ্তানি করা পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এ মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা-নেয়া করা হয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গভীর রাতে পণ্যবাহী যানবাহন থেকে মালামাল চুরি, ডাকাতি ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ঈদসহ বিভিন্ন ছুটির সময় মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা গেছে, মহাসড়কে সব ধরনের অপরাধ দমনে সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হচ্ছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ৪৯০টি পয়েন্টে সিসি ক্যামরা স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে কাজও চলছে। আগামী বছরের জুনের আগেই সিসি ক্যামরা স্থাপনের কাজ শেষ করে তা চালু করার টার্গেট আছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান সংবাদকে মুঠোফোনে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আড়াইশ কিলোমিটার রাস্তা সিসি ক্যামরার আওতায় আসলে সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক মনিটরিং সিস্টেম থাকবে। মহাসড়কে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষনিকভাবে জানা যাবে। এমনকি মোবাইল ফোনে মহাসড়কের অপরাধের তথ্য জানা যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে গর্মেন্টেসের পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের মালামাল চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় পথে পথে চাঁদবাজি, এমনকি রাতে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে মালামাল লুট করা হয়েছে। করোনা মহামারীর সময় ভোরবেলায় প্রাইভেটকারের যাত্রীরা দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েছে। অনেকেই টাকা হারিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য মহাসড়কের যানবাহন আটক করে চাঁদাবাজি করেছে। এ ধরনের ঘটনা প্রায় ঘটছে। বিশেষ করে ঈদের সময় এ সব ঘটনা বেশি ঘটছে।

মহাসড়কের অপরাধ নিয়ে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। আর অপরাধ প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। একাধিক মিটিং ও আলোচনার প্রেক্ষিতে মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়। এরপরও জনবল, যানবাহন ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

অবশেষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হচ্ছে। মেঘনাঘাটসহ পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে ডাটা মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। ওই মনিটরিং সেন্টারে ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে হাইওয়ে পুলিশের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে থাকবে তিন হাজারেও বেশি অত্যাধুনিক ক্যামরা বসানো থাকবে।

সূত্র জানায়, মহাসড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ সব যানবাহন শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একটি গাড়ি আরেকটি গাড়িকে পাস কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, দুর্ঘটনার কবলে পড়লে, রাস্তায় কোন কোন পয়েন্টে যানজট আছে, সব কিছু মনিটরিং করার জন্য চীনের তৈরি সরঞ্জাম স্থাপন করার কাজ চলছে। বিটিসিএলের প্রধান কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদকে জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাইওয়ে পুলিশের সিসি ক্যামরা থেকে মনিটিং সেন্টারের সংযোগে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইকার ক্যাবল ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রতিটি ক্যামরা থেকে মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে রাস্তার নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ সব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এ নিয়ে সম্প্রতি হাইওয়ে পুলিশ ও বিটিসিএলের মধ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।