চলন্ত বাস থেকে ছিটকে পড়ে শিশু নিহত, চালক-হেলপার গ্রেপ্তার

রাজধানীর প্রগতি সরণিতে রাইদা পরিবহনের একটি চলন্ত বাস থেকে ছিটকে পড়ে শিশু মরিয়ম আক্তার (১০) মারা যায়। নামার আগেই বাস টান দিলে মরিয়ম ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তারা হলো- চালক রাজু মিয়া ও হেলপার ইমরান হোসেন। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর ও গাজীপুরের টঙ্গী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু নিহতের এই ঘটনা সম্পূর্ণ ক্লুলেস ছিল। ৫০টির বেশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র?্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রগতি সরণি থেকে শিশু মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটি বাস থেকে পড়ার পর হামলা, ভাঙচুরের ভয়ে চালক দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যান। ফিরতি যাত্রার সময় জানতে পারেন, শিশুটি মারা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয়টি তারা অবগত হন। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে গাড়িচালক ও তার সহকারী আত্মগোপনে চলে যান।

রাইদা পরিবহনটিতে ওই সময় গেটলক সার্ভিস চালু ছিল। শিশুটি ফুল বিক্রির পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা চাইতো ওই বাসে ভিক্ষা করতে উঠেছিল। একই সময় বাসচালকের সহকারী ইমরান যাত্রীদের থেকে ভাড়া তুলছিলেন। ইমরান শিশুটিকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন এবং গাড়িচালককে গতি কমাতে অনুরোধ করেন। গাড়ির গতি ছিল ৩০-৪০ কিলোমিটার। এ অবস্থায় গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে যায় মরিয়ম। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা রনি মিয়া ভাটারা থানায় মামলা করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আল মঈন আরও বলেন, বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা মেয়েটিকে পড়ে যেতে দেখে বাস থামাতে বলেন। কিন্তু পেছনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস থাকায় হামলা ও ভাঙচুরের ভয়ে চালক দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। রাইদা পরিবহন পোস্তগোলা থেকে দিয়াবাড়ীতে যায়। শিশুটি দুর্ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাসটিকে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের একটি বাস ডিপোতে রেখে পালিয়ে ছিলেন। রাজু প্রায় ৬ বছর রাইদা পরিবহনের গাড়ি চালানোর কাজ করছেন। ইমরান আগে গার্মেন্টসের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মাস ছয়েক আগে রাইদায় বাস চালকের হেলপার হিসেবে যোগ দেন।

শিশু মরিয়ম তার পরিবারের সঙ্গে খিলক্ষেতের কুড়াতলী এলাকায় থাকতো। তার বাবা রনি একজন প্রাইভেটকারচালক। মরিয়ম ২০১৯ সালে স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। তবে, অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার দিন সকালে মরিয়ম বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পথচারী ও বাস যাত্রীদের কাছে ঘুরে ঘুরে সাহায্য চাচ্ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে র‌্যাব বলছে, মরিয়ম হেঁটে হেঁটে প্রগতি সরণির ফুটওভারব্রিজ অতিক্রম করে। এরপর সে রাইদা সিটিং সার্ভিসের একটি বাসে ওঠে। বাসটি সামনে যেতেই একজন পথচারীকে হাত দিয়ে ইশারা করতে থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরার এক ফ্রেমের ঠিক পেছনে ভিকটিম মরিয়মকে আহতাবস্থায় পাওয়া যায়। সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থান এবং সময় বিবেচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, এখানেই মৃত্যু হয় শিশু মরিয়মের।

রবিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২১ , ২৯ কার্তিক ১৪২৮ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

চলন্ত বাস থেকে ছিটকে পড়ে শিশু নিহত, চালক-হেলপার গ্রেপ্তার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

রাজধানীর প্রগতি সরণিতে রাইদা পরিবহনের একটি চলন্ত বাস থেকে ছিটকে পড়ে শিশু মরিয়ম আক্তার (১০) মারা যায়। নামার আগেই বাস টান দিলে মরিয়ম ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তারা হলো- চালক রাজু মিয়া ও হেলপার ইমরান হোসেন। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর ও গাজীপুরের টঙ্গী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু নিহতের এই ঘটনা সম্পূর্ণ ক্লুলেস ছিল। ৫০টির বেশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র?্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রগতি সরণি থেকে শিশু মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটি বাস থেকে পড়ার পর হামলা, ভাঙচুরের ভয়ে চালক দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যান। ফিরতি যাত্রার সময় জানতে পারেন, শিশুটি মারা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয়টি তারা অবগত হন। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে গাড়িচালক ও তার সহকারী আত্মগোপনে চলে যান।

রাইদা পরিবহনটিতে ওই সময় গেটলক সার্ভিস চালু ছিল। শিশুটি ফুল বিক্রির পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা চাইতো ওই বাসে ভিক্ষা করতে উঠেছিল। একই সময় বাসচালকের সহকারী ইমরান যাত্রীদের থেকে ভাড়া তুলছিলেন। ইমরান শিশুটিকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন এবং গাড়িচালককে গতি কমাতে অনুরোধ করেন। গাড়ির গতি ছিল ৩০-৪০ কিলোমিটার। এ অবস্থায় গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে যায় মরিয়ম। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা রনি মিয়া ভাটারা থানায় মামলা করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আল মঈন আরও বলেন, বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা মেয়েটিকে পড়ে যেতে দেখে বাস থামাতে বলেন। কিন্তু পেছনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস থাকায় হামলা ও ভাঙচুরের ভয়ে চালক দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। রাইদা পরিবহন পোস্তগোলা থেকে দিয়াবাড়ীতে যায়। শিশুটি দুর্ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাসটিকে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের একটি বাস ডিপোতে রেখে পালিয়ে ছিলেন। রাজু প্রায় ৬ বছর রাইদা পরিবহনের গাড়ি চালানোর কাজ করছেন। ইমরান আগে গার্মেন্টসের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মাস ছয়েক আগে রাইদায় বাস চালকের হেলপার হিসেবে যোগ দেন।

শিশু মরিয়ম তার পরিবারের সঙ্গে খিলক্ষেতের কুড়াতলী এলাকায় থাকতো। তার বাবা রনি একজন প্রাইভেটকারচালক। মরিয়ম ২০১৯ সালে স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। তবে, অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার দিন সকালে মরিয়ম বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পথচারী ও বাস যাত্রীদের কাছে ঘুরে ঘুরে সাহায্য চাচ্ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে র‌্যাব বলছে, মরিয়ম হেঁটে হেঁটে প্রগতি সরণির ফুটওভারব্রিজ অতিক্রম করে। এরপর সে রাইদা সিটিং সার্ভিসের একটি বাসে ওঠে। বাসটি সামনে যেতেই একজন পথচারীকে হাত দিয়ে ইশারা করতে থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরার এক ফ্রেমের ঠিক পেছনে ভিকটিম মরিয়মকে আহতাবস্থায় পাওয়া যায়। সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থান এবং সময় বিবেচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, এখানেই মৃত্যু হয় শিশু মরিয়মের।