আরও বিষাক্ত হচ্ছে দিল্লির বাতাস

সরকারের উদাসীনতায় ক্ষিপ্ত প্রধান বিচারপতি

নভেম্বরের শুরু থেকে দিল্লির বাতাস যেন আরও ভারি হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় যেন ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে রাজধানীজুড়ে। দিনের আলোয় এই রাজধানী শহরের আকাশ দেখে মনে হবে ঘন-কুয়াশায় চেয়ে গেছে। সহসাই এই পরিস্থতির উন্নতি হচ্ছে না বলে আভাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। গতকাল দিল্লির বায়ু মান সূচক আরও কিছুটা বেড়ে গত শুক্রবার বিকেল ৪টা নাগাদ দাঁড়ায় ৪৭১।

অতিরিক্ত দূষণের ফলে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিমকোর্ট। শুনানিতে দেশটির প্রধান বিচারপত এনভি রামানা বলেছেন, অবস্থা কত খারাপ দেখেছেন আমাদের ঘরেও মাস্ক পরে থাকতে হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশের পর জরুরি বৈঠকে বসছে দিল্লি ও কেন্দ্র। এতে অংশ নেবে হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব সরকারও।

এদিন সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভারতের প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকারের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বিষয়টি দেখুন। এমন কিছু হওয়া দরকার যাতে আমরা অন্তত আগামী দু-তিন দিনের জন্য কিছুটা স্বস্তিবোধ করি।

দিল্লির বায়ুদূষণ পুরোনো হলেও সপ্তাহখানেক ধরে তা বিপজ্জনক সীমার অনেক ওপরে রয়েছে। এ সপ্তাহেই চলতি বছরের সবচেয়ে দূষিত বায়ু রেকর্ড হয়েছে ভারতীয় রাজধানীতে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কারণে দিল্লিবাসীকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক গবেষণায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দিনে ১৫-২০টি সিগারেট খেলে ফুসফুসের যতটা ক্ষতি হয়, দিল্লিতে বায়ুদূষণের কারণে সাধারণ মানুষের অবস্থা সে রকমই।

আদালতে রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা মেনে নিয়েছেন, বর্তমানে দিল্লির বায়ুতে শ্বাস নেয়া দিনে ২০টি সিগারেট টানার সমান ক্ষতিকর। এদিন দুপুরেও দিল্লির একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) ৬৫৩ পিএম ২.৫ দেখা গেছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

শুনানিতে অবশ্য দিল্লির বায়ুদূষণের দোষ পাঞ্জাবের কৃষকদের ঘাড়ে চাপাতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের প্রতিনিধি আদালতে বলেন, আমরা খড় পোড়ানো বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু গত পাঁচ-ছয় দিন আমরা যে বায়ুদূষণ দেখছি, তা পাঞ্জাবে খড় পোড়ানোর কারণেই। এটি রাজ্য সরকারকে সামলাতে হবে...।

তাৎক্ষণিক এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, দূষণ কৃষকদের জন্য হয়েছে এমনটা কেন বোঝাতে চাচ্ছেন? তারা সামান্য একটি অংশ মাত্র। দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে আপনারা কী করছিলেন? এসময় বিচাপতি ডিওয়াই চন্দ্রদূত বলেন, কৃষকরা প্রণোদনা না পেলে পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, কৃষকদের মারা সবার কাছে যেন একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রবিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২১ , ২৯ কার্তিক ১৪২৮ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

আরও বিষাক্ত হচ্ছে দিল্লির বাতাস

সরকারের উদাসীনতায় ক্ষিপ্ত প্রধান বিচারপতি

image

নভেম্বরের শুরু থেকে দিল্লির বাতাস যেন আরও ভারি হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় যেন ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে রাজধানীজুড়ে। দিনের আলোয় এই রাজধানী শহরের আকাশ দেখে মনে হবে ঘন-কুয়াশায় চেয়ে গেছে। সহসাই এই পরিস্থতির উন্নতি হচ্ছে না বলে আভাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। গতকাল দিল্লির বায়ু মান সূচক আরও কিছুটা বেড়ে গত শুক্রবার বিকেল ৪টা নাগাদ দাঁড়ায় ৪৭১।

অতিরিক্ত দূষণের ফলে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিমকোর্ট। শুনানিতে দেশটির প্রধান বিচারপত এনভি রামানা বলেছেন, অবস্থা কত খারাপ দেখেছেন আমাদের ঘরেও মাস্ক পরে থাকতে হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশের পর জরুরি বৈঠকে বসছে দিল্লি ও কেন্দ্র। এতে অংশ নেবে হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব সরকারও।

এদিন সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভারতের প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকারের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বিষয়টি দেখুন। এমন কিছু হওয়া দরকার যাতে আমরা অন্তত আগামী দু-তিন দিনের জন্য কিছুটা স্বস্তিবোধ করি।

দিল্লির বায়ুদূষণ পুরোনো হলেও সপ্তাহখানেক ধরে তা বিপজ্জনক সীমার অনেক ওপরে রয়েছে। এ সপ্তাহেই চলতি বছরের সবচেয়ে দূষিত বায়ু রেকর্ড হয়েছে ভারতীয় রাজধানীতে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কারণে দিল্লিবাসীকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক গবেষণায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দিনে ১৫-২০টি সিগারেট খেলে ফুসফুসের যতটা ক্ষতি হয়, দিল্লিতে বায়ুদূষণের কারণে সাধারণ মানুষের অবস্থা সে রকমই।

আদালতে রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা মেনে নিয়েছেন, বর্তমানে দিল্লির বায়ুতে শ্বাস নেয়া দিনে ২০টি সিগারেট টানার সমান ক্ষতিকর। এদিন দুপুরেও দিল্লির একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) ৬৫৩ পিএম ২.৫ দেখা গেছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

শুনানিতে অবশ্য দিল্লির বায়ুদূষণের দোষ পাঞ্জাবের কৃষকদের ঘাড়ে চাপাতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের প্রতিনিধি আদালতে বলেন, আমরা খড় পোড়ানো বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু গত পাঁচ-ছয় দিন আমরা যে বায়ুদূষণ দেখছি, তা পাঞ্জাবে খড় পোড়ানোর কারণেই। এটি রাজ্য সরকারকে সামলাতে হবে...।

তাৎক্ষণিক এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, দূষণ কৃষকদের জন্য হয়েছে এমনটা কেন বোঝাতে চাচ্ছেন? তারা সামান্য একটি অংশ মাত্র। দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে আপনারা কী করছিলেন? এসময় বিচাপতি ডিওয়াই চন্দ্রদূত বলেন, কৃষকরা প্রণোদনা না পেলে পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, কৃষকদের মারা সবার কাছে যেন একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।