মানিকগঞ্জের লেছড়াগঞ্জ-কাণ্ঠাপাড়া সড়ক

সংস্কার নেই ৬ বছর : দুর্ভোগে শিক্ষার্থীসহ ১৫ গ্রামের মানুষ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ বাজার থেকে যাত্রাপুর হয়ে কান্ঠাপাড়া বাজার সড়কের বেহাল অবস্থায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পুরো রাস্তাজুড়েই খানাখন্দ। কোথাও পিচ ঢালাই আছে, কোথাও নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই ভাঙ্গা স্থানগুলোতে পানি-কাদায় একাকার হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করছেন এলাকাবাসীসহ দূরদূরান্তের লোকজন। প্রায় ৬ বছরের অধিক বেশি সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অবস্থা এখন নাজুক হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন স্থানীয়রা জানান, লেছড়াগঞ্জ বাজার এবং কাণ্ঠাপাড়া বাজারে যাবার দূরত্ব কম হওয়ায় ১০-১৫টি গ্রামের মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়া যাত্রাপুর হাইস্কুলসহ সরকারি বিচারপতি নূরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়াও লেছড়াগঞ্জ বাজার থেকে কাণ্ঠাপাড়া হয়ে বলড়া পর্যন্ত প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল চলাচল করে। রাস্তাটি অধিক ব্যস্ততম এবং জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।

আলম নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই ভোগান্তির শেষ থাকে না মানুষের। সব গর্তসহ সড়কে পানি জমে যায়। ফলে ছোট গর্ত আর বড় গর্ত বোঝার উপায় থাকে না। এতে করে অনেক সময় গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনাও ঘটে। এখন রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। অটোরিক্সা চালক বাবলু বলেন, এই রাস্তার দুই পাশ থেকে পীচ ঢালাই ভেঙ্গে গর্ত হয়ে গেছে। ফলে এ রাস্তা দিয়ে রিক্সা চালাতে অনেক কষ্ট হয়।

সরকারি বিচারপতি নূরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, রাস্তাটির অবস্থা খুবই নাজেহাল। বৃষ্টি হলে তো এখান দিয়ে যাতায়াত অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে রোগী নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ব্যাপারে বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান তুষার বলেন, এই রাস্তার ব্যপারে আমি দুটি সমন্বয় সভায় আলোচনা করেছি। উপজেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীসহ উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। রাস্তাটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি দ্রুত সংস্করণ করা দরকার।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, লেছড়াগঞ্জ-কান্ঠাপাড়া বাজার সড়কে রাস্তার কাজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, লেছড়াগঞ্জ-কান্ঠাপাড়া বাজার সড়কের কাজের টেন্ডার হয়ে গেছে। যেকোনো সময় কাজ শুরু হবে।

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

মানিকগঞ্জের লেছড়াগঞ্জ-কাণ্ঠাপাড়া সড়ক

সংস্কার নেই ৬ বছর : দুর্ভোগে শিক্ষার্থীসহ ১৫ গ্রামের মানুষ

image

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ বাজার থেকে যাত্রাপুর হয়ে কান্ঠাপাড়া বাজার সড়কের বেহাল অবস্থায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পুরো রাস্তাজুড়েই খানাখন্দ। কোথাও পিচ ঢালাই আছে, কোথাও নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই ভাঙ্গা স্থানগুলোতে পানি-কাদায় একাকার হয়ে যায়। ফলে দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করছেন এলাকাবাসীসহ দূরদূরান্তের লোকজন। প্রায় ৬ বছরের অধিক বেশি সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অবস্থা এখন নাজুক হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন স্থানীয়রা জানান, লেছড়াগঞ্জ বাজার এবং কাণ্ঠাপাড়া বাজারে যাবার দূরত্ব কম হওয়ায় ১০-১৫টি গ্রামের মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়া যাত্রাপুর হাইস্কুলসহ সরকারি বিচারপতি নূরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়াও লেছড়াগঞ্জ বাজার থেকে কাণ্ঠাপাড়া হয়ে বলড়া পর্যন্ত প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল চলাচল করে। রাস্তাটি অধিক ব্যস্ততম এবং জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।

আলম নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে আছে। একটু বৃষ্টি হলেই ভোগান্তির শেষ থাকে না মানুষের। সব গর্তসহ সড়কে পানি জমে যায়। ফলে ছোট গর্ত আর বড় গর্ত বোঝার উপায় থাকে না। এতে করে অনেক সময় গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনাও ঘটে। এখন রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। অটোরিক্সা চালক বাবলু বলেন, এই রাস্তার দুই পাশ থেকে পীচ ঢালাই ভেঙ্গে গর্ত হয়ে গেছে। ফলে এ রাস্তা দিয়ে রিক্সা চালাতে অনেক কষ্ট হয়।

সরকারি বিচারপতি নূরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, রাস্তাটির অবস্থা খুবই নাজেহাল। বৃষ্টি হলে তো এখান দিয়ে যাতায়াত অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে রোগী নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ব্যাপারে বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান তুষার বলেন, এই রাস্তার ব্যপারে আমি দুটি সমন্বয় সভায় আলোচনা করেছি। উপজেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীসহ উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। রাস্তাটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি দ্রুত সংস্করণ করা দরকার।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, লেছড়াগঞ্জ-কান্ঠাপাড়া বাজার সড়কে রাস্তার কাজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, লেছড়াগঞ্জ-কান্ঠাপাড়া বাজার সড়কের কাজের টেন্ডার হয়ে গেছে। যেকোনো সময় কাজ শুরু হবে।