নতুন আলুর পোয়া ৬০ টাকা : চাষির পোয়াবারো

নওগাঁর মহাদেবপুর বাজারে উঠেছে আগাম জাতের আলু। তবে দাম আকাশচুম্বি। ৬০ টাকা পোয়া অর্থাৎ ২৪০ টাকা কেজি। আর শৌখিন ক্রেতারা এই মাত্রাতিরিক্ত দামেই কিনছেন এসব আলু। বিশেষ করে যারা ঘটা করে নবান্ন পালন করেন তারাই কিনছেন এ আলু। নতুন ধানের নতুন চালের সাদা ভাতের সাথে সিলভার কার্প মাছ দিয়ে নতুন আলুর ঘাঁটি এ অঞ্চলের গ্রামের মানুষের প্রিয় খাবার। পঞ্চায়েত ঘাঁটি বলে পরিচিত এ খাবার।

আলুর এ উঁচু দাম অবশ্য থাকবে না বলে মনে করছেন ব্যবসাযী ও ক্রেতারা। মৌসুমের একদম প্রথম দিকে যারা বাজারজাত করতে পারেন তারাই বেশি দাম পান। বাজারে সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে দাম। তবু প্রতি কেজি ৫০ টাকার নিচে নামে না। এ মৌসুমের পর যে আলু উঠবে সেগুলোর দাম কম হবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কাঁচাবাজারে গিয়ে মাত্র একটি দোকানে পাওয়া গেলো নতুন আলু। দোকানি সাইদুর রহমান জানালেন, আগের দিন পাইকারি বাজার থেকে ৫ কেজি নতুন আলু কিনেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার এলাকার বিশেষ করে হিন্দুরা ঘরে ঘরে নবান্ন পালন করেছেন। একপোয়া (২৫০ গ্রাম) করে হলেও তারা কিনেছেন। বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা পোয়া দরে। তার দোকানেই পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা কেজি দরে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় জানালেন, যেসব উঁচু জমিতে চাষিরা আমন ধান করতে পারেননি সেসব জমিতে কেউ কেউ আগাম জাতের আলুর চাষ করেছেন। রোপণ থেকে শুরু করে এ আলু উঠতে সময় লাগে মাত্র ৫০ দিন। সেচ দিতে হয়। আগাছা দমন, সার কীটনাশক প্রয়োগ প্রভৃতি যতœ নিতে হয়। কিন্তু এ আলু সংরক্ষণ করা যায়না।

তোলার পর রেখে দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে পঁচতে শুরু করে। তাই চাষিরা এর চাষ বেশি করেন না। এখন যে আলু লাগানো হচ্ছে সেগুলো উঠলে তা সংরক্ষণের উপযোগী হবে। তবে এ মৌসুমের নতুন আলুর স্বাদ অনেক বেশি। বাজারে আমদানি কম থাকায় দাম বেশি হয়। যারা আগাম আলু তুলছেন তারাই লাভের মুখ দেখছেন।

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

নতুন আলুর পোয়া ৬০ টাকা : চাষির পোয়াবারো

নওগাঁর মহাদেবপুর বাজারে উঠেছে আগাম জাতের আলু। তবে দাম আকাশচুম্বি। ৬০ টাকা পোয়া অর্থাৎ ২৪০ টাকা কেজি। আর শৌখিন ক্রেতারা এই মাত্রাতিরিক্ত দামেই কিনছেন এসব আলু। বিশেষ করে যারা ঘটা করে নবান্ন পালন করেন তারাই কিনছেন এ আলু। নতুন ধানের নতুন চালের সাদা ভাতের সাথে সিলভার কার্প মাছ দিয়ে নতুন আলুর ঘাঁটি এ অঞ্চলের গ্রামের মানুষের প্রিয় খাবার। পঞ্চায়েত ঘাঁটি বলে পরিচিত এ খাবার।

আলুর এ উঁচু দাম অবশ্য থাকবে না বলে মনে করছেন ব্যবসাযী ও ক্রেতারা। মৌসুমের একদম প্রথম দিকে যারা বাজারজাত করতে পারেন তারাই বেশি দাম পান। বাজারে সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে দাম। তবু প্রতি কেজি ৫০ টাকার নিচে নামে না। এ মৌসুমের পর যে আলু উঠবে সেগুলোর দাম কম হবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের কাঁচাবাজারে গিয়ে মাত্র একটি দোকানে পাওয়া গেলো নতুন আলু। দোকানি সাইদুর রহমান জানালেন, আগের দিন পাইকারি বাজার থেকে ৫ কেজি নতুন আলু কিনেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার এলাকার বিশেষ করে হিন্দুরা ঘরে ঘরে নবান্ন পালন করেছেন। একপোয়া (২৫০ গ্রাম) করে হলেও তারা কিনেছেন। বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা পোয়া দরে। তার দোকানেই পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা কেজি দরে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় জানালেন, যেসব উঁচু জমিতে চাষিরা আমন ধান করতে পারেননি সেসব জমিতে কেউ কেউ আগাম জাতের আলুর চাষ করেছেন। রোপণ থেকে শুরু করে এ আলু উঠতে সময় লাগে মাত্র ৫০ দিন। সেচ দিতে হয়। আগাছা দমন, সার কীটনাশক প্রয়োগ প্রভৃতি যতœ নিতে হয়। কিন্তু এ আলু সংরক্ষণ করা যায়না।

তোলার পর রেখে দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে পঁচতে শুরু করে। তাই চাষিরা এর চাষ বেশি করেন না। এখন যে আলু লাগানো হচ্ছে সেগুলো উঠলে তা সংরক্ষণের উপযোগী হবে। তবে এ মৌসুমের নতুন আলুর স্বাদ অনেক বেশি। বাজারে আমদানি কম থাকায় দাম বেশি হয়। যারা আগাম আলু তুলছেন তারাই লাভের মুখ দেখছেন।