বিতর্কিত প্রার্থী ও দলীয় কোন্দলের কারণে নৌকার ভরাডুবি তৃণমূলে ক্ষোভ

তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা, হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের দাপট, ত্যাগী ও অসহায় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, জেলা উপজেলা পর্যায়ে নেতাদের কোন্দল ও বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত ও অযোগ্যদের দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। এতে করে বর্তমানে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী সামান্য ভোটের ব্যবধানে ৬টিতে জয়লাভ করলেও বাকি ৮টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম হয়েছে। এ ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে আওয়ামী লীগের এক সময়ের ত্যাগী ও আওয়ামী পরিবারের মনোনয়ন প্রত্যাশিরা রহস্যজনক কারণে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ১টিতে জাসদ (রব) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ২নং গোপালপুর ইউনিয়নে মোশারফ হোসেন মিন্টু (চশমা) প্রতীকে জয়লাভ করে, এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ৫ম হয়েছে। ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচিত মেম্বারদের মধ্যে অধিকাংশ মেম্বার বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত। বিএনপি দলীয়ভাবে ভোট না করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর আদলে তারা কৌশলে নির্বাচন করছে। এদিকে, যে ৩টিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করে তারা হলেন, উপজেলার ১নং আমানুল্যাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. বাহারুল আলম, ০৮নং বেগমগঞ্জ (সদর) ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো.শাহিদুর রহমান শাহীন ও ১৩নং রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ। নবনির্বাচীত বিএনপি সমর্থিত এ ৩ চেয়ারম্যান সম্প্রতি চৌমুহনীতে সাস্প্রদায়িক সহিংসতায় হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ৩টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর মধ্যে মো. বাহারুল আলম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, তিনি কারাগারে থেকেই নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

বাকি দুজন মো. শাহিদুর রহমান শাহীন ও আবদুর রশিদ পলাতক থেকে বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন। এ ৩ জন চৌমুহনীতে বিভিন্ন মন্দিরে হামলা ও মানুষ হত্যার ঘটনায় ইসকন কর্তৃপক্ষের দায়ের করা হত্যা মামলা ও পুলিশ বাদী হয়ে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি। নবনির্বাচিত বিএনপি সমর্থিত এ ৩ ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে ও পলাতক থেকে নির্বাচন করলেও সেখানে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। জানা যায়, এ তিন জনের মধ্যে ১নং আমানুল্যাপুর ইউনিয়নে মো. বাহারুল আলম ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৩১০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা খোকন মোটরসাইকেল প্রতীকে ২৮৯১ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আরিফুর রহমান ৪র্থ হয়েছেন।

০৮নং বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে মো. শাহিদুর রহমান শাহীন চশমা প্রতীক নিয়ে ৪১১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আলম নান্নু আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬১৩ ভোট। এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মোস্তফা কামাল ৩য় হয়েছেন। ১৩ নং রসুলপুর ইউনিয়নে আবদুর রশিদ টেলিফোন মার্কা নিয়ে ৫৩৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী নুরুল হোসেন পেয়েছেন ৪৪৪৬ ভোট।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার নির্বাচিত ৬ জন চেয়ারম্যান হলেন, ৪নং আলাইয়ারপুর ইউনিয়নে গিয়াস উদ্দীন পাটওয়ারী, ৬নং রাজগঞ্জ ইউনিয়নে মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম, ১০নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নে মেহেদী হাসান টিপু, ১১নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে আবেদ সাইফুল কালাম, ১৪নং হাজীপুরে মো. মীর্জা আজিম, ১৬নং কাদিরপুর ইউনিয়নে মো. সালাউদ্দীন। আওয়ামী লীগ এর বিদ্রোহী নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন ৫নং ছয়ানী ইউনিয়নে অহিদুজ্জামান অহিদ (আনারস). ৭নং একলাশপুর ইউনিয়নে সাহিদুর রহমান দীপু (আনারস), এ ইউনিয়নে নৌকার বিতর্কিত প্রার্থী আলমগীর হোসেন আলো ৪র্থ হয়েছে। ১২নং কুতুবপুর ইউনিয়নে মো. কামাল হোসেন (টেলিফোন), ১৩নং রসূলপুর ইউনিয়নে আবদুর রশিদ (টেলিফোন), ১৫নং শরীফপুর ইউনিয়নে নোমান সিদ্দীকি (চশমা)।

ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত না নিয়ে এবং ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অধিকাংশ ইউনিয়নে বিতর্কিত ও হাইব্রিড প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রতীক পাওয়ায় শুরু থেকেই তৃণমূলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ওইসব প্রার্থীকে প্রত্যাখানের ঘোষণা এবং প্রকাশ্য দিবালোকে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেয়া হলেও জেলা উপজেলার নেতাদের কোন্দলের কারণে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে বেগমগঞ্জে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে।

দলীয় কোন্দলের কারণে গত কয়েক মাস আগে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভা নির্র্বাচনে নৌকার প্রার্থী আক্তার হোসেন ফয়সলকে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্র্থী বর্তমান সাংসদের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেদ সাইফ উল্লাহ পৌর মেয়র নির্র্বাচিত হয়েছেন। সরজমিনে জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচিত মেম্বারদের মধ্যে অধিকাংশ মেম্বার বিএনপি-জামায়াত সমর্থীত। বেগমগঞ্জে দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল, অনুপ্রবেশকারীদের দাপট, অসহায় ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবির কারণে বর্তমানে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

বেগমগঞ্জ ইউপি নির্বাচন

বিতর্কিত প্রার্থী ও দলীয় কোন্দলের কারণে নৌকার ভরাডুবি তৃণমূলে ক্ষোভ

তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা, হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের দাপট, ত্যাগী ও অসহায় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, জেলা উপজেলা পর্যায়ে নেতাদের কোন্দল ও বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত ও অযোগ্যদের দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। এতে করে বর্তমানে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী সামান্য ভোটের ব্যবধানে ৬টিতে জয়লাভ করলেও বাকি ৮টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম হয়েছে। এ ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে আওয়ামী লীগের এক সময়ের ত্যাগী ও আওয়ামী পরিবারের মনোনয়ন প্রত্যাশিরা রহস্যজনক কারণে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ১টিতে জাসদ (রব) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ২নং গোপালপুর ইউনিয়নে মোশারফ হোসেন মিন্টু (চশমা) প্রতীকে জয়লাভ করে, এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ৫ম হয়েছে। ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচিত মেম্বারদের মধ্যে অধিকাংশ মেম্বার বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত। বিএনপি দলীয়ভাবে ভোট না করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর আদলে তারা কৌশলে নির্বাচন করছে। এদিকে, যে ৩টিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করে তারা হলেন, উপজেলার ১নং আমানুল্যাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. বাহারুল আলম, ০৮নং বেগমগঞ্জ (সদর) ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো.শাহিদুর রহমান শাহীন ও ১৩নং রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ। নবনির্বাচীত বিএনপি সমর্থিত এ ৩ চেয়ারম্যান সম্প্রতি চৌমুহনীতে সাস্প্রদায়িক সহিংসতায় হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ৩টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর মধ্যে মো. বাহারুল আলম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, তিনি কারাগারে থেকেই নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

বাকি দুজন মো. শাহিদুর রহমান শাহীন ও আবদুর রশিদ পলাতক থেকে বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন। এ ৩ জন চৌমুহনীতে বিভিন্ন মন্দিরে হামলা ও মানুষ হত্যার ঘটনায় ইসকন কর্তৃপক্ষের দায়ের করা হত্যা মামলা ও পুলিশ বাদী হয়ে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি। নবনির্বাচিত বিএনপি সমর্থিত এ ৩ ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে ও পলাতক থেকে নির্বাচন করলেও সেখানে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। জানা যায়, এ তিন জনের মধ্যে ১নং আমানুল্যাপুর ইউনিয়নে মো. বাহারুল আলম ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৩১০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা খোকন মোটরসাইকেল প্রতীকে ২৮৯১ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আরিফুর রহমান ৪র্থ হয়েছেন।

০৮নং বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে মো. শাহিদুর রহমান শাহীন চশমা প্রতীক নিয়ে ৪১১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আলম নান্নু আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬১৩ ভোট। এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মোস্তফা কামাল ৩য় হয়েছেন। ১৩ নং রসুলপুর ইউনিয়নে আবদুর রশিদ টেলিফোন মার্কা নিয়ে ৫৩৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী নুরুল হোসেন পেয়েছেন ৪৪৪৬ ভোট।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার নির্বাচিত ৬ জন চেয়ারম্যান হলেন, ৪নং আলাইয়ারপুর ইউনিয়নে গিয়াস উদ্দীন পাটওয়ারী, ৬নং রাজগঞ্জ ইউনিয়নে মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম, ১০নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নে মেহেদী হাসান টিপু, ১১নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে আবেদ সাইফুল কালাম, ১৪নং হাজীপুরে মো. মীর্জা আজিম, ১৬নং কাদিরপুর ইউনিয়নে মো. সালাউদ্দীন। আওয়ামী লীগ এর বিদ্রোহী নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন ৫নং ছয়ানী ইউনিয়নে অহিদুজ্জামান অহিদ (আনারস). ৭নং একলাশপুর ইউনিয়নে সাহিদুর রহমান দীপু (আনারস), এ ইউনিয়নে নৌকার বিতর্কিত প্রার্থী আলমগীর হোসেন আলো ৪র্থ হয়েছে। ১২নং কুতুবপুর ইউনিয়নে মো. কামাল হোসেন (টেলিফোন), ১৩নং রসূলপুর ইউনিয়নে আবদুর রশিদ (টেলিফোন), ১৫নং শরীফপুর ইউনিয়নে নোমান সিদ্দীকি (চশমা)।

ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত না নিয়ে এবং ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অধিকাংশ ইউনিয়নে বিতর্কিত ও হাইব্রিড প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রতীক পাওয়ায় শুরু থেকেই তৃণমূলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ওইসব প্রার্থীকে প্রত্যাখানের ঘোষণা এবং প্রকাশ্য দিবালোকে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেয়া হলেও জেলা উপজেলার নেতাদের কোন্দলের কারণে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে বেগমগঞ্জে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে।

দলীয় কোন্দলের কারণে গত কয়েক মাস আগে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভা নির্র্বাচনে নৌকার প্রার্থী আক্তার হোসেন ফয়সলকে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্র্থী বর্তমান সাংসদের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেদ সাইফ উল্লাহ পৌর মেয়র নির্র্বাচিত হয়েছেন। সরজমিনে জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচিত মেম্বারদের মধ্যে অধিকাংশ মেম্বার বিএনপি-জামায়াত সমর্থীত। বেগমগঞ্জে দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল, অনুপ্রবেশকারীদের দাপট, অসহায় ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবির কারণে বর্তমানে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।