বাবার অসুস্থতার খবরে খালার বাসা ত্যাগ করে : র‌্যাব

রাজধানীর আদাবর এলাকার একটি বাসা থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়া তিন বোন যশোরে বাবার বাড়িতে রয়েছেন। হঠ্যাৎ করেই বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে তারা রাজধানীর আদাবরের খালার বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে যান। বাবা অন্য জায়গায় বিয়ে করে সংসার করতে থাকায়, তারা খালাকে বলে যাননি বলে জানা গেছে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আদাবরের শেখেরটেক এলাকার খালার বাসা থেকে নিখোঁজ হয় তারা। এ ঘটনায় তাদের খালা সাজিদা নওরীন আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত বলেন, আদাবর থানায় জিডি হওয়ার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। একপর্যায়ে তাদের অবস্থান যশোরে বলে জানতে পারি। পরে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হলে জানতে পারি, যশোরে তাদের বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে এবং নিরাপদে আছে। র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, নিখোঁজ বোনের মা তিন বছর আগে মারা যান। তাদের বাবা অন্য জায়গায় বিয়ে করে সংসার করছেন। আর তারা (৩ বোন) রাজধানীতে খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। এরইমধ্যে তারা জানতে পারেন, তাদের বাবা খুব অসুস্থ। এজন্য কাউকে কিছু না বলে তারা খালার বাসা থেকে যশোরে বাবার বাড়িতে চলে যায়।

তারা ৩ বোনের সঙ্গেই র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কথা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ হওয়ার পেছনে টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোন ভূমিকা নেই বলে জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত জানান, ৩ বোনের মধ্যে যে দুইজন এসএসসি পরীক্ষার্থী, তারা পরবর্তী পরীক্ষাতেও অংশগ্রহণ করবে।

নিখোঁজের পর সন্ধান পাওয়া ৩ বোন হলেন- বড় বোন একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোকেয়া (১৮), মেজো বোন জয়নব আরা (১৭) ও ছোট বোন খাদিজা আরা (১৬)। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তারা আদাবরের শেখেরটেকের পিসিকালচারের খালার বাসা থেকে বের হন। তাদের মধ্যে মেজো বোন জয়নব আরা ও ছোট বোন খাদিজা আরা এবার একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

নিখোঁজদের খালা সাজিদা নওরীন নিখোঁজের পরে গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বড় বোন (নিখোঁজদের মা) তিন বছর আগে মারা যান। আর দুলাভাই (নিখোঁজদের বাবা) অন্য জায়গায় বিয়ে করেছেন। খিলগাঁওয়ে আমার ছোট বোনের বাসায় থাকতো তিন ভাগ্নি রোকেয়া, জয়নব আরা ও খাদিজা আরা। জয়নব ও খাদিজার এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ধানমন্ডি গার্লস হাইস্কুলে। সে কারণে আদাবরে আমার বাসায় এসে তারা দুইজন পরীক্ষা দিচ্ছিল। গত ১৫ তারিখে একটি পরীক্ষা হয়েছে। আরও দুটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে। এর মধ্যেই হঠাৎ তারা তিনজন একসঙ্গে বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়। তিনি বলেন, নিখোঁজের পরপরই আদাবর থানায় যাই। কিন্তু থানা থেকে প্রথমে জিডি কিংবা মামলা না নিতে চাইলে আমি কান্নাকাটি করি। আমার কান্নাকাটি দেখে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একটি জিডি লিপিবদ্ধ করে।

তার তিন ভাগ্নি টিকটক ও ইনস্টগ্রামে আসক্ত ছিলেন জানিয়ে সাজিদা নওরীন বলেন, টিকটকের মাধ্যমে কারও প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে তারা বাসা থেকে বের হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছি। তারা যাওয়ার সময় তাদের পিএসসি, জেএসসির সার্টিফিকেট, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। বয়স কম হওয়ায় তাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করতাম। তারা আমাদের মোবাইল ছাড়া অন্য কোন মোবাইল ব্যবহার করতো না। তবে তারা লুকিয়ে কোন মোবাইল ব্যবহার করতো কিনা তা আমরা জানি না। তারা যেন নিরাপদে ফিরে আসে এটাই আমার চাওয়া।

আদাবর থানার ওসি কাজী শাহীদুজ্জামান বলেন, যে বাসা থেকে ওই তিন তরুণী বেরিয়েছে তার আশপাশের বাসা ও সড়কের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে তারা নিজ ইচ্ছায় ব্যাগ গুছিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে।

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

আদাবর থেকে নিখোঁজ তিন বোন যশোরে বাবার বাড়িতে

বাবার অসুস্থতার খবরে খালার বাসা ত্যাগ করে : র‌্যাব

রাজধানীর আদাবর এলাকার একটি বাসা থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়া তিন বোন যশোরে বাবার বাড়িতে রয়েছেন। হঠ্যাৎ করেই বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে তারা রাজধানীর আদাবরের খালার বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে যান। বাবা অন্য জায়গায় বিয়ে করে সংসার করতে থাকায়, তারা খালাকে বলে যাননি বলে জানা গেছে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আদাবরের শেখেরটেক এলাকার খালার বাসা থেকে নিখোঁজ হয় তারা। এ ঘটনায় তাদের খালা সাজিদা নওরীন আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত বলেন, আদাবর থানায় জিডি হওয়ার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। একপর্যায়ে তাদের অবস্থান যশোরে বলে জানতে পারি। পরে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হলে জানতে পারি, যশোরে তাদের বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে এবং নিরাপদে আছে। র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, নিখোঁজ বোনের মা তিন বছর আগে মারা যান। তাদের বাবা অন্য জায়গায় বিয়ে করে সংসার করছেন। আর তারা (৩ বোন) রাজধানীতে খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। এরইমধ্যে তারা জানতে পারেন, তাদের বাবা খুব অসুস্থ। এজন্য কাউকে কিছু না বলে তারা খালার বাসা থেকে যশোরে বাবার বাড়িতে চলে যায়।

তারা ৩ বোনের সঙ্গেই র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কথা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ হওয়ার পেছনে টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোন ভূমিকা নেই বলে জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত জানান, ৩ বোনের মধ্যে যে দুইজন এসএসসি পরীক্ষার্থী, তারা পরবর্তী পরীক্ষাতেও অংশগ্রহণ করবে।

নিখোঁজের পর সন্ধান পাওয়া ৩ বোন হলেন- বড় বোন একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোকেয়া (১৮), মেজো বোন জয়নব আরা (১৭) ও ছোট বোন খাদিজা আরা (১৬)। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তারা আদাবরের শেখেরটেকের পিসিকালচারের খালার বাসা থেকে বের হন। তাদের মধ্যে মেজো বোন জয়নব আরা ও ছোট বোন খাদিজা আরা এবার একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

নিখোঁজদের খালা সাজিদা নওরীন নিখোঁজের পরে গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বড় বোন (নিখোঁজদের মা) তিন বছর আগে মারা যান। আর দুলাভাই (নিখোঁজদের বাবা) অন্য জায়গায় বিয়ে করেছেন। খিলগাঁওয়ে আমার ছোট বোনের বাসায় থাকতো তিন ভাগ্নি রোকেয়া, জয়নব আরা ও খাদিজা আরা। জয়নব ও খাদিজার এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ধানমন্ডি গার্লস হাইস্কুলে। সে কারণে আদাবরে আমার বাসায় এসে তারা দুইজন পরীক্ষা দিচ্ছিল। গত ১৫ তারিখে একটি পরীক্ষা হয়েছে। আরও দুটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে। এর মধ্যেই হঠাৎ তারা তিনজন একসঙ্গে বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়। তিনি বলেন, নিখোঁজের পরপরই আদাবর থানায় যাই। কিন্তু থানা থেকে প্রথমে জিডি কিংবা মামলা না নিতে চাইলে আমি কান্নাকাটি করি। আমার কান্নাকাটি দেখে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একটি জিডি লিপিবদ্ধ করে।

তার তিন ভাগ্নি টিকটক ও ইনস্টগ্রামে আসক্ত ছিলেন জানিয়ে সাজিদা নওরীন বলেন, টিকটকের মাধ্যমে কারও প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে তারা বাসা থেকে বের হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছি। তারা যাওয়ার সময় তাদের পিএসসি, জেএসসির সার্টিফিকেট, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। বয়স কম হওয়ায় তাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করতাম। তারা আমাদের মোবাইল ছাড়া অন্য কোন মোবাইল ব্যবহার করতো না। তবে তারা লুকিয়ে কোন মোবাইল ব্যবহার করতো কিনা তা আমরা জানি না। তারা যেন নিরাপদে ফিরে আসে এটাই আমার চাওয়া।

আদাবর থানার ওসি কাজী শাহীদুজ্জামান বলেন, যে বাসা থেকে ওই তিন তরুণী বেরিয়েছে তার আশপাশের বাসা ও সড়কের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে তারা নিজ ইচ্ছায় ব্যাগ গুছিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে।