‘১৪০ হলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারতো’

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-২০ হারের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পুঁজি ১৪০ রান হলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারতো। টপ অর্ডারে ব্যাটিং ব্যর্থতার কথাও বলেছেন তিনি। তবে স্বল্প পুঁজি নিয়ে বোলাররা শুরুতে যেভাবে লড়াই করছে সেজন্য স্তুতি ছিল তার কণ্ঠে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, ‘আমরা যখন ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেই তখন মনে হচ্ছিল উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক হবে। কিন্তু বোলাররা উইকেট থেকে সাহায্য পেয়েছে। এটা অজুহাত হতে পারে না। আমাদের ব্যাটিংয়ে এমন পারফরম্যান্স করা উচিত হয়নি। বিশেষ করে টপ অর্ডারে। বিশ্বকাপ থেকে আমাদের এই ঘাটতি ছিল। আমরা ১২৭ রান করেছি। রানটা যদি ১৪০ হতো তাহলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারতো।’

বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বেহাল দশা। টপ অর্ডাররা দিনের পর দিন হতাশ করেছেন। সৌম্য, লিটনরা বারবার ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে শান্ত, সাইফদের নেয়া হয়েছে। সাইফের আজ অভিষেক হয়েছে। কিন্তু ১ রানেই শেষ তার ইনিংস। শান্তর ব্যাটও হাসেনি। ১৪ বলে করেছেন ৭। এছাড়া নিয়মিত ওপেনার নাঈম শেখ করেন মাত্র ১ রান। মধ্যভাগে আফিফ, সোহান ও মেহেদী হাল ধরলে বাংলাদেশের লড়াই করার পুঁজি পায়। স্বল্প পুঁজি নিয়ে বোলাররা লড়াই করেছিল ঠিকই। ২৪ রানে পাকিস্তান হারায় রিজওয়ান, বাবর, হায়দার ও শোয়েব মালিকের উইকেট। ১২৮ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের রান ৪০। শেষ ১০ ওভারে তাদের জয়ের জন্য ৮৮ রান লাগতো। অথচ বাংলাদেশ নুন্যতম লড়াইটাও করতে পারেনি।

পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের শেষের ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যায় স্বাগতিকদের বোলিং। তবুও রিজওয়ান, বাবরদের ফিরিয়ে ম্যাচের শুরুতে যে লড়াই করেছিল বোলাররা, তাতে খুশি অধিনায়ক। ‘আমরা দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়েছি। বোলাররা অসাধারণ কাজ করেছে শুরুতে। আমরা কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। তাসকিন দুর্দান্ত ছিল। কিন্তু শেষ দিকে ওরা স্নায়ু ধরে রেখেছিল। শেষ দুই ব্যাটসম্যান ম্যাচটা বের করে এনেছে। নেওয়াজ ও শাদাব পাকিস্তানকে জেতাতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে।’

রিয়াদ আরো বলেন, আমার মনে হয় মোস্তাফিজ ভালো বোলিং করেছে। পরে ওরা ভালো পার্টনারশিপ করেছে, তাই

(সাইফ হাসানের) টেকনিকের বিষয়ে আমি খুব একটা বলতে পারব না। কারণ আমার কাছে মনে হয়, সাইফের টেকনিক খুব ভালো। হয়তো আজকে প্রথম ম্যাচ দেখে যে কারোরই খারাপ হতে পারে। আমার মনে হয়, ও ইনশাআল্লাহ্? কামব্যাক করতে পারবে।

শেখ মেহেদী ও তাসকিনকে নিয়ে অধিনায়ক বলেন, আমার মনে হয়, মেহেদি অনেকদিন ধরেই দলের জন্য দারুণ পারফর্ম করছে, ব্যাটিং-বোলিং দুই দিকেই। তাসকিনও দুর্দান্ত। সবাই ভালো পারফর্ম করছে। আফিফ খুব ভালো ব্যাটিং করেছে আজকে, সোহান খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। সবমিলিয়ে আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো করতে হবে।

পঞ্চম বোলার হিসেবে লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে একাদশে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাকে বল করতে আনা হয়েছে একদম শেষ ওভারে। যখন পাকিস্তানের জিততে দরকার কেবল ২ রান। মাঝের ওভারে এই লেগ স্পিনারকে বল করতে না দেয়ার কারণ হিসেবে ক্রিজে বাঁহাতির উপস্থিতির কথা বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

‘পরিকল্পনা ছিল বোলিং করানোর। কিন্তু ক্রিজে যেহেতু বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ছিল তার আমাকে বল করতে আসতে হয়েছে। এটাই কারণ।’

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

‘১৪০ হলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারতো’

image

আবারও তীরে এসে তরী ডুবল। হতাশ মনে মাঠ ছাড়ছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা - বিসিবি

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-২০ হারের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পুঁজি ১৪০ রান হলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারতো। টপ অর্ডারে ব্যাটিং ব্যর্থতার কথাও বলেছেন তিনি। তবে স্বল্প পুঁজি নিয়ে বোলাররা শুরুতে যেভাবে লড়াই করছে সেজন্য স্তুতি ছিল তার কণ্ঠে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, ‘আমরা যখন ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেই তখন মনে হচ্ছিল উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক হবে। কিন্তু বোলাররা উইকেট থেকে সাহায্য পেয়েছে। এটা অজুহাত হতে পারে না। আমাদের ব্যাটিংয়ে এমন পারফরম্যান্স করা উচিত হয়নি। বিশেষ করে টপ অর্ডারে। বিশ্বকাপ থেকে আমাদের এই ঘাটতি ছিল। আমরা ১২৭ রান করেছি। রানটা যদি ১৪০ হতো তাহলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারতো।’

বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বেহাল দশা। টপ অর্ডাররা দিনের পর দিন হতাশ করেছেন। সৌম্য, লিটনরা বারবার ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে শান্ত, সাইফদের নেয়া হয়েছে। সাইফের আজ অভিষেক হয়েছে। কিন্তু ১ রানেই শেষ তার ইনিংস। শান্তর ব্যাটও হাসেনি। ১৪ বলে করেছেন ৭। এছাড়া নিয়মিত ওপেনার নাঈম শেখ করেন মাত্র ১ রান। মধ্যভাগে আফিফ, সোহান ও মেহেদী হাল ধরলে বাংলাদেশের লড়াই করার পুঁজি পায়। স্বল্প পুঁজি নিয়ে বোলাররা লড়াই করেছিল ঠিকই। ২৪ রানে পাকিস্তান হারায় রিজওয়ান, বাবর, হায়দার ও শোয়েব মালিকের উইকেট। ১২৮ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের রান ৪০। শেষ ১০ ওভারে তাদের জয়ের জন্য ৮৮ রান লাগতো। অথচ বাংলাদেশ নুন্যতম লড়াইটাও করতে পারেনি।

পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের শেষের ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যায় স্বাগতিকদের বোলিং। তবুও রিজওয়ান, বাবরদের ফিরিয়ে ম্যাচের শুরুতে যে লড়াই করেছিল বোলাররা, তাতে খুশি অধিনায়ক। ‘আমরা দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়েছি। বোলাররা অসাধারণ কাজ করেছে শুরুতে। আমরা কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। তাসকিন দুর্দান্ত ছিল। কিন্তু শেষ দিকে ওরা স্নায়ু ধরে রেখেছিল। শেষ দুই ব্যাটসম্যান ম্যাচটা বের করে এনেছে। নেওয়াজ ও শাদাব পাকিস্তানকে জেতাতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে।’

রিয়াদ আরো বলেন, আমার মনে হয় মোস্তাফিজ ভালো বোলিং করেছে। পরে ওরা ভালো পার্টনারশিপ করেছে, তাই

(সাইফ হাসানের) টেকনিকের বিষয়ে আমি খুব একটা বলতে পারব না। কারণ আমার কাছে মনে হয়, সাইফের টেকনিক খুব ভালো। হয়তো আজকে প্রথম ম্যাচ দেখে যে কারোরই খারাপ হতে পারে। আমার মনে হয়, ও ইনশাআল্লাহ্? কামব্যাক করতে পারবে।

শেখ মেহেদী ও তাসকিনকে নিয়ে অধিনায়ক বলেন, আমার মনে হয়, মেহেদি অনেকদিন ধরেই দলের জন্য দারুণ পারফর্ম করছে, ব্যাটিং-বোলিং দুই দিকেই। তাসকিনও দুর্দান্ত। সবাই ভালো পারফর্ম করছে। আফিফ খুব ভালো ব্যাটিং করেছে আজকে, সোহান খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। সবমিলিয়ে আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো করতে হবে।

পঞ্চম বোলার হিসেবে লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে একাদশে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাকে বল করতে আনা হয়েছে একদম শেষ ওভারে। যখন পাকিস্তানের জিততে দরকার কেবল ২ রান। মাঝের ওভারে এই লেগ স্পিনারকে বল করতে না দেয়ার কারণ হিসেবে ক্রিজে বাঁহাতির উপস্থিতির কথা বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

‘পরিকল্পনা ছিল বোলিং করানোর। কিন্তু ক্রিজে যেহেতু বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ছিল তার আমাকে বল করতে আসতে হয়েছে। এটাই কারণ।’