স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দিচ্ছে নৌকার কর্মীরা

পাবনার বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামছুল হক টুকুর ছেলে (নৌকা প্রতীক) আসিফ সামস রঞ্জনের কর্মী-সমর্থকদের বাধা ও হুমকিতে স্বতন্ত্র চার মেয়র প্রাথী বাধাহীনভাবে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশন থেকে সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুকে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হলেও তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বেড়া পৌর এলাকার বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

এমপি বেড়ায় অবস্থান করায় এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে নির্বাচনী মাঠে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, এমপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না এ নিয়ে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

পৌরসভা নির্বাচনে এমপির ছেলে আপন ভাই বর্তমান মেয়র ও ভাতিজী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র আবদুল বাতেন দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর একটানা বেড়া পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময়ে তিনি নেতা-কর্মীদের মাঝে নিজস্ব বলয়ে ভোটব্যাংক তৈরি করেন। ভাতিজা আসিফ সামস রঞ্জন নৌকা প্রতীক পেয়ে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী চাচা আবদুল বতেন (প্রতীক নারিকেল গাছ) এর ভোটব্যাংকে ভীতি সৃষ্টির জন্য তাকে প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। এমনকি তার কর্মী-সমর্থকদের পোস্টার লাগাতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে মেয়র আবদুল বাতেন জানিয়েছেন।

বেড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবদুল বাতেন অভিযোগ করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি পাবনা-১ আসানের সংসদ সদস্য শামছুল হক টুকু নিজ বাড়িতে অবস্থান করে প্রতিদিন ভোরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তার ছেলের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট চাচ্ছে। একজন সংসদ সদস্যের এভাবে ভোট চাওয়া নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। এমপির ছেলে কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। অন্য চার স্বতন্ত্র প্রার্থী পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগার। তারা জেল জুলুম সয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছে। আমাদের আশা ছিল বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক কাউকে না দিয়ে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যার জনপ্রিয়তা বেশি সেই বিজয়ী হয়ে আসবে। হাতীগাড়া গ্রামে নৌকার সমর্থকরা নিজেদের অফিস ভেঙে তার কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এ ঘটনার তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এমপি বেড়ায় অবস্থান করলে নির্বাচন প্রভাবিত হবে। এতে সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তী খুন্ন হবে। অবিলম্বে এমপিকে বেড়া ত্যাগের নির্দেশ দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কে.এম আবদুল্লাহ (জগ প্রতীক) বলেন, পায়না, বনগ্রাম ও বৃশালিখা গ্রামের নৌকার কর্মী সমর্থকরা তার মিছিল, প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। তার মিছিলে হামলা করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেছে অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুর রহমান মাসুদ (প্রতীক রেল ইঞ্জিন)।

এমপির ভাতিজী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিয়া আলম (প্রতীক মোবাইল ফোন) বলেন, এমপি টুকু বেড়ায় অবস্থান করলে থানার ওসি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন না। আমি কুক্ষিগত ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। ক্ষমতা টাকা কামানো সম্পদ গড়ার জন্য নয়। ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। আমার মরহুম আব্বা বদিউল আলম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। সব পেশার মানুষের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। তাদের আর্শীবাদ আমার সঙ্গে আছে। ইশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হবো।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসিফ সামস রঞ্জনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে (০১৩১৮-৬৭৩৪২৪) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ম্যাসেস পাঠিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ সম্পর্কে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বেড়া থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, বেড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশবাহিনী নিরলসভাবে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। পৌর এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন সংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সবুর আলী বলেন, বেড়া পৌর এলাকার দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ২৮ নভেম্বরের বেড়া পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ জন্য ১০ ম্যাজিস্ট্রেট, দুই প্লাটুন বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাব ও পুলিশের ভিজিল্যান্স টিম কাজ করবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমপি সাহেব বেড়ায় অবস্থান করায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নে তারা বিব্রতবোধ করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামছুল হক টুকুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বলেন, আমি আমার বাড়িতে অবস্থান করছি। কোন মিটিং মিছিলে এবং জনসংযোগে অংশগ্রহণ করছি না। ফলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী মাঠে প্রভাব পড়ার প্রশ্নই ওঠে না।

রবিবার, ২১ নভেম্বর ২০২১ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বেড়া পৌর নির্বাচন

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দিচ্ছে নৌকার কর্মীরা

পাবনার বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামছুল হক টুকুর ছেলে (নৌকা প্রতীক) আসিফ সামস রঞ্জনের কর্মী-সমর্থকদের বাধা ও হুমকিতে স্বতন্ত্র চার মেয়র প্রাথী বাধাহীনভাবে তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশন থেকে সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুকে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হলেও তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বেড়া পৌর এলাকার বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

এমপি বেড়ায় অবস্থান করায় এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে নির্বাচনী মাঠে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, এমপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না এ নিয়ে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

পৌরসভা নির্বাচনে এমপির ছেলে আপন ভাই বর্তমান মেয়র ও ভাতিজী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র আবদুল বাতেন দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর একটানা বেড়া পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময়ে তিনি নেতা-কর্মীদের মাঝে নিজস্ব বলয়ে ভোটব্যাংক তৈরি করেন। ভাতিজা আসিফ সামস রঞ্জন নৌকা প্রতীক পেয়ে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী চাচা আবদুল বতেন (প্রতীক নারিকেল গাছ) এর ভোটব্যাংকে ভীতি সৃষ্টির জন্য তাকে প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। এমনকি তার কর্মী-সমর্থকদের পোস্টার লাগাতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে মেয়র আবদুল বাতেন জানিয়েছেন।

বেড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবদুল বাতেন অভিযোগ করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি পাবনা-১ আসানের সংসদ সদস্য শামছুল হক টুকু নিজ বাড়িতে অবস্থান করে প্রতিদিন ভোরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তার ছেলের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট চাচ্ছে। একজন সংসদ সদস্যের এভাবে ভোট চাওয়া নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। এমপির ছেলে কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। অন্য চার স্বতন্ত্র প্রার্থী পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগার। তারা জেল জুলুম সয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছে। আমাদের আশা ছিল বেড়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক কাউকে না দিয়ে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যার জনপ্রিয়তা বেশি সেই বিজয়ী হয়ে আসবে। হাতীগাড়া গ্রামে নৌকার সমর্থকরা নিজেদের অফিস ভেঙে তার কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এ ঘটনার তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এমপি বেড়ায় অবস্থান করলে নির্বাচন প্রভাবিত হবে। এতে সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তী খুন্ন হবে। অবিলম্বে এমপিকে বেড়া ত্যাগের নির্দেশ দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কে.এম আবদুল্লাহ (জগ প্রতীক) বলেন, পায়না, বনগ্রাম ও বৃশালিখা গ্রামের নৌকার কর্মী সমর্থকরা তার মিছিল, প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। তার মিছিলে হামলা করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেছে অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুর রহমান মাসুদ (প্রতীক রেল ইঞ্জিন)।

এমপির ভাতিজী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিয়া আলম (প্রতীক মোবাইল ফোন) বলেন, এমপি টুকু বেড়ায় অবস্থান করলে থানার ওসি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন না। আমি কুক্ষিগত ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। ক্ষমতা টাকা কামানো সম্পদ গড়ার জন্য নয়। ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। আমার মরহুম আব্বা বদিউল আলম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। সব পেশার মানুষের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। তাদের আর্শীবাদ আমার সঙ্গে আছে। ইশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হবো।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসিফ সামস রঞ্জনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে (০১৩১৮-৬৭৩৪২৪) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ম্যাসেস পাঠিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ সম্পর্কে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বেড়া থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, বেড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পুলিশবাহিনী নিরলসভাবে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। পৌর এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন সংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সবুর আলী বলেন, বেড়া পৌর এলাকার দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ২৮ নভেম্বরের বেড়া পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ জন্য ১০ ম্যাজিস্ট্রেট, দুই প্লাটুন বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাব ও পুলিশের ভিজিল্যান্স টিম কাজ করবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমপি সাহেব বেড়ায় অবস্থান করায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নে তারা বিব্রতবোধ করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামছুল হক টুকুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বলেন, আমি আমার বাড়িতে অবস্থান করছি। কোন মিটিং মিছিলে এবং জনসংযোগে অংশগ্রহণ করছি না। ফলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী মাঠে প্রভাব পড়ার প্রশ্নই ওঠে না।