হাফ ভাড়া, ছাত্রী লাঞ্ছনার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

বাসে হাফ (অর্ধেক) ভাড়া দেয়ায় এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করে ও ধর্ষণের হুমকি দেয় বলে ঠিকানা পরিবহনের এক স্টাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। এর প্রতিবাদে ও হাফ ভাড়ার দাবিতে গতকাল সড়ক অবরোধ করে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের জন্য বাসে হাফ ভাড়া নেয়ার বিধান কার্যকর এবং ছাত্রীকে লাঞ্ছনাকারী ঠিকানা পরিবহনের কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। দাবি আদায় না হলে সোমবারও সড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- বাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হয়রানিমূলক আচরণ করা যাবে না, কলেজের সামনে সব বাস থামতে হবে, মহিলা সিট নিশ্চিত করা, যাত্রীদের সম্মানের সঙ্গে বাসে ওঠার ব্যবস্থা, মেয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রায়েরবাগ, শনির আখড়া, কাজলা, সাইনবোর্ডসহ প্রত্যেক বাস স্টপেজে সব ধরনের বাস থামাতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের তুলতে হবে ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উগ্র ব্যবহার করা যাবে না। তবে গতকাল রাতে বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া ঠিকানা পরিবহনের ড্রাইভার মো. রুবেল এবং হেলপার মো. মেহেদী হাসানকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ নিয়ে গতকাল রাত ৯টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

‘আমরা নারী, আমরা শক্তি, আমরাই প্রতিবাদী’

গতকাল ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে অর্ধেক (হাফ) ভাড়া দেয়ায় প্রকাশ্যে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে বাসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে। হেনস্তার শিকার শিক্ষার্থী রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

ঘটনা তুলে ধরে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেয় বদরুন্নেসার ওই শিক্ষার্থী। তিনি লেখেন, ‘আমার বাসা শনির আখড়া। এখান থেকে কলেজের (বকশীবাজার এলাকা) ভাড়া ১০ টাকা, প্রতিদিন ১০ টাকা দিয়েই যাচ্ছি। গত শনিবার কলেজে যাওয়ার সময় ঠিকানা বাসে করে গিয়েছিলাম। হেলপারকে ২০ টাকার নোট দিলে সে ভাড়া রাখে ১৫ টাকা। আমি তাকে ভালো করেই বলছিলাম আমার ১০ টাকা ফেরত দিতে, বাট সে দেয় তো নাই, উল্টো বলে ‘দিমু না, কী করবি কর’। এরপর চিল্লানোর পর সে বলে ‘গলা বড় করবি না, পাঁচ টাকা নে, না হয় নাইমা যা’।

বাসের একটা মানুষও তাকে একটা কথা বলে নাই। কেউ কিচ্ছু বলে নাই। ইভেন একটা পুলিশও ছিল, সেও কিছু বলে নাই। এরপর নামার সময় পাঁচ টাকা হাতে ধরায় দিয়ে বলে, ‘নে তোর টাকা, প্রতিদিনই তো আসবি, একদিন ধইরা .... কোথাকার’। এই কথা যখন বলছে তখন বাস অলরেডি রানিংয়ে, আমি তাকে কিছু বলার সুযোগও পাইনি আর বাসের নম্বর নোট করারও সুযোগ পাইনি। জোরে বাস টেনে চলে গেছে।

এখন আমার কথা হচ্ছে, প্রতিদিন বাসের এমন ভোগান্তিতে পড়া লাগে। আমাদের ওঠায় না। আমাদের এখান থেকে প্রতিদিন অনেক মেয়ে যায় কলেজে। আমরা যদি এখন কিছু না বলি সামনে আরও প্রব্লেমে (সমস্যায়) পড়তে হবে। ঠিকানা, মৌমিতা আমাদের কলেজের সামনে দিয়েই যায়। আমরা সবাই মিলে যদি একদিন রাস্তাটা ঠিকানা আর মৌমিতার জন্য বন্ধ করে দিই আমার মনে হয় এদের তেজ কমবে। আমি আশা করছি, এই কলেজের স্টুডেন্ট হয়ে আমার প্রতি এই আচরণের প্রতিবাদ তোমরা করবে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে হাফ ভাড়ার দাবিতে গতকাল রাজধানীর বকশীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে অন্য কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। অবরোধের কারণে চানখাঁরপুল থেকে বকশীবাজার, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও বুয়েট অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দেয়। এ সময় তাদের হাতে ‘হাফ ভাড়া দেয়ায় ধর্ষণের হুমকি, লজ্জিত বাংলা’, ‘আমরা নারী, আমরা শক্তি, আমরাই প্রতিবাদী’, ‘স্টপ ভায়োলেন্স’, ‘হাফ পাস আমাদের অধিকার’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অনেক বাস ছাত্রী দেখলে দরজা বন্ধ করে রাখে। হাফ ভাড়া দিতে চাইলে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। শনিবার ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে তাদের এক ছাত্রী অর্ধেক ভাড়া দিতে চাইলে তাকে ‘ধর্ষণের হুমকি দেন’ বাস চালকের সহকারী। দাবি আদায় না হলে সোমবারও সড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দেয় তারা।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কুদরাত ই খুদা বলেন, ‘বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজসহ ঢাকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। হাফ ভাড়া নেয়া, শিক্ষার্থী দেখলে বাসে তোলা এবং শনিবার এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও হুমকির বিচার করা- এই তিন দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’

বাস সংকট দুর্ভোগে যাত্রীরা

গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে প্রতিবাদ ও হাফ ভাড়ার দাবিতে এভাবে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় হাফ পাসের দাবিতে গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে এক দল শিক্ষার্থী। তাই গতকাল যাত্রাবাড়ী-মিরপুর রুটের ট্রান্স সিলভা পরিবহনসহ একাধিক কোম্পানির বাস বন্ধ করে দেয় বাস মালিকরা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রাবাড়ী, জুরাইন ও মিরপুর রুটের যাত্রীদের।

যাত্রাবাড়ী এলাকার আশরাফুল নামের এক যাত্রী বলেন, ‘হুট করে বাস বন্ধ করে দেয় মালিকরা। এ বিষয়ে সরকার কোন ব্যবস্থা নেয় না। যাত্রীবাড়ী থেকে মিরপুর যওয়ার জন্য আধাঘণ্টা অপেক্ষা করে বাস পাইনি। কারণ মিরপুরের বাস বন্ধ রেখেছে মালিক ও শ্রমিকরা। কি কারণে বন্ধ তা জানি না।’

এ বিষয়ে ট্রান্স সিলভা পরিবহন কোম্পানির চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউল করিম খোকন সংবাদকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার বিষয়ে আমরা সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। সরকার যদি বলে তাদের অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে আমরা নিবো। যদি ফ্রি নিতে বলে আমরা নিবো। কারণ ছাত্রছাত্রীদের হাফ ভাড়ার সরকারি কোন নীতিমালা নেই। তবুও অনেক বাস কোম্পানি মানবিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কম ভাড়া নেয়। এ নিয়ে আন্দোলন করে গাড়ি ভাঙচুর করাটা অন্যায়।’ তাই এ বিষয়ে সরকার থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে তাই আমরা মেনে নিবো বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত ভাড়ার দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা

বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গতকাল সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে রোববার ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ৬৫টি ডিজেল চালিত বাসকে দুই লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ১১টি স্পটে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এসব জরিমানা করা হয়। গাড়ির কাগজপত্র ঠিক না থাকায় একটি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২১ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

হাফ ভাড়া, ছাত্রী লাঞ্ছনার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

image

হাফ ভাড়া দেয়ায় বাসে ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গতকাল বদরুন্নেছা কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ -সংবাদ

বাসে হাফ (অর্ধেক) ভাড়া দেয়ায় এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করে ও ধর্ষণের হুমকি দেয় বলে ঠিকানা পরিবহনের এক স্টাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। এর প্রতিবাদে ও হাফ ভাড়ার দাবিতে গতকাল সড়ক অবরোধ করে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের জন্য বাসে হাফ ভাড়া নেয়ার বিধান কার্যকর এবং ছাত্রীকে লাঞ্ছনাকারী ঠিকানা পরিবহনের কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। দাবি আদায় না হলে সোমবারও সড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- বাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হয়রানিমূলক আচরণ করা যাবে না, কলেজের সামনে সব বাস থামতে হবে, মহিলা সিট নিশ্চিত করা, যাত্রীদের সম্মানের সঙ্গে বাসে ওঠার ব্যবস্থা, মেয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রায়েরবাগ, শনির আখড়া, কাজলা, সাইনবোর্ডসহ প্রত্যেক বাস স্টপেজে সব ধরনের বাস থামাতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের তুলতে হবে ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উগ্র ব্যবহার করা যাবে না। তবে গতকাল রাতে বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া ঠিকানা পরিবহনের ড্রাইভার মো. রুবেল এবং হেলপার মো. মেহেদী হাসানকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ নিয়ে গতকাল রাত ৯টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

‘আমরা নারী, আমরা শক্তি, আমরাই প্রতিবাদী’

গতকাল ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে অর্ধেক (হাফ) ভাড়া দেয়ায় প্রকাশ্যে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে বাসের কর্মচারীর বিরুদ্ধে। হেনস্তার শিকার শিক্ষার্থী রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

ঘটনা তুলে ধরে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেয় বদরুন্নেসার ওই শিক্ষার্থী। তিনি লেখেন, ‘আমার বাসা শনির আখড়া। এখান থেকে কলেজের (বকশীবাজার এলাকা) ভাড়া ১০ টাকা, প্রতিদিন ১০ টাকা দিয়েই যাচ্ছি। গত শনিবার কলেজে যাওয়ার সময় ঠিকানা বাসে করে গিয়েছিলাম। হেলপারকে ২০ টাকার নোট দিলে সে ভাড়া রাখে ১৫ টাকা। আমি তাকে ভালো করেই বলছিলাম আমার ১০ টাকা ফেরত দিতে, বাট সে দেয় তো নাই, উল্টো বলে ‘দিমু না, কী করবি কর’। এরপর চিল্লানোর পর সে বলে ‘গলা বড় করবি না, পাঁচ টাকা নে, না হয় নাইমা যা’।

বাসের একটা মানুষও তাকে একটা কথা বলে নাই। কেউ কিচ্ছু বলে নাই। ইভেন একটা পুলিশও ছিল, সেও কিছু বলে নাই। এরপর নামার সময় পাঁচ টাকা হাতে ধরায় দিয়ে বলে, ‘নে তোর টাকা, প্রতিদিনই তো আসবি, একদিন ধইরা .... কোথাকার’। এই কথা যখন বলছে তখন বাস অলরেডি রানিংয়ে, আমি তাকে কিছু বলার সুযোগও পাইনি আর বাসের নম্বর নোট করারও সুযোগ পাইনি। জোরে বাস টেনে চলে গেছে।

এখন আমার কথা হচ্ছে, প্রতিদিন বাসের এমন ভোগান্তিতে পড়া লাগে। আমাদের ওঠায় না। আমাদের এখান থেকে প্রতিদিন অনেক মেয়ে যায় কলেজে। আমরা যদি এখন কিছু না বলি সামনে আরও প্রব্লেমে (সমস্যায়) পড়তে হবে। ঠিকানা, মৌমিতা আমাদের কলেজের সামনে দিয়েই যায়। আমরা সবাই মিলে যদি একদিন রাস্তাটা ঠিকানা আর মৌমিতার জন্য বন্ধ করে দিই আমার মনে হয় এদের তেজ কমবে। আমি আশা করছি, এই কলেজের স্টুডেন্ট হয়ে আমার প্রতি এই আচরণের প্রতিবাদ তোমরা করবে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে হাফ ভাড়ার দাবিতে গতকাল রাজধানীর বকশীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে অন্য কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। অবরোধের কারণে চানখাঁরপুল থেকে বকশীবাজার, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও বুয়েট অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দেয়। এ সময় তাদের হাতে ‘হাফ ভাড়া দেয়ায় ধর্ষণের হুমকি, লজ্জিত বাংলা’, ‘আমরা নারী, আমরা শক্তি, আমরাই প্রতিবাদী’, ‘স্টপ ভায়োলেন্স’, ‘হাফ পাস আমাদের অধিকার’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অনেক বাস ছাত্রী দেখলে দরজা বন্ধ করে রাখে। হাফ ভাড়া দিতে চাইলে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। শনিবার ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে তাদের এক ছাত্রী অর্ধেক ভাড়া দিতে চাইলে তাকে ‘ধর্ষণের হুমকি দেন’ বাস চালকের সহকারী। দাবি আদায় না হলে সোমবারও সড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দেয় তারা।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কুদরাত ই খুদা বলেন, ‘বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজসহ ঢাকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। হাফ ভাড়া নেয়া, শিক্ষার্থী দেখলে বাসে তোলা এবং শনিবার এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও হুমকির বিচার করা- এই তিন দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’

বাস সংকট দুর্ভোগে যাত্রীরা

গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে প্রতিবাদ ও হাফ ভাড়ার দাবিতে এভাবে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় হাফ পাসের দাবিতে গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে এক দল শিক্ষার্থী। তাই গতকাল যাত্রাবাড়ী-মিরপুর রুটের ট্রান্স সিলভা পরিবহনসহ একাধিক কোম্পানির বাস বন্ধ করে দেয় বাস মালিকরা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রাবাড়ী, জুরাইন ও মিরপুর রুটের যাত্রীদের।

যাত্রাবাড়ী এলাকার আশরাফুল নামের এক যাত্রী বলেন, ‘হুট করে বাস বন্ধ করে দেয় মালিকরা। এ বিষয়ে সরকার কোন ব্যবস্থা নেয় না। যাত্রীবাড়ী থেকে মিরপুর যওয়ার জন্য আধাঘণ্টা অপেক্ষা করে বাস পাইনি। কারণ মিরপুরের বাস বন্ধ রেখেছে মালিক ও শ্রমিকরা। কি কারণে বন্ধ তা জানি না।’

এ বিষয়ে ট্রান্স সিলভা পরিবহন কোম্পানির চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজাউল করিম খোকন সংবাদকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার বিষয়ে আমরা সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। সরকার যদি বলে তাদের অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে আমরা নিবো। যদি ফ্রি নিতে বলে আমরা নিবো। কারণ ছাত্রছাত্রীদের হাফ ভাড়ার সরকারি কোন নীতিমালা নেই। তবুও অনেক বাস কোম্পানি মানবিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কম ভাড়া নেয়। এ নিয়ে আন্দোলন করে গাড়ি ভাঙচুর করাটা অন্যায়।’ তাই এ বিষয়ে সরকার থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে তাই আমরা মেনে নিবো বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত ভাড়ার দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা

বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গতকাল সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে রোববার ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ৬৫টি ডিজেল চালিত বাসকে দুই লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ১১টি স্পটে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এসব জরিমানা করা হয়। গাড়ির কাগজপত্র ঠিক না থাকায় একটি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে।