দুদক ও আইনের ওপর নির্ভর করে দুর্নীতি দমন খুবই ‘দুরূহ’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চেয়ারম্যান

শুধু দুর্নীতি দমন কমিশন এবং একটি আইনের ওপর নির্ভর করে দুর্নীতি দমন করা দুরূহ বিষয়। এটি প্রত্যাশার অনেক দূরে থাকবে এবং প্রাপ্তিও। এজন্য সকলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এমন মন্তব্য করেছে দুদক চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ।

‘দুর্নীতি কারো কাম্য নয়। কোন ধর্মেই দুর্নীতির কথা নেই। এমনকি যেসব দেশ ধর্ম মানে না তারাও দুর্নীতিকে সমর্থন করে না’ বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যাদের দুর্নীতির বিষয়ে জনশ্রুতি রয়েছে এমন দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। যে প্রতিষ্ঠানের মালিক, প্রতিষ্ঠান প্রধানরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এমন ব্যক্তিদের আওতায় চাকরিও করা ঠিক নয়।

২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৭ বছর পূর্তি শেষে ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পদার্পণ করলো দুদক। দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে দুদক এখন পূর্ণাঙ্গ কমিশন হিসেবে সশস্ত্রভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করছে।

দুদক চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, আমরা নিজেদের নিজেরাই প্রশ্ন করি যে আমি দুর্নীতিমুক্ত কি না। সন্তান তার বাবাকে প্রশ্ন করুক তার বাবা দুর্নীতি করে কি না? আবার স্ত্রী তার স্বামীকে প্রশ্ন করুন তার স্বামী দুর্নীতি করে কি না বা দুর্নীতির টাকায় সংসার চালাচ্ছে কি না।

মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, দুর্নীতির মামলায় অনেক আসামি বিদেশ পালিয়ে যায় এ ব্যাপারে দুদকের কিই বা করার থাকে। আসামিদের বিদেশ যাত্রায় আদালতে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়, আদালত নিষেধাজ্ঞা দেয় তারপরও আসামিরা পালিয়ে যায়। তখন যাদের সহযোগিতায় পালিয়ে যায় তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা দরকার।

দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অহেতুক হয়রানি না করে, যখনই প্রয়োজন তখনই আসামি গ্রেপ্তার করা হবে। দুর্নীতি মামলার আসামিদের কেন গ্রেপ্তার করা হয় না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক অযথা কাউকে হয়রানি করতে চায় না। দুদক কাজ করছে, এটা দেখানোর জন্য যদি গ্রেপ্তার করে, সেটা কাক্সিক্ষত হবে না। যখনই গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হবে, তখনই যে কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।

মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের উদ্দেশে একটাই মেসেজ দুর্নীতি করবেন না, দুর্নীতি যারা করে তাদের বর্জন করবেন। তাদেরকে ঘৃণা করেন। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদক ও সাংবাদিকদের মধ্যে কোন দূরত্ব নেই। খোলা মন নিয়ে আলোচনা করলে সব সমস্যাই সমাধান সম্ভব। আমরা আপনাদের সঙ্গেই কাজ করতে চাই। আমরা আশা করি আপনারা আমাদের সাহায্য করবেন।

দুদক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটি ইতোমধ্যে দুটি সভা করেছে। আমরা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করছি। খুব শীঘ্রই বিষয়টি শনাক্ত করব। দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বিষয় নেই, সবগুলো সমান চোখে দেখি।

আসামি পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসামি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুদকের কী করার আছে। আমরা আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দেই। এরপরও যদি পালিয়ে যায়, তাহলে যেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে তাদের কাছে জানতে চাইতে পারেন।

বেসিক ব্যাংকের মামলা অনন্তকাল ধরে চলবে কি না এক প্রশ্নের জবাবে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, অনন্তকাল কোন কিছুই চলতে পারে না। অবশ্যই এর পরিসমাপ্তি হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত শেষ করার জন্য।

অন্যদিকে দুদক কমিশনার(তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, দুদক আইন অত্যন্ত শক্তিশালী। আইন সাহসিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে মানতে হবে। লোভী মানুষ দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। লোভী মানুষের মেরুদ- দুর্বল। দুর্বল মানুষদের দিয়ে সবল কিছু আশা করা যায় না।

তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং নিয়ে দুদককে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দুদকের এ বিষয়ে কিছু করার নেই। অতি অল্প বিষয় রয়েছে দুদকের কাছে রয়েছে। এটা আপনাদের বলতে হবে, মানিলন্ডারিংয়ের বড় অংশ সরকার আইন করে দুদকের কাছ থেকে নিয়ে গেছে। বেসরকারি পর্যায়ে হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং হয়। দুদকের কি করার আছে? কিছু করার নেই।

অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার(অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান ও দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে দুদক বিটের সংগঠন র‌্যাকের পক্ষ থেকে সেরা রিপোর্টার অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। এবার মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের কাওসার সোহেলি, যুগান্তরের সিরাজুল ইসলাম ও বাংলা ট্রিবিউনের নুরুজ্জামান লাবু সেরা রিপোর্টার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন।

সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২১ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

দুদক ও আইনের ওপর নির্ভর করে দুর্নীতি দমন খুবই ‘দুরূহ’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চেয়ারম্যান

শুধু দুর্নীতি দমন কমিশন এবং একটি আইনের ওপর নির্ভর করে দুর্নীতি দমন করা দুরূহ বিষয়। এটি প্রত্যাশার অনেক দূরে থাকবে এবং প্রাপ্তিও। এজন্য সকলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এমন মন্তব্য করেছে দুদক চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ।

‘দুর্নীতি কারো কাম্য নয়। কোন ধর্মেই দুর্নীতির কথা নেই। এমনকি যেসব দেশ ধর্ম মানে না তারাও দুর্নীতিকে সমর্থন করে না’ বলেন দুদক চেয়ারম্যান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যাদের দুর্নীতির বিষয়ে জনশ্রুতি রয়েছে এমন দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। যে প্রতিষ্ঠানের মালিক, প্রতিষ্ঠান প্রধানরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এমন ব্যক্তিদের আওতায় চাকরিও করা ঠিক নয়।

২১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৭ বছর পূর্তি শেষে ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পদার্পণ করলো দুদক। দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে দুদক এখন পূর্ণাঙ্গ কমিশন হিসেবে সশস্ত্রভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করছে।

দুদক চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, আমরা নিজেদের নিজেরাই প্রশ্ন করি যে আমি দুর্নীতিমুক্ত কি না। সন্তান তার বাবাকে প্রশ্ন করুক তার বাবা দুর্নীতি করে কি না? আবার স্ত্রী তার স্বামীকে প্রশ্ন করুন তার স্বামী দুর্নীতি করে কি না বা দুর্নীতির টাকায় সংসার চালাচ্ছে কি না।

মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, দুর্নীতির মামলায় অনেক আসামি বিদেশ পালিয়ে যায় এ ব্যাপারে দুদকের কিই বা করার থাকে। আসামিদের বিদেশ যাত্রায় আদালতে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়, আদালত নিষেধাজ্ঞা দেয় তারপরও আসামিরা পালিয়ে যায়। তখন যাদের সহযোগিতায় পালিয়ে যায় তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা দরকার।

দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অহেতুক হয়রানি না করে, যখনই প্রয়োজন তখনই আসামি গ্রেপ্তার করা হবে। দুর্নীতি মামলার আসামিদের কেন গ্রেপ্তার করা হয় না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক অযথা কাউকে হয়রানি করতে চায় না। দুদক কাজ করছে, এটা দেখানোর জন্য যদি গ্রেপ্তার করে, সেটা কাক্সিক্ষত হবে না। যখনই গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হবে, তখনই যে কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।

মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের উদ্দেশে একটাই মেসেজ দুর্নীতি করবেন না, দুর্নীতি যারা করে তাদের বর্জন করবেন। তাদেরকে ঘৃণা করেন। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদক ও সাংবাদিকদের মধ্যে কোন দূরত্ব নেই। খোলা মন নিয়ে আলোচনা করলে সব সমস্যাই সমাধান সম্ভব। আমরা আপনাদের সঙ্গেই কাজ করতে চাই। আমরা আশা করি আপনারা আমাদের সাহায্য করবেন।

দুদক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটি ইতোমধ্যে দুটি সভা করেছে। আমরা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করছি। খুব শীঘ্রই বিষয়টি শনাক্ত করব। দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বিষয় নেই, সবগুলো সমান চোখে দেখি।

আসামি পালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসামি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুদকের কী করার আছে। আমরা আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দেই। এরপরও যদি পালিয়ে যায়, তাহলে যেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছে তাদের কাছে জানতে চাইতে পারেন।

বেসিক ব্যাংকের মামলা অনন্তকাল ধরে চলবে কি না এক প্রশ্নের জবাবে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, অনন্তকাল কোন কিছুই চলতে পারে না। অবশ্যই এর পরিসমাপ্তি হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত শেষ করার জন্য।

অন্যদিকে দুদক কমিশনার(তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, দুদক আইন অত্যন্ত শক্তিশালী। আইন সাহসিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে মানতে হবে। লোভী মানুষ দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। লোভী মানুষের মেরুদ- দুর্বল। দুর্বল মানুষদের দিয়ে সবল কিছু আশা করা যায় না।

তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং নিয়ে দুদককে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দুদকের এ বিষয়ে কিছু করার নেই। অতি অল্প বিষয় রয়েছে দুদকের কাছে রয়েছে। এটা আপনাদের বলতে হবে, মানিলন্ডারিংয়ের বড় অংশ সরকার আইন করে দুদকের কাছ থেকে নিয়ে গেছে। বেসরকারি পর্যায়ে হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং হয়। দুদকের কি করার আছে? কিছু করার নেই।

অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার(অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান ও দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে দুদক বিটের সংগঠন র‌্যাকের পক্ষ থেকে সেরা রিপোর্টার অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। এবার মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের কাওসার সোহেলি, যুগান্তরের সিরাজুল ইসলাম ও বাংলা ট্রিবিউনের নুরুজ্জামান লাবু সেরা রিপোর্টার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন।