কেশবপুরে ১০ মাসে ৪১ ট্রান্সফরমার চুরি

কেশবপুরে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র গত ১০ মাসে ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৪১টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে। বোরো মওসুমের শুরুতেই একের পর এক ট্রান্টসফরমার চুরির ঘটনায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা তাদের সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। এসব চুরি প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে স্বয়ং কেশবপুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র থানা পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাখিল করলেও আজও এর রহস্য উদঘাটন হয়নি। গত ৮ নভেম্বর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বৈদ্যুতিক লাইনে স্থাপিত ট্রান্সফরমার একটি সংঘবদ্ধ প্রশিক্ষিত অপরাধী চক্র অন্ধকার রাতে লাইন চালু অবস্থায় চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রান্সফরমার চুরির ক্ষেত্রে প্রথম বার গ্রাহককে ৫০ ভাগ ও পরের বার শতভাগ মূল্য পরিশোধ করে নতুন করে ট্রান্সফরমার নিতে হয়। এতে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘœ ঘটাসহ গ্রাহক হয়রানিও বাড়ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ জনগণকে চুরি প্রতিরোধে পাহারার ব্যবস্থা করাসহ জনসচেতনাতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে মোটিভেশন মিটিং, বারবার মাইকিং করা হলেও ট্রান্সফরমার চুরি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি চুরির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হচ্ছে এমনকি চোরের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এ ব্যাপারে তৎপরতা দেখাচ্ছে না। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুল আজিজ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় তার কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসাধু ব্যক্তিসহ ঠিকাদার, সাব ঠিকাদাররা ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যে কারণে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও এর ক্লু উদঘাটন সম্ভব হচ্ছে না।

মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

কেশবপুরে ১০ মাসে ৪১ ট্রান্সফরমার চুরি

কেশবপুরে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র গত ১০ মাসে ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৪১টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে। বোরো মওসুমের শুরুতেই একের পর এক ট্রান্টসফরমার চুরির ঘটনায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা তাদের সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। এসব চুরি প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে স্বয়ং কেশবপুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র থানা পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাখিল করলেও আজও এর রহস্য উদঘাটন হয়নি। গত ৮ নভেম্বর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বৈদ্যুতিক লাইনে স্থাপিত ট্রান্সফরমার একটি সংঘবদ্ধ প্রশিক্ষিত অপরাধী চক্র অন্ধকার রাতে লাইন চালু অবস্থায় চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রান্সফরমার চুরির ক্ষেত্রে প্রথম বার গ্রাহককে ৫০ ভাগ ও পরের বার শতভাগ মূল্য পরিশোধ করে নতুন করে ট্রান্সফরমার নিতে হয়। এতে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘœ ঘটাসহ গ্রাহক হয়রানিও বাড়ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ জনগণকে চুরি প্রতিরোধে পাহারার ব্যবস্থা করাসহ জনসচেতনাতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে মোটিভেশন মিটিং, বারবার মাইকিং করা হলেও ট্রান্সফরমার চুরি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি চুরির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হচ্ছে এমনকি চোরের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এ ব্যাপারে তৎপরতা দেখাচ্ছে না। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪১টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপ-পরিদর্শক আব্দুল আজিজ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় তার কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসাধু ব্যক্তিসহ ঠিকাদার, সাব ঠিকাদাররা ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যে কারণে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও এর ক্লু উদঘাটন সম্ভব হচ্ছে না।