সারাদেশে বিএনপি’র বিক্ষোভ, কোথাও কোথাও সংঘর্ষ, আটক

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত ও ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

গতকাল ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি’র হাজার খানেক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে দ্রুত ‘মুক্তি না দিলে কঠোর থেকে কঠোরতর’ কর্মসূচি দেবেন তারা।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন আর কোন পথ খোলা নেই। আমাদের সামনে একটাই পথ, আন্দোলন, আন্দোলন আর আন্দোলন। এ আন্দোলনকে তীব্র করে সামনের দিকে আরও বেগবান করতে হবে।’

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘আগামী ২৪ তারিখে আমাদের সব জেলা পর্যায়ের নেতরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবে- এই হচ্ছে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি।’

‘যদি তারপরেও দেশনেত্রীকে মুক্তি দেয়া না হয়, আরও কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচির দিকে আমরা এগিয়ে যাব।’ বলেন ফখরুল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের একটাই কথা, আমরা আমাদের প্রিয় নেত্রী, আপসহীন নেত্রী, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য যার অবদান অনস্বীকার্য, সেই নেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই। আর তিনি মুক্তি পেলে তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা সুযোগ নিতে পারব, বিদেশে চিকিৎসা করাতে পারব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আইনজীবীরা বলছেন, তাকে বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোতে কোন বাধা নেই। কিন্তু আইনমন্ত্রী বলছেন, সুযোগ দেয়া যায় না, বিএনপি অসন্তুষ্ট হলেও কিছু করার নেই। তিনি চাকরির মায়া বেশি করেন। তার কাছে আইনের কোন গুরুত্ব নাই। তার চোখের সামনে দিয়ে ফাঁসির আসামি মুক্ত হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুক্ত হয়ে যায়।’

প্রেসক্লাবের সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম। মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

নাটোরে আলাইপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে।

বরগুনায় পুলিশের বাধায় জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড করা হয়েছে। ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বরিশালে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত ১৩ নভেম্বর থেকে তিনি বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি আছেন।

তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, যেহেতু দণ্ড স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয়া হয়েছে, সেহেতু তাকে এখন বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি যদি কারাগারে ফিরে গিয়ে আবেদন করেন, সরকার তখন তা বিবেচনা করতে পারে বলে সংসদে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

পরে তিনি জানান, বিএনপি চাইলে বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করাতে পারবে।

তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতির দাবিতে গত ২০ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে ৭ ঘণ্টার গণঅনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। কেন্দ্রীয়ভাবে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সেই অনশন হয়। সেখান থেকেই সোমবার এই বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিদেশে চিকিৎসা

সারাদেশে বিএনপি’র বিক্ষোভ, কোথাও কোথাও সংঘর্ষ, আটক

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত ও ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

গতকাল ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি’র হাজার খানেক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে দ্রুত ‘মুক্তি না দিলে কঠোর থেকে কঠোরতর’ কর্মসূচি দেবেন তারা।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন আর কোন পথ খোলা নেই। আমাদের সামনে একটাই পথ, আন্দোলন, আন্দোলন আর আন্দোলন। এ আন্দোলনকে তীব্র করে সামনের দিকে আরও বেগবান করতে হবে।’

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘আগামী ২৪ তারিখে আমাদের সব জেলা পর্যায়ের নেতরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবে- এই হচ্ছে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি।’

‘যদি তারপরেও দেশনেত্রীকে মুক্তি দেয়া না হয়, আরও কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচির দিকে আমরা এগিয়ে যাব।’ বলেন ফখরুল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের একটাই কথা, আমরা আমাদের প্রিয় নেত্রী, আপসহীন নেত্রী, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য যার অবদান অনস্বীকার্য, সেই নেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই। আর তিনি মুক্তি পেলে তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা সুযোগ নিতে পারব, বিদেশে চিকিৎসা করাতে পারব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আইনজীবীরা বলছেন, তাকে বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোতে কোন বাধা নেই। কিন্তু আইনমন্ত্রী বলছেন, সুযোগ দেয়া যায় না, বিএনপি অসন্তুষ্ট হলেও কিছু করার নেই। তিনি চাকরির মায়া বেশি করেন। তার কাছে আইনের কোন গুরুত্ব নাই। তার চোখের সামনে দিয়ে ফাঁসির আসামি মুক্ত হয়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুক্ত হয়ে যায়।’

প্রেসক্লাবের সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম। মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

নাটোরে আলাইপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে।

বরগুনায় পুলিশের বাধায় জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড করা হয়েছে। ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বরিশালে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত ১৩ নভেম্বর থেকে তিনি বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি আছেন।

তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, যেহেতু দণ্ড স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয়া হয়েছে, সেহেতু তাকে এখন বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি যদি কারাগারে ফিরে গিয়ে আবেদন করেন, সরকার তখন তা বিবেচনা করতে পারে বলে সংসদে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

পরে তিনি জানান, বিএনপি চাইলে বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করাতে পারবে।

তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতির দাবিতে গত ২০ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে ৭ ঘণ্টার গণঅনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। কেন্দ্রীয়ভাবে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সেই অনশন হয়। সেখান থেকেই সোমবার এই বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল।