মাহমুদুল্লাহর নাটকীয় শেষ ওভার

টি-২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ১২৪ করার পর সফরকারী দল উইকেট ধরে রেখে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকে। ১৯ ওভার শেষে পাকিস্তান দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১১৭। জয়ের জন্য শেষ ওভারে তাদের প্রয়োজন ৮ রান। বোলিংয়ে আসেন অধিনায়ক মাহামুদুল্লাহ নিজে। প্রথম বল ডটে জমে উঠে খেলা। ক্রিকেট তার সমস্ত উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা আর নাটকীয়তা নিয়ে হাজির হলো ম্যাচের শেষ ওভারে। তিনটি উইকেট, লম্বা ছক্কা, কালক্ষেপণের পাল্টাপাল্টিতে তুমুল জমে উঠল লড়াই। কিন্তু সব রোমাঞ্চের শেষে বাংলাদেশের প্রাপ্তি আবারও হতাশা। শেষ বলে দুই রানের সমীকরণে বাউন্ডারি মেরে পাকিস্তানকে জিতিয়ে দিলেন মোহাম্মদ নওয়াজ।

বাংলাদেশের ১২৪ রান তাড়ায় ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে ছিল পাকিস্তান। শেষ ১২ বলে তাদের প্রয়োজন যখন ১৫ রান, উইকেট তখনও বাকি ৮টি। দারুণ খেলে টিকে আছেন হায়দার আলি। ১৯তম ওভারে দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ৭ রান দেন অভিষিক্ত শহিদুল ইসলাম।

শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার পড়ে ৮ রান। মাহমুদুল্লাহর নিজের বোলিংয়ে আসা ছাড়া বিকল্প খুব একটা ছিল না। বিপিএলে শেষদিকের বোলিংয়ে দারুণ সাফল্যের অভিজ্ঞতাও আছে তার। এবার অভাবনীয় এক জয়ের আশা জাগান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

শেষ ওভারের প্রথম বলে রান নিতে পারেননি সরফরাজ আহমেদ। পরের বলে তিনি মিড উইকেট সীমানায় ধরা পড়েন ছক্কার চেষ্টায়। তৃতীয় বলে আরেকটি উইকেট। এবার থিতু হয়ে যাওয়া হায়দার আলি (৩৮ বলে ৪৫) ধরা পড়েন লং অনে!

ম্যাচ তখন দারুণভাবেই হেলে বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু নতুন ব্যাটসম্যান ইফতিখার আহমেদ প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা মারেন বোলারের মাথার ওপর দিয়ে। তবে নাটকের শেষ নয় সেখানেই। পঞ্চম বলে আবার উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ইফতিখার ধরা পড়েন শর্ট থার্ড ম্যানে।

শেষ বলের আগে নাটক হয় দফায় দফায়। স্নায়ু থিতু করতে দুই দলই সময় নেয় কিছুটা। এরপর মাহমুদুল্লাহ বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে বল ছাড়েন উইকেটের বেশ পেছন থেকে। এতেই হয়তো অপ্রস্তত হয়ে পড়েন নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাওয়াজ। শেষ মুহূর্তে তিনি বল না খেলে ছেড়ে দেন। বল লাগে স্টাম্পে। তবে নওয়াজ দাবি করেন ‘ডেড বল।’ আম্পায়ারও ‘ডেড বল’ সঙ্কেত দেন। মাহমুদুল্লাহ ও বাংলাদেশের ফিল্ডাররা শুরুতে একটু প্রতিবাদ করলেও পরে মেনে নেন। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, মাহমুদুল্লাহর বলটি উইকেটে পিচ করা পর্যন্ত স্টান্সেই ছিলেন নাওয়াজ। বলটি বৈধ হওয়াই তাই ছিল যৌক্তিক।

পরের বল করতে এসে মাহমুদুল্লাহ আবার নেন কিছুটা ‘বদলা।’ বল ছাড়তে গিয়ে শেষ মুহূর্তে ছাড়েননি। শেষ রক্ষা যদিও হয়নি। বলটি যখন হলো, ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে আনন্দে ভাসলেন নেওয়াজ।

মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

মাহমুদুল্লাহর নাটকীয় শেষ ওভার

image

টি-২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ১২৪ করার পর সফরকারী দল উইকেট ধরে রেখে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকে। ১৯ ওভার শেষে পাকিস্তান দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১১৭। জয়ের জন্য শেষ ওভারে তাদের প্রয়োজন ৮ রান। বোলিংয়ে আসেন অধিনায়ক মাহামুদুল্লাহ নিজে। প্রথম বল ডটে জমে উঠে খেলা। ক্রিকেট তার সমস্ত উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা আর নাটকীয়তা নিয়ে হাজির হলো ম্যাচের শেষ ওভারে। তিনটি উইকেট, লম্বা ছক্কা, কালক্ষেপণের পাল্টাপাল্টিতে তুমুল জমে উঠল লড়াই। কিন্তু সব রোমাঞ্চের শেষে বাংলাদেশের প্রাপ্তি আবারও হতাশা। শেষ বলে দুই রানের সমীকরণে বাউন্ডারি মেরে পাকিস্তানকে জিতিয়ে দিলেন মোহাম্মদ নওয়াজ।

বাংলাদেশের ১২৪ রান তাড়ায় ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে ছিল পাকিস্তান। শেষ ১২ বলে তাদের প্রয়োজন যখন ১৫ রান, উইকেট তখনও বাকি ৮টি। দারুণ খেলে টিকে আছেন হায়দার আলি। ১৯তম ওভারে দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ৭ রান দেন অভিষিক্ত শহিদুল ইসলাম।

শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার পড়ে ৮ রান। মাহমুদুল্লাহর নিজের বোলিংয়ে আসা ছাড়া বিকল্প খুব একটা ছিল না। বিপিএলে শেষদিকের বোলিংয়ে দারুণ সাফল্যের অভিজ্ঞতাও আছে তার। এবার অভাবনীয় এক জয়ের আশা জাগান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

শেষ ওভারের প্রথম বলে রান নিতে পারেননি সরফরাজ আহমেদ। পরের বলে তিনি মিড উইকেট সীমানায় ধরা পড়েন ছক্কার চেষ্টায়। তৃতীয় বলে আরেকটি উইকেট। এবার থিতু হয়ে যাওয়া হায়দার আলি (৩৮ বলে ৪৫) ধরা পড়েন লং অনে!

ম্যাচ তখন দারুণভাবেই হেলে বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু নতুন ব্যাটসম্যান ইফতিখার আহমেদ প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা মারেন বোলারের মাথার ওপর দিয়ে। তবে নাটকের শেষ নয় সেখানেই। পঞ্চম বলে আবার উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ইফতিখার ধরা পড়েন শর্ট থার্ড ম্যানে।

শেষ বলের আগে নাটক হয় দফায় দফায়। স্নায়ু থিতু করতে দুই দলই সময় নেয় কিছুটা। এরপর মাহমুদুল্লাহ বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে বল ছাড়েন উইকেটের বেশ পেছন থেকে। এতেই হয়তো অপ্রস্তত হয়ে পড়েন নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাওয়াজ। শেষ মুহূর্তে তিনি বল না খেলে ছেড়ে দেন। বল লাগে স্টাম্পে। তবে নওয়াজ দাবি করেন ‘ডেড বল।’ আম্পায়ারও ‘ডেড বল’ সঙ্কেত দেন। মাহমুদুল্লাহ ও বাংলাদেশের ফিল্ডাররা শুরুতে একটু প্রতিবাদ করলেও পরে মেনে নেন। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, মাহমুদুল্লাহর বলটি উইকেটে পিচ করা পর্যন্ত স্টান্সেই ছিলেন নাওয়াজ। বলটি বৈধ হওয়াই তাই ছিল যৌক্তিক।

পরের বল করতে এসে মাহমুদুল্লাহ আবার নেন কিছুটা ‘বদলা।’ বল ছাড়তে গিয়ে শেষ মুহূর্তে ছাড়েননি। শেষ রক্ষা যদিও হয়নি। বলটি যখন হলো, ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে আনন্দে ভাসলেন নেওয়াজ।