সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ঘাতকদের সন্ধানে পুলিশ

প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগীকে হত্যার দুদিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘাতকদের সন্ধানে মাঠে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নগরজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কাউন্সিলর অফিসের সামনে স্থাপন করা ও পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্ত্রাসীদের নির্মম দৃশ্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যায় জড়িত সন্দেহে শাহ আলমসহ তার কয়েক সহযোগীকে আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থল ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন সড়কে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। এদিকে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে গত সোমবার রাত থেকে হামলা ও ভাঙচুর আতঙ্কে অনেকেই বাড়িছাড়া। বাদ জোহর জানাজা শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে কাউন্সিলর সোহেলকে সমাহিত করা হয়েছে। এছাড়াও নিহত হরিপদ সাহার শেষকৃত্য টিক্কাচর শ্মশানে সম্পন্ন হয়।

হামলা ও ভাঙচুরের সময় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুজানগর এলাকার বাসিন্দা বাখরাবাদ গ্যাসের কর্মচারী শাহীনুর ইসলাম সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান বলে দাবি করেন তার ছেলে মো. সানজিদ ও শামীম।

এদিকে গতকাল বিকেলে নগরীর সংরাইশ বড়পুকুরপাড় এলাকা থেকে অস্ত্র, বুলেট ও কিছু হাত বোমা উদ্ধার পুলিশ।

জানা গেছে, কালো পোশাক, হেলমেট ও মুখোশ পরিহিত ৮-১০ জনের একটি সশ¯্র সন্ত্রাসী গ্রুপ গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলের মালিকানাধীন পাথুরিয়াপাড়ার থ্রী স্টার এন্টারপ্রাইজ নামের কার্যালয়ে প্রবেশের আগেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

স্থানীয়রা জানান, কালো মুখোশ পরে এবং কাঁধে ব্যাগ নিয়ে অস্ত্রসহ কয়েকজন পার্শ্ববর্তী জগন্নাথ দেবের মন্দির বরাবর রাস্তার উপর মহড়া দেয়। আরও কয়েকজন কাউন্সিলর অফিসের সোজা দক্ষিণে তার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তার মাথায় এবং অপর একটি গ্রুপ পশ্চিম পাশের রাস্তায় ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। অস্ত্র হাতে নিয়ে সবাই কাউন্সিলরের অফিসে প্রবেশ করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে চাইলে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাউন্সিলর সোহেলের ব্যক্তিগত সহকারী বাদল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, কালো পোশাক পরা সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলমের নেতৃত্বে কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। শাহ আলমই প্রথমে কাউন্সিলরের বুকে ও মাথায় গুলি চালায়।

এ সময় কাউন্সিলর আত্মরক্ষার্থে নিচে বসে চেয়ারটি মাথায় রাখার সময় আরও গুলি চালানো হয়। একপর্যায়ে কাউন্সিলর অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার সহযোগী জেল সোহেল লাথি মারে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা ওই কার্যালয়ে অবস্থানরত অন্যান্যদের উপরও এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে শাহআলমের সহযোগী সাব্বির এলাকায় ডাকাতি করতে গেলে জনতা বাধা দেয়। এ সময় শাহআলম গুলি চালিয়ে সাব্বিরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

এ বিষয়টি কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল পুলিশকে অবহিত করেছিল। এরপর থেকে শাহআলম ও তার লোকজন কাউন্সিলরের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেছেন বাদল।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘাতকদের সন্ধানে পুলিশ

নগরীর পাথুরিয়াপাড়া এলাকায় থ্রিস্টার এন্টারপ্রাইজ নামের যে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহাকে গুলি করা হয় ওই অফিসের সামনে রয়েছে ৩টি সিসিটিভি ক্যামেরা। পুলিশ ঘটনার পর রাতেই এসব সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এসব ফুটেজ থেকে ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানিয়েছে। এদিকে কেন প্রকাশ্যে এই গুলির ঘটনা- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ, পিবিআই, র‌্যাব ও সিআইডি। স্থানীয় সূত্র জানায়, কাউন্সিলর সোহেল ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের এমপি হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিনের অনুসারী এবং ১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর।

নগরীর প্রভাবশালী এ কাউন্সিলরকে এভাবে প্রকাশ্যেই নিজ কার্যালয়ে খুনের ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তবে এ নিয়ে পুলিশ এখনও সরাসরি মন্তব্য না করলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুজানগরসংলগ্ন নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা শাহআলমের সঙ্গে কাউন্সিলর সোহেলের বিরোধ চলছিল। শাহআলম একজন মাদক ব্যবসায়ী। সোহেল কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে শাহআলমের মাদক ব্যবসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও শাহআলম গ্রুপের সঙ্গে কাউন্সিলর সোহেলের এলাকায় আধিপত্যসহ বিভিন্ন কারণে বিরোধ চলছিল।

গত সোমবার বিকেলে কালো মুখোশ পরে শাহআলমসহ অন্য সশস্ত্র ক্যাডার কিলিং মিশনে অংশ নেয়ার খবর স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেলেও পুলিশ এ পর্যন্ত এ ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে তদন্তে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী শাহআলমের জড়িত থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসায় তাকেও আটক করার চেষ্টা চলছে। তাকে আটক করতে পারলে ঘটনার পুরো রহস্য উন্মোচিত হবে। শাহআলমের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও পুলিশের উপর হামলাসহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দোকানপাট ও বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর-আগুন, আতঙ্কে একজনের মৃত্যুর অভিযোগ

দুইটি হত্যাকা-ের পর সোমবার রাতে নগরীর সুজানগরে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া সোমবার রাতে দফায় দফায় সুজানগর, বউবাজার, নবগ্রাম এলাকার দোকানপাট ও বিভিন্ন বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সুজানগরের শামীম মিয়া, সানজিদসহ এলাকাবাসী জানান, কাউন্সিলর সোহেল ভালো লোক ছিলেন, আমরা ভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও সবার সঙ্গে ছিল তার সুসম্পর্ক। আমরাও চাই এ খুনের বিচার হোক।

আমাদের মালামাল গেছে তাতে ক্ষতি নেই, এখন জীবনের নিরাপত্তা চাই। সোমবার রাতে ওই এলাকায় অন্যান্যদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের সময় সুজানগর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা বাখরাবাদ গ্যাসের কর্মচারী শাহীনুর ইসলামের বাড়িতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তার দুই ছেলে শামীম ও সানজিদ সাংবাদিকদের জানান, তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের সময় তাদের বাবা শাহীনুর ইসলাম ঘরে ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে হার্টঅ্যাটাক করলে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে এবং মঙ্গলবার তাকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

কাউন্সিলর সোহেলের জানাজা ও হরিপদের শেষকৃত্যে শোকার্ত মানুষের ঢল

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহার লাশ তাদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় হাজারও নারী-পুরুষ তাদের লাশ একনজর দেখার জন্য ভিড় জমান এবং নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবার মরদেহ দেখে কাউন্সিলর সোহেলের একমাত্র ছেলে সৈয়দ মো. হাফিজুল ইসলাম, বড় মেয়ে কুমিল্লার ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহা, ছোট মেয়ে কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিফতাউল জান্নাতও কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় নিহত সোহেলের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার আহাজারি করে বলেন, আমার স্বামী কারও সঙ্গে অন্যায় করেনি, তাকে কেন এভাবে মেরে ফেলা হলো? সোহেলের শ্বশুর হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সোহেল দুইবার কাউন্সিলর হয়ে এলাকায় মানুষের অনেক উপকার করেছে। করোনার সময় সহায়তা নিয়ে বাসায় বাসায় ছুটে গেছেন, তার অনেক জনপ্রিয়তা ছিল। এজন্যই তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে বাদ জোহর পাথুরিয়াপাড়া ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়।

জানাজায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম টুটুল, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ সহিদ প্রমুখ। পরে তার লাশ ঈদগাঁসংলগ্ন পাথুরিয়াপাড়া কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। হরিপদের স্ত্রী ও সন্তান না থাকায় তার লাশ সাহাপাড়া মন্দিরে রাখা হয়। সেখানে তার স্বজনসহ এলাকার লোকজন ভিড় জমান। পরে নগরীর টিক্কারচর শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। নিহত হরিপদ দাসের ভাতিজা মিন্টু সাহা জানান, হরিপদ নিঃসন্তান ছিল, তার স্ত্রী রেনু বালা সাহা ৬ মাস আগে মারা গেছেন। তাকে কেন এভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলো।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৭ বছরে ৫ হত্যাকা-

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৭ বছরে নগরীর ১৬ ও ১৭নং ওয়ার্ডে ৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সুজানগর, পাথুরিয়াপাড়া সংরাইশ, বউবাজার, নবগ্রাম এলাকায় ঠিকাদারী, রাজনৈতিক বিরোধ, বালু ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ে এসব হত্যাকা- সংঘটিত হয়। স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসায়ী শাহআলমের বাবা জানু মিয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন। এ খুনের মামলার আসামি রানাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া সংরাইশের ঠিকাদার আবদুল মতিনকেও সন্ত্রাসীরা খুন করে।

এসব মামলা এখন আদালতে বিচারাধীন। সর্বশেষ পাথুরিয়াপাড়ায় হত্যাকা-ের শিকার হন কাউন্সিলর সোহেল ও আওয়ামী লীগ নেতা হরিপদ সাহা। এসব হত্যাকা-ের সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকটি গ্রুপে বিরোধ চলছিল। এছাড়াও দুইবার সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত সোহেল আসন্ন সিটি নির্বাচনেও প্রার্থী হতে যাচ্ছেন- এমন আগাম প্রচারণাও ছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে প্রতিপক্ষ গ্রুপ এমন হত্যাকা- ঘটিয়ে থাকতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলা-গ্রেপ্তার

ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল ও আওয়ামী লীগ নেতা হরিপদ সাহা হত্যাকা-ের ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি এবং কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনওয়ারুল আজিম।

অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

ঘটনার দ্বিতীয় দিন গতকাল বিকেলে নগরীর সংরাইশ এলাকার একটি বাসার পেছন থেকে অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান সরকার জানান, নগরীর সংরাইশ বড় পুকুরপাড়সংলগ্ন তাজিহা লজ নামে একটি বাড়িতে বাউন্ডারি থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি এলজি, একটি পাইপগান, ১৫-২০টি অবিস্ফোরিত বোমাসদৃশ বস্তু, তিনটি কালো ব্যাগ, দুটি কালো জামা ও ১২ রাউন্ড তাজা বুলেট উদ্ধার করা হয়। কাউন্সিলর সোহেলকে যেখানে হত্যা করা হয়, সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি বাড়ির সীমানা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ কাউন্সিলরসহ দুইজনকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, কাউন্সিলর সোহেল ভালো লোক ছিলেন। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে যারাই জড়িত রয়েছে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।’ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, যারা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে আমাদের জনপ্রিয় একজন সহযোদ্ধাকে হত্যা করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবি করছি। কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

বুধবার, ২৪ নভেম্বর ২০২১ , ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

কুমিল্লায় সহযোগীসহ সোহেল হত্যা

সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ঘাতকদের সন্ধানে পুলিশ

বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর-আগুন

প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগীকে হত্যার দুদিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘাতকদের সন্ধানে মাঠে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নগরজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কাউন্সিলর অফিসের সামনে স্থাপন করা ও পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্ত্রাসীদের নির্মম দৃশ্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যায় জড়িত সন্দেহে শাহ আলমসহ তার কয়েক সহযোগীকে আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থল ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন সড়কে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। এদিকে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে গত সোমবার রাত থেকে হামলা ও ভাঙচুর আতঙ্কে অনেকেই বাড়িছাড়া। বাদ জোহর জানাজা শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে কাউন্সিলর সোহেলকে সমাহিত করা হয়েছে। এছাড়াও নিহত হরিপদ সাহার শেষকৃত্য টিক্কাচর শ্মশানে সম্পন্ন হয়।

হামলা ও ভাঙচুরের সময় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুজানগর এলাকার বাসিন্দা বাখরাবাদ গ্যাসের কর্মচারী শাহীনুর ইসলাম সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান বলে দাবি করেন তার ছেলে মো. সানজিদ ও শামীম।

এদিকে গতকাল বিকেলে নগরীর সংরাইশ বড়পুকুরপাড় এলাকা থেকে অস্ত্র, বুলেট ও কিছু হাত বোমা উদ্ধার পুলিশ।

জানা গেছে, কালো পোশাক, হেলমেট ও মুখোশ পরিহিত ৮-১০ জনের একটি সশ¯্র সন্ত্রাসী গ্রুপ গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলের মালিকানাধীন পাথুরিয়াপাড়ার থ্রী স্টার এন্টারপ্রাইজ নামের কার্যালয়ে প্রবেশের আগেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

স্থানীয়রা জানান, কালো মুখোশ পরে এবং কাঁধে ব্যাগ নিয়ে অস্ত্রসহ কয়েকজন পার্শ্ববর্তী জগন্নাথ দেবের মন্দির বরাবর রাস্তার উপর মহড়া দেয়। আরও কয়েকজন কাউন্সিলর অফিসের সোজা দক্ষিণে তার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তার মাথায় এবং অপর একটি গ্রুপ পশ্চিম পাশের রাস্তায় ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুলের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। অস্ত্র হাতে নিয়ে সবাই কাউন্সিলরের অফিসে প্রবেশ করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে চাইলে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাউন্সিলর সোহেলের ব্যক্তিগত সহকারী বাদল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, কালো পোশাক পরা সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলমের নেতৃত্বে কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। শাহ আলমই প্রথমে কাউন্সিলরের বুকে ও মাথায় গুলি চালায়।

এ সময় কাউন্সিলর আত্মরক্ষার্থে নিচে বসে চেয়ারটি মাথায় রাখার সময় আরও গুলি চালানো হয়। একপর্যায়ে কাউন্সিলর অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার সহযোগী জেল সোহেল লাথি মারে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা ওই কার্যালয়ে অবস্থানরত অন্যান্যদের উপরও এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে শাহআলমের সহযোগী সাব্বির এলাকায় ডাকাতি করতে গেলে জনতা বাধা দেয়। এ সময় শাহআলম গুলি চালিয়ে সাব্বিরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

এ বিষয়টি কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল পুলিশকে অবহিত করেছিল। এরপর থেকে শাহআলম ও তার লোকজন কাউন্সিলরের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেছেন বাদল।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘাতকদের সন্ধানে পুলিশ

নগরীর পাথুরিয়াপাড়া এলাকায় থ্রিস্টার এন্টারপ্রাইজ নামের যে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহাকে গুলি করা হয় ওই অফিসের সামনে রয়েছে ৩টি সিসিটিভি ক্যামেরা। পুলিশ ঘটনার পর রাতেই এসব সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এসব ফুটেজ থেকে ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানিয়েছে। এদিকে কেন প্রকাশ্যে এই গুলির ঘটনা- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ, পিবিআই, র‌্যাব ও সিআইডি। স্থানীয় সূত্র জানায়, কাউন্সিলর সোহেল ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের এমপি হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিনের অনুসারী এবং ১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর।

নগরীর প্রভাবশালী এ কাউন্সিলরকে এভাবে প্রকাশ্যেই নিজ কার্যালয়ে খুনের ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তবে এ নিয়ে পুলিশ এখনও সরাসরি মন্তব্য না করলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুজানগরসংলগ্ন নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা শাহআলমের সঙ্গে কাউন্সিলর সোহেলের বিরোধ চলছিল। শাহআলম একজন মাদক ব্যবসায়ী। সোহেল কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে শাহআলমের মাদক ব্যবসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও শাহআলম গ্রুপের সঙ্গে কাউন্সিলর সোহেলের এলাকায় আধিপত্যসহ বিভিন্ন কারণে বিরোধ চলছিল।

গত সোমবার বিকেলে কালো মুখোশ পরে শাহআলমসহ অন্য সশস্ত্র ক্যাডার কিলিং মিশনে অংশ নেয়ার খবর স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেলেও পুলিশ এ পর্যন্ত এ ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে তদন্তে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী শাহআলমের জড়িত থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসায় তাকেও আটক করার চেষ্টা চলছে। তাকে আটক করতে পারলে ঘটনার পুরো রহস্য উন্মোচিত হবে। শাহআলমের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও পুলিশের উপর হামলাসহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দোকানপাট ও বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর-আগুন, আতঙ্কে একজনের মৃত্যুর অভিযোগ

দুইটি হত্যাকা-ের পর সোমবার রাতে নগরীর সুজানগরে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া সোমবার রাতে দফায় দফায় সুজানগর, বউবাজার, নবগ্রাম এলাকার দোকানপাট ও বিভিন্ন বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সুজানগরের শামীম মিয়া, সানজিদসহ এলাকাবাসী জানান, কাউন্সিলর সোহেল ভালো লোক ছিলেন, আমরা ভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও সবার সঙ্গে ছিল তার সুসম্পর্ক। আমরাও চাই এ খুনের বিচার হোক।

আমাদের মালামাল গেছে তাতে ক্ষতি নেই, এখন জীবনের নিরাপত্তা চাই। সোমবার রাতে ওই এলাকায় অন্যান্যদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের সময় সুজানগর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা বাখরাবাদ গ্যাসের কর্মচারী শাহীনুর ইসলামের বাড়িতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তার দুই ছেলে শামীম ও সানজিদ সাংবাদিকদের জানান, তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের সময় তাদের বাবা শাহীনুর ইসলাম ঘরে ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে হার্টঅ্যাটাক করলে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে এবং মঙ্গলবার তাকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

কাউন্সিলর সোহেলের জানাজা ও হরিপদের শেষকৃত্যে শোকার্ত মানুষের ঢল

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহার লাশ তাদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় হাজারও নারী-পুরুষ তাদের লাশ একনজর দেখার জন্য ভিড় জমান এবং নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবার মরদেহ দেখে কাউন্সিলর সোহেলের একমাত্র ছেলে সৈয়দ মো. হাফিজুল ইসলাম, বড় মেয়ে কুমিল্লার ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহা, ছোট মেয়ে কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিফতাউল জান্নাতও কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় নিহত সোহেলের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার আহাজারি করে বলেন, আমার স্বামী কারও সঙ্গে অন্যায় করেনি, তাকে কেন এভাবে মেরে ফেলা হলো? সোহেলের শ্বশুর হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সোহেল দুইবার কাউন্সিলর হয়ে এলাকায় মানুষের অনেক উপকার করেছে। করোনার সময় সহায়তা নিয়ে বাসায় বাসায় ছুটে গেছেন, তার অনেক জনপ্রিয়তা ছিল। এজন্যই তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে বাদ জোহর পাথুরিয়াপাড়া ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়।

জানাজায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম টুটুল, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ সহিদ প্রমুখ। পরে তার লাশ ঈদগাঁসংলগ্ন পাথুরিয়াপাড়া কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। হরিপদের স্ত্রী ও সন্তান না থাকায় তার লাশ সাহাপাড়া মন্দিরে রাখা হয়। সেখানে তার স্বজনসহ এলাকার লোকজন ভিড় জমান। পরে নগরীর টিক্কারচর শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। নিহত হরিপদ দাসের ভাতিজা মিন্টু সাহা জানান, হরিপদ নিঃসন্তান ছিল, তার স্ত্রী রেনু বালা সাহা ৬ মাস আগে মারা গেছেন। তাকে কেন এভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলো।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৭ বছরে ৫ হত্যাকা-

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৭ বছরে নগরীর ১৬ ও ১৭নং ওয়ার্ডে ৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সুজানগর, পাথুরিয়াপাড়া সংরাইশ, বউবাজার, নবগ্রাম এলাকায় ঠিকাদারী, রাজনৈতিক বিরোধ, বালু ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ে এসব হত্যাকা- সংঘটিত হয়। স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসায়ী শাহআলমের বাবা জানু মিয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন। এ খুনের মামলার আসামি রানাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া সংরাইশের ঠিকাদার আবদুল মতিনকেও সন্ত্রাসীরা খুন করে।

এসব মামলা এখন আদালতে বিচারাধীন। সর্বশেষ পাথুরিয়াপাড়ায় হত্যাকা-ের শিকার হন কাউন্সিলর সোহেল ও আওয়ামী লীগ নেতা হরিপদ সাহা। এসব হত্যাকা-ের সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকটি গ্রুপে বিরোধ চলছিল। এছাড়াও দুইবার সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত সোহেল আসন্ন সিটি নির্বাচনেও প্রার্থী হতে যাচ্ছেন- এমন আগাম প্রচারণাও ছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে প্রতিপক্ষ গ্রুপ এমন হত্যাকা- ঘটিয়ে থাকতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলা-গ্রেপ্তার

ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল ও আওয়ামী লীগ নেতা হরিপদ সাহা হত্যাকা-ের ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি এবং কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনওয়ারুল আজিম।

অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

ঘটনার দ্বিতীয় দিন গতকাল বিকেলে নগরীর সংরাইশ এলাকার একটি বাসার পেছন থেকে অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান সরকার জানান, নগরীর সংরাইশ বড় পুকুরপাড়সংলগ্ন তাজিহা লজ নামে একটি বাড়িতে বাউন্ডারি থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি এলজি, একটি পাইপগান, ১৫-২০টি অবিস্ফোরিত বোমাসদৃশ বস্তু, তিনটি কালো ব্যাগ, দুটি কালো জামা ও ১২ রাউন্ড তাজা বুলেট উদ্ধার করা হয়। কাউন্সিলর সোহেলকে যেখানে হত্যা করা হয়, সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি বাড়ির সীমানা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ কাউন্সিলরসহ দুইজনকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, কাউন্সিলর সোহেল ভালো লোক ছিলেন। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে যারাই জড়িত রয়েছে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।’ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত বলেন, যারা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে আমাদের জনপ্রিয় একজন সহযোদ্ধাকে হত্যা করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবি করছি। কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।