এবার রাজশাহীর কাটাখালী পৌর মেয়রকে নিয়ে বিতর্ক

বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল স্থাপন নিয়ে বিরূপ বক্তব্য, অডিও ক্লিপ ফাঁস

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে দুইবারের নির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী মনে করেন ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল স্থাপন ইসলামের চোখে মহাপাপ।’ এ কারণে ‘জীবন দিয়ে হলেও’ রাজশাহী সিটি গেটে ‘বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল বসাতে না দেয়ার নির্দেশ’ দিয়েছেন এই মেয়র।

মেয়র আব্বাস আলীর এমন বক্তব্য সম্বলিত একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ এখন ভাইরাল হয়ে ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রোববার রাত থেকে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত পৌর মেয়রের জাতির পিতার মুর‌্যাল নিয়ে এমন অবমাননাকর বক্তব্যে রাজশাহীজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যদিও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন মেয়র আব্বাস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যাচ্ছে, মেয়র আব্বাস একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে ফার্মকে দিয়েছে, তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে। ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু ঠেকে গেছি গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে, যে মুর‌্যালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরীয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না, সব করবো তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (মুর‌্যাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি আমাকে যেভাবে বুঝাইছে আমি দেখতে পাচ্ছি যে মুর‌্যালটা ঠিক হবে না দিলে, আমার পাপ হবে, তো কেন দিব, দিব না। আমিতো কানা না, যেভাবে বোঝাইছে তাতে আমার মনে হইছে মুর‌্যালটা হলে আমার ভুল করা হবে। এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে, এই মুর‌্যাল দিত চেয়ে দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করবো নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষরে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগেরও সদস্য। তবে অডিওটি তার নয় বলে দাবি করে পুরো ঘটনা অস্বীকার করেছেন এই মেয়র। তিনি বলেন, ‘মুর‌্যাল করা যাবে না, মুর‌্যাল করলে পাপ হবে, এ ধরনের কথা আমার সঙ্গে করাও হয়নি।’

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে তার আওয়ামী লীগ করার অধিকার থাকে না। কাটাখালির মেয়র বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যদি কোন কটূক্তি করে থাকে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘মেয়র আব্বাস যদি এই ধরনের কথা বলেই থাকেন, তবে তিনি দলে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবে আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করবে এটা মেনে নেয়া যাবে না।’

এদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি এবং বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা দেয়ার প্রতিবাদে রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আজ বেলা সাড়ে ১০টায় কাটাখালি বাজারে এ বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেন পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক জহুরুল আলম রিপন।

গতকাল দুপুরে তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করে সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, দ্রুত মেয়র আব্বাস আলীকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মেয়র পদ থেকেও তাকে অপসারণ করার দাবি জানানো হবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে

বুধবার, ২৪ নভেম্বর ২০২১ , ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

এবার রাজশাহীর কাটাখালী পৌর মেয়রকে নিয়ে বিতর্ক

বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল স্থাপন নিয়ে বিরূপ বক্তব্য, অডিও ক্লিপ ফাঁস
image

কুমিল্লা : নিহত কাউন্সিলর সোহেলের স্বজনদের আহাজারি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে দুইবারের নির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী মনে করেন ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল স্থাপন ইসলামের চোখে মহাপাপ।’ এ কারণে ‘জীবন দিয়ে হলেও’ রাজশাহী সিটি গেটে ‘বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল বসাতে না দেয়ার নির্দেশ’ দিয়েছেন এই মেয়র।

মেয়র আব্বাস আলীর এমন বক্তব্য সম্বলিত একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ এখন ভাইরাল হয়ে ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রোববার রাত থেকে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত পৌর মেয়রের জাতির পিতার মুর‌্যাল নিয়ে এমন অবমাননাকর বক্তব্যে রাজশাহীজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যদিও পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন মেয়র আব্বাস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যাচ্ছে, মেয়র আব্বাস একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে ফার্মকে দিয়েছে, তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে। ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু ঠেকে গেছি গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে, যে মুর‌্যালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরীয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না, সব করবো তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (মুর‌্যাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি আমাকে যেভাবে বুঝাইছে আমি দেখতে পাচ্ছি যে মুর‌্যালটা ঠিক হবে না দিলে, আমার পাপ হবে, তো কেন দিব, দিব না। আমিতো কানা না, যেভাবে বোঝাইছে তাতে আমার মনে হইছে মুর‌্যালটা হলে আমার ভুল করা হবে। এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে, এই মুর‌্যাল দিত চেয়ে দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করবো নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষরে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগেরও সদস্য। তবে অডিওটি তার নয় বলে দাবি করে পুরো ঘটনা অস্বীকার করেছেন এই মেয়র। তিনি বলেন, ‘মুর‌্যাল করা যাবে না, মুর‌্যাল করলে পাপ হবে, এ ধরনের কথা আমার সঙ্গে করাও হয়নি।’

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে তার আওয়ামী লীগ করার অধিকার থাকে না। কাটাখালির মেয়র বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যদি কোন কটূক্তি করে থাকে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘মেয়র আব্বাস যদি এই ধরনের কথা বলেই থাকেন, তবে তিনি দলে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করবে আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করবে এটা মেনে নেয়া যাবে না।’

এদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি এবং বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা দেয়ার প্রতিবাদে রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আজ বেলা সাড়ে ১০টায় কাটাখালি বাজারে এ বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেন পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক জহুরুল আলম রিপন।

গতকাল দুপুরে তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করে সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, দ্রুত মেয়র আব্বাস আলীকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মেয়র পদ থেকেও তাকে অপসারণ করার দাবি জানানো হবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে