মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়লো : বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশ

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়লো ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে সাড়ে তিন বছর। এদিকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে কর্তৃপক্ষ গঠন করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে এই তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এ সভায় যোগ দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও সোনাদিয়া পর্যটনকেন্দ্র মিলে এই কর্তৃপক্ষ কাজ করবে। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

এদিকে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর কারণ ব্যখ্যা করে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শরীফা খান বলেন, প্রথম পর্যায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জেটিসহ কয়লা খালাসের অবকাঠামো তৈরি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ছিল। মাতারবাড়ি নতুন করে গভীর চ্যানেল তৈরি করা হবে। মূল ব্যয় হবে এই খাতেই। এর আগে ছিল ছোট পরিসর, এখন বড় পরিসরে হবে কাজটি। অবস্থানগত কারণে এটিকে এখন বন্দর হিসেবে উন্নীত করতে চায় সরকার। তা করতে গিয়ে চ্যানেল, জেটি, ভূমি উন্নয়ন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অংশের কাজের পরিমাণ ও ব্যয় বাড়ছে।

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা এলাকায় বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত (ফাস্ট ট্র্যাক) প্রকল্পের একটি। মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মূল প্রকল্প ব্যয় ছিল ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এখন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৫১ হাজার ৮৫৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, মাতারবাড়ী-ধলঘাটা ইউনিয়নে সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরির প্রকল্পটির আওতায় সমুদ্রপথে কয়লা পরিবহনের জন্য ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ২৫০ মিটার প্রশস্ত, ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীর চ্যানেলসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে অবকাঠামো তৈরি এবং কয়লা ও তেল আনলোডিং জেটিসহ অন্য অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।

চ্যানেলটির গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো হবে। এছাড়াও টাউনশিপ নির্মাণের ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে প্রকল্পটির সার্বিক ব্যয় বাড়ছে বলেও এ সময় জানানো হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, মাতারবাড়িতে টাউনশিপ গড়ে তোলা হবে। কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সোনাদিয়া পর্যটনকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে। এই সামগ্রিক কর্মকা- সমন্বয় করার জন্য একটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর নাম ‘মাতাবাড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ হতে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব করেছেন বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটিতে আগে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা)র ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা দেয়ার কথা ছিল। এবার সেই ঋণ বাড়িয়ে জাইকা মোট দিচ্ছে প্রায় ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। আর প্রকল্পটিতে সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে ৬ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে সরকারের যোগান দেয়া টাকার সিংহভাগ ভূমি উন্নয়নসহ বাণিজ্যিক জেটি তৈরির কাজে ব্যবহার হবে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই টাকা পরিশোধ করবে।

বুধবার, ২৪ নভেম্বর ২০২১ , ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়লো : বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশ

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়লো ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে সাড়ে তিন বছর। এদিকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে কর্তৃপক্ষ গঠন করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে এই তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এ সভায় যোগ দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও সোনাদিয়া পর্যটনকেন্দ্র মিলে এই কর্তৃপক্ষ কাজ করবে। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

এদিকে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর কারণ ব্যখ্যা করে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শরীফা খান বলেন, প্রথম পর্যায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জেটিসহ কয়লা খালাসের অবকাঠামো তৈরি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ছিল। মাতারবাড়ি নতুন করে গভীর চ্যানেল তৈরি করা হবে। মূল ব্যয় হবে এই খাতেই। এর আগে ছিল ছোট পরিসর, এখন বড় পরিসরে হবে কাজটি। অবস্থানগত কারণে এটিকে এখন বন্দর হিসেবে উন্নীত করতে চায় সরকার। তা করতে গিয়ে চ্যানেল, জেটি, ভূমি উন্নয়ন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অংশের কাজের পরিমাণ ও ব্যয় বাড়ছে।

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা এলাকায় বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত (ফাস্ট ট্র্যাক) প্রকল্পের একটি। মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মূল প্রকল্প ব্যয় ছিল ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এখন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৫১ হাজার ৮৫৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, মাতারবাড়ী-ধলঘাটা ইউনিয়নে সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরির প্রকল্পটির আওতায় সমুদ্রপথে কয়লা পরিবহনের জন্য ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ২৫০ মিটার প্রশস্ত, ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীর চ্যানেলসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে অবকাঠামো তৈরি এবং কয়লা ও তেল আনলোডিং জেটিসহ অন্য অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।

চ্যানেলটির গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো হবে। এছাড়াও টাউনশিপ নির্মাণের ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে প্রকল্পটির সার্বিক ব্যয় বাড়ছে বলেও এ সময় জানানো হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, মাতারবাড়িতে টাউনশিপ গড়ে তোলা হবে। কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সোনাদিয়া পর্যটনকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে। এই সামগ্রিক কর্মকা- সমন্বয় করার জন্য একটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর নাম ‘মাতাবাড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ হতে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব করেছেন বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটিতে আগে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা)র ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা দেয়ার কথা ছিল। এবার সেই ঋণ বাড়িয়ে জাইকা মোট দিচ্ছে প্রায় ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। আর প্রকল্পটিতে সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে ৬ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে সরকারের যোগান দেয়া টাকার সিংহভাগ ভূমি উন্নয়নসহ বাণিজ্যিক জেটি তৈরির কাজে ব্যবহার হবে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই টাকা পরিশোধ করবে।