আইসিসি ওয়েবসাইটে নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা

বাবা ছিলেন আমার নেট বোলার এবং মা বলগার্ল

নারীদের বিশ্বকাপ বাছাই ক্রিকেটের প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তানের পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র নারী দলকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে নিগার সুলতানার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

মঙ্গলবার (যুক্তরাষ্ট্রর বিপক্ষে ম্যাচের আগে) নিজেদের ওয়েবসাইটে নিগার সুলতানাকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে আইসিসি। সেখানে অধিনায়কত্বসহ নানান বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারানোর পর ‘আমরা করবো জয়’ গানে উল্লাস করার কথাও এসেছে।

সাক্ষাৎকারে নিগার শুরুতেই এমন উচ্ছ্বাসের কারণ ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা করবো জয়- মানে হলো আমরা জিততে যাচ্ছি এবং আমরা জিতবো। এটা আমাদের ভালো করার অনুপ্রেরণা, সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগায়।’

এখন নিগারের লক্ষ্য আরও বড়। বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে আরও অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ চান তিনি, ‘পাকিস্তানকে হারানোর মাধ্যমে আমরা দারুণ শুরু পেয়েছি। আমাদের মনোযোগ এখনও বাছাই পর্বে। কারণ, এটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি বিশ্বকাপে খেলতে পারি, তাহলে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবো।’

করোনাভাইরাসের কারণে সালমা-জাহানারারা অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন দুই বছর পর। তার আগে নিজেদের উদ্যোগে নানাভাবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্ততি নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নিগার বলেছেন, ‘টি-২০ বিশ্বকাপের পর আসলে ঘরে বসে ছিলাম। প্রথম দুই তিন মাস আমাদের জন্য কঠিন ছিল। কারণ, এতে অভ্যস্ত ছিলাম না। আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ের বাবা-মা নেটে বল ছুড়ে অনুশীলন করিয়েছে। আমার বাবাও নেট আনলেন, সেটা আমাদের মাছ ধরার জাল। কারণ, মহামারির কারণে তখন বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি আমাকে বল ছুড়েছেন, বাবা ছিলেন নেট বোলার এবং বলগার্ল ছিলেন আমার মা।’

এরপর খেলায় ফিরলে নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে কাজ করেছেন সবাই। নিগারের মতে, মূলত এই কঠোর পরিশ্রমই দলের চেহারা পাল্টে দিয়েছে, ‘৬ মাস পর আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে মাঠে খেলার সুযোগ পাই। ওই সময় আমাদের প্রত্যেকে তাদের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে কাজ করেছে এবং সেটাই আমাদের দলের বাইরের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। আমরা একসঙ্গে কয়েক বছর ধরে ম্যাচ খেলেছি, একে অন্যকে ভালোভাবে জানি। এখানে আসার আগে অনেক ঘরোয়া ম্যাচ খেলেছি, সম্ভবত ২৫ ম্যাচ। কারণ, জানতাম যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবো না, এই ম্যাচগুলো খেলেই বাছাইয়ের প্রস্ততি নিতে হবে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের কথা জেনেছি দুই তিন সপ্তাহ আগে। তখনই নিজেদের বোঝালাম, এটা সুযোগ। আর তা কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রস্তত করলাম।’

ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে হুট করে নেতৃত্ব পেলেও নিগারের কাছে বিষয়টা কঠিন কিছু নয়। তিনি বলেছেন, নেতৃত্বগুণটা আছে তার রক্তে, ‘যখন আমি ছোট ছিলাম, তখন ক্লাসের ক্যাপ্টেন ছিলাম। আসলে নেতৃত্ব আমার রক্তে ছিল। আমার ভাইও আমাকে প্রায় সময় বলতো, ‘তুমি একদিন ক্যাপ্টেন হবে।’ সে আমাকে ওভাবেই বড় করেছে। তাই আমার কখনও মনে হয়নি বড্ড আগে ভাগে অধিনায়কত্ব পেয়ে গেছি।’

উইকেটকিপার হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেয়া তুলনামূলক সহজ বলে মনে করেন নিগার, ‘আমি মাঝে মধ্যে মাঠে অদ্ভুত সব জিনিস করি, যা কাজে লেগে যায়। একজন উইকেটকিপার ম্যাচের অবস্থা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে এবং একজন অধিনায়কের পুরো মাঠ পরিষ্কারভাবে দেখতে পারাটা জরুরি। আমি মনে করি এটাই সবচেয়ে ভালো জায়গা যেখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় কোথায় আপনার ফিল্ডার এবং কোন জায়গায় ফাঁকা আছে। আর এটা আমাকে ব্যাটিংয়েও অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কারণ, আমি উইকেট সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারি এবং কী হতে যাচ্ছে সেটাও বুঝতে পারি।’

নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে নিগার বলেছেন, ‘তিন সাবেক অধিনায়ক আমাদের দলে। আমি ভাবতাম আমার সুযোগ আছে, কিন্তু এখনই নয়, হয়তো পরে। আমি আমার দলকে সবসময় উজ্জীবিত রাখতে চেষ্টা করি। আমার মনে হয় যদি সেরাটা খেলি এবং দলকে সঠিক রাস্তা দেখাতে পারি, তাহলে এটা হবে ইতিহাস।’

বুধবার, ২৪ নভেম্বর ২০২১ , ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

আইসিসি ওয়েবসাইটে নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা

বাবা ছিলেন আমার নেট বোলার এবং মা বলগার্ল

image

নারীদের বিশ্বকাপ বাছাই ক্রিকেটের প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তানের পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র নারী দলকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে নিগার সুলতানার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

মঙ্গলবার (যুক্তরাষ্ট্রর বিপক্ষে ম্যাচের আগে) নিজেদের ওয়েবসাইটে নিগার সুলতানাকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে আইসিসি। সেখানে অধিনায়কত্বসহ নানান বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারানোর পর ‘আমরা করবো জয়’ গানে উল্লাস করার কথাও এসেছে।

সাক্ষাৎকারে নিগার শুরুতেই এমন উচ্ছ্বাসের কারণ ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা করবো জয়- মানে হলো আমরা জিততে যাচ্ছি এবং আমরা জিতবো। এটা আমাদের ভালো করার অনুপ্রেরণা, সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগায়।’

এখন নিগারের লক্ষ্য আরও বড়। বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে আরও অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ চান তিনি, ‘পাকিস্তানকে হারানোর মাধ্যমে আমরা দারুণ শুরু পেয়েছি। আমাদের মনোযোগ এখনও বাছাই পর্বে। কারণ, এটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি বিশ্বকাপে খেলতে পারি, তাহলে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবো।’

করোনাভাইরাসের কারণে সালমা-জাহানারারা অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন দুই বছর পর। তার আগে নিজেদের উদ্যোগে নানাভাবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্ততি নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নিগার বলেছেন, ‘টি-২০ বিশ্বকাপের পর আসলে ঘরে বসে ছিলাম। প্রথম দুই তিন মাস আমাদের জন্য কঠিন ছিল। কারণ, এতে অভ্যস্ত ছিলাম না। আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ের বাবা-মা নেটে বল ছুড়ে অনুশীলন করিয়েছে। আমার বাবাও নেট আনলেন, সেটা আমাদের মাছ ধরার জাল। কারণ, মহামারির কারণে তখন বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি আমাকে বল ছুড়েছেন, বাবা ছিলেন নেট বোলার এবং বলগার্ল ছিলেন আমার মা।’

এরপর খেলায় ফিরলে নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে কাজ করেছেন সবাই। নিগারের মতে, মূলত এই কঠোর পরিশ্রমই দলের চেহারা পাল্টে দিয়েছে, ‘৬ মাস পর আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে মাঠে খেলার সুযোগ পাই। ওই সময় আমাদের প্রত্যেকে তাদের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে কাজ করেছে এবং সেটাই আমাদের দলের বাইরের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। আমরা একসঙ্গে কয়েক বছর ধরে ম্যাচ খেলেছি, একে অন্যকে ভালোভাবে জানি। এখানে আসার আগে অনেক ঘরোয়া ম্যাচ খেলেছি, সম্ভবত ২৫ ম্যাচ। কারণ, জানতাম যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবো না, এই ম্যাচগুলো খেলেই বাছাইয়ের প্রস্ততি নিতে হবে। জিম্বাবুয়ে সিরিজের কথা জেনেছি দুই তিন সপ্তাহ আগে। তখনই নিজেদের বোঝালাম, এটা সুযোগ। আর তা কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রস্তত করলাম।’

ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে হুট করে নেতৃত্ব পেলেও নিগারের কাছে বিষয়টা কঠিন কিছু নয়। তিনি বলেছেন, নেতৃত্বগুণটা আছে তার রক্তে, ‘যখন আমি ছোট ছিলাম, তখন ক্লাসের ক্যাপ্টেন ছিলাম। আসলে নেতৃত্ব আমার রক্তে ছিল। আমার ভাইও আমাকে প্রায় সময় বলতো, ‘তুমি একদিন ক্যাপ্টেন হবে।’ সে আমাকে ওভাবেই বড় করেছে। তাই আমার কখনও মনে হয়নি বড্ড আগে ভাগে অধিনায়কত্ব পেয়ে গেছি।’

উইকেটকিপার হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেয়া তুলনামূলক সহজ বলে মনে করেন নিগার, ‘আমি মাঝে মধ্যে মাঠে অদ্ভুত সব জিনিস করি, যা কাজে লেগে যায়। একজন উইকেটকিপার ম্যাচের অবস্থা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে এবং একজন অধিনায়কের পুরো মাঠ পরিষ্কারভাবে দেখতে পারাটা জরুরি। আমি মনে করি এটাই সবচেয়ে ভালো জায়গা যেখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় কোথায় আপনার ফিল্ডার এবং কোন জায়গায় ফাঁকা আছে। আর এটা আমাকে ব্যাটিংয়েও অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কারণ, আমি উইকেট সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারি এবং কী হতে যাচ্ছে সেটাও বুঝতে পারি।’

নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে নিগার বলেছেন, ‘তিন সাবেক অধিনায়ক আমাদের দলে। আমি ভাবতাম আমার সুযোগ আছে, কিন্তু এখনই নয়, হয়তো পরে। আমি আমার দলকে সবসময় উজ্জীবিত রাখতে চেষ্টা করি। আমার মনে হয় যদি সেরাটা খেলি এবং দলকে সঠিক রাস্তা দেখাতে পারি, তাহলে এটা হবে ইতিহাস।’