যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব ওএসডি

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন ও সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজাকে ওসডি করা হয়েছে।

গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত আদেশে তাদেরকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরে সংযুক্তির আদেশ দেয়া হয়েছে। অপর এক আদেশে যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আহসান হাবীবকে যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে রাজশাহী এ এইচ এম কামরুজ্জামান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল খালেক সরকারকে।

দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সংস্থার যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর যশোর শিক্ষাবোর্ডে প্রথম জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এরপর একে একে বেরিয়ে আসে বোর্ড থেকে ৩৬টি চেকের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৭ কোটি টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করে।

চেক জালিয়াতির একমাস ৭ দিন পর রিপোর্ট জমা দেয় তদন্ত কমিটি। গত রোববার বিকেলে বোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে রিপোর্ট জমা দেয়া হয়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে শিক্ষাবোর্ডের ৭ কোটি টাকা জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান, সচিব ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটির শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলম।

১৮ অক্টোবর দুদক’র সমন্বিত যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল এ বিষয়ে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। অভিযুক্তরা হলেন, শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সাবেক সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, প্রতারক প্রতিষ্ঠান ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটির শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলমের নামে মামলা করেন।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ও তদন্ত কমিটির প্রধান কেএম রব্বানি জানান, জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। ইতোমধ্যে ৫৮ পৃষ্ঠার রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে। ৩৬টি চেকের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৭ কোটি টাকা। জালিয়াতির সঙ্গে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা জড়িত রয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় টাকা বের করে নেয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ইতোমধ্যে তদন্তকাজ শুরু করা হয়েছে। আতœসাতকৃত টাকার শেষ গন্তব্যস্থল খুঁজে বের করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১ , ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব ওএসডি

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন ও সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজাকে ওসডি করা হয়েছে।

গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত আদেশে তাদেরকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরে সংযুক্তির আদেশ দেয়া হয়েছে। অপর এক আদেশে যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আহসান হাবীবকে যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে রাজশাহী এ এইচ এম কামরুজ্জামান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল খালেক সরকারকে।

দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সংস্থার যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর যশোর শিক্ষাবোর্ডে প্রথম জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এরপর একে একে বেরিয়ে আসে বোর্ড থেকে ৩৬টি চেকের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৭ কোটি টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করে।

চেক জালিয়াতির একমাস ৭ দিন পর রিপোর্ট জমা দেয় তদন্ত কমিটি। গত রোববার বিকেলে বোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে রিপোর্ট জমা দেয়া হয়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে শিক্ষাবোর্ডের ৭ কোটি টাকা জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান, সচিব ও জালিয়াতি চক্রের প্রধান ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটির শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলম।

১৮ অক্টোবর দুদক’র সমন্বিত যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল এ বিষয়ে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। অভিযুক্তরা হলেন, শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সাবেক সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, প্রতারক প্রতিষ্ঠান ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটির শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলমের নামে মামলা করেন।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ও তদন্ত কমিটির প্রধান কেএম রব্বানি জানান, জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। ইতোমধ্যে ৫৮ পৃষ্ঠার রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে। ৩৬টি চেকের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৭ কোটি টাকা। জালিয়াতির সঙ্গে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা জড়িত রয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় টাকা বের করে নেয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ইতোমধ্যে তদন্তকাজ শুরু করা হয়েছে। আতœসাতকৃত টাকার শেষ গন্তব্যস্থল খুঁজে বের করা হবে।