ঢাকার ষষ্ঠ শিরোপা

দেশের প্রধান ঘরোয়া টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বিভাগ। ষষ্ঠ রাউন্ডে খুলনা বিভাগকে ১৭৯ রানে হারিয়ে সাত বছর পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজধানীর দলটি। বুধবার বিকেএসপির মাঠে ঢাকার দেয়া ৩৭৯ রানের লক্ষে খেলতে নেমে ১৯৯ রানে অলআউট হয় খুলনা। ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাইবুর রহমানের দল।

৩৭৯ রানের চাপ মাথায় নিয়ে মঙ্গলবার শেষ বিকেলে ব্যাটিং শুরু করেছিল খুলনা। ইমরুল কায়েস-অমিত মজুমদার কোন বিপদ ছাড়াই দিন শেষ করে আসেন। চতুর্থ দিন সকালে শুরুতেই ফেরেন ইমরুল। এরপর অমিতের সঙ্গী হন রবিউল ইসলাম। দু’জনে পানিপানের বিরতি পর্যন্ত ব্যাটিং করেন নির্বিঘেœ। কিন্তু এরপরেই যেন ধস নামে খুলনার ব্যাটিংয়ে। দলীয় ৪৩ রানে অমিত আউট হন ব্যক্তিগত ২০ রানে। এরপর মাত্র ২৯ রান না যোগ হতেই খুলনা হারায় আরও ৪ উইকেট। শূন্য রানে ফেরেন সৌম্য। তার আউটের ক্ষত না মুছতেই সাজঘরে ফেরেন ক্রিজে থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান রবি। তার ব্যাট থেকে আসে ৯২ বলে ২০ রান।

আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে মোহাম্মদ মিঠুন ফেরেন ১৪ রানে। তার আউটের পর ক্রিজে এসে রানের খাতা খুলতে পারেননি জিয়া। পানিপানের বিরতি থেকে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে খুলনার হারের চিত্রনাট্য লেখা হয়ে যায়। এরপর নাহিদুল ইসলাম-ইমরানুজ্জামানের ব্যাটে লড়াই করেছিল খুলনা। দু’জনে টুকে টুকে সময় পার করে ড্রয়ের দিকে নেয়ার চেষ্টা করতে ছিলেন। কিন্তু নাহিদুল ১০৯ বলে ৪০ রানের বেশি করতে পারেননি। তারপরেই ফেরেন ইমরানুজ্জমান। ১০৭ বলে ৩২ রান আসে ইমরানের ব্যাট থেকে।

এরপর ক্রিজে আসেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। তিনি ৬৩ বলে ২৯ রান করে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আল আমিন ১৯ রানে আউট হলে বড় ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায় ঢাকা। ঢাকার হয়ে একাই ৫ উইকেট নেন অধিনায়ক তাইবুর। ১৭.১ ওভারে ৮৯ রান দিয়ে তিনি এই উইকেটগুলো নেন। এছাড়া তিন উইকেট নেন শুভাগত হোম। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে।

প্রথম স্তরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল রংপুরের সামনেও। ২৮.৮৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা শীর্ষে ছিল। কিন্তু সিলেটের বিপক্ষে ড্র হওয়ায়, আর ঢাকা ম্যাচ জেতায় ভাগ্য সহায় হয়নি। জাতীয় লীগে ঢাকা সর্বশেষ ২০১৩-১৪ সেশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল খুলনা। মোট সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। আর এবার চ্যাম্পিয়ন তো দূরে থাক, দলটিকে নেমে যেতে হচ্ছে এক ধাপ নিচে, দ্বিতীয় স্তরে। সিলেট রংপুরের বিপক্ষে ড্র হওয়ায় রুপসা পাড়ের দলটি নেমে যাচ্ছে পরের স্তরে।

সিলেট-রংপুরের ম্যাচ ড্র

প্রথম তিন দিনে দুই দলের প্রথম ইনিংস শেষ না হওয়ায় অনুমিতই ছিল ম্যাচের ফল। হয়েছেও তাই, সিলেট ও রংপুর বিভাগের প্রথম স্তরের ম্যাচটি ড্র হয়েছে।

অমিমাংসিত এই ফলের সুবাদে জাতীয় লীগের আগামী আসরে প্রথম স্তরেই থাকছে দল দুটি। ২ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৩১.৭৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হয়েছে রংপুর। আর এক জয় ও ২ ড্রয়ে ২০.৫৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে সিলেট।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে বুধবার সিলেটের ইনিংস শেষ হয় ৫৪০ রানে। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান করে রংপুর। প্রথম ইনিংসে ১৮৬ রান করা সিলেটের অমিত হাসান জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১ , ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

ঢাকার ষষ্ঠ শিরোপা

image

দেশের প্রধান ঘরোয়া টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বিভাগ। ষষ্ঠ রাউন্ডে খুলনা বিভাগকে ১৭৯ রানে হারিয়ে সাত বছর পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজধানীর দলটি। বুধবার বিকেএসপির মাঠে ঢাকার দেয়া ৩৭৯ রানের লক্ষে খেলতে নেমে ১৯৯ রানে অলআউট হয় খুলনা। ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাইবুর রহমানের দল।

৩৭৯ রানের চাপ মাথায় নিয়ে মঙ্গলবার শেষ বিকেলে ব্যাটিং শুরু করেছিল খুলনা। ইমরুল কায়েস-অমিত মজুমদার কোন বিপদ ছাড়াই দিন শেষ করে আসেন। চতুর্থ দিন সকালে শুরুতেই ফেরেন ইমরুল। এরপর অমিতের সঙ্গী হন রবিউল ইসলাম। দু’জনে পানিপানের বিরতি পর্যন্ত ব্যাটিং করেন নির্বিঘেœ। কিন্তু এরপরেই যেন ধস নামে খুলনার ব্যাটিংয়ে। দলীয় ৪৩ রানে অমিত আউট হন ব্যক্তিগত ২০ রানে। এরপর মাত্র ২৯ রান না যোগ হতেই খুলনা হারায় আরও ৪ উইকেট। শূন্য রানে ফেরেন সৌম্য। তার আউটের ক্ষত না মুছতেই সাজঘরে ফেরেন ক্রিজে থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান রবি। তার ব্যাট থেকে আসে ৯২ বলে ২০ রান।

আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে মোহাম্মদ মিঠুন ফেরেন ১৪ রানে। তার আউটের পর ক্রিজে এসে রানের খাতা খুলতে পারেননি জিয়া। পানিপানের বিরতি থেকে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে খুলনার হারের চিত্রনাট্য লেখা হয়ে যায়। এরপর নাহিদুল ইসলাম-ইমরানুজ্জামানের ব্যাটে লড়াই করেছিল খুলনা। দু’জনে টুকে টুকে সময় পার করে ড্রয়ের দিকে নেয়ার চেষ্টা করতে ছিলেন। কিন্তু নাহিদুল ১০৯ বলে ৪০ রানের বেশি করতে পারেননি। তারপরেই ফেরেন ইমরানুজ্জমান। ১০৭ বলে ৩২ রান আসে ইমরানের ব্যাট থেকে।

এরপর ক্রিজে আসেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। তিনি ৬৩ বলে ২৯ রান করে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আল আমিন ১৯ রানে আউট হলে বড় ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায় ঢাকা। ঢাকার হয়ে একাই ৫ উইকেট নেন অধিনায়ক তাইবুর। ১৭.১ ওভারে ৮৯ রান দিয়ে তিনি এই উইকেটগুলো নেন। এছাড়া তিন উইকেট নেন শুভাগত হোম। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে।

প্রথম স্তরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল রংপুরের সামনেও। ২৮.৮৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা শীর্ষে ছিল। কিন্তু সিলেটের বিপক্ষে ড্র হওয়ায়, আর ঢাকা ম্যাচ জেতায় ভাগ্য সহায় হয়নি। জাতীয় লীগে ঢাকা সর্বশেষ ২০১৩-১৪ সেশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল খুলনা। মোট সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। আর এবার চ্যাম্পিয়ন তো দূরে থাক, দলটিকে নেমে যেতে হচ্ছে এক ধাপ নিচে, দ্বিতীয় স্তরে। সিলেট রংপুরের বিপক্ষে ড্র হওয়ায় রুপসা পাড়ের দলটি নেমে যাচ্ছে পরের স্তরে।

সিলেট-রংপুরের ম্যাচ ড্র

প্রথম তিন দিনে দুই দলের প্রথম ইনিংস শেষ না হওয়ায় অনুমিতই ছিল ম্যাচের ফল। হয়েছেও তাই, সিলেট ও রংপুর বিভাগের প্রথম স্তরের ম্যাচটি ড্র হয়েছে।

অমিমাংসিত এই ফলের সুবাদে জাতীয় লীগের আগামী আসরে প্রথম স্তরেই থাকছে দল দুটি। ২ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৩১.৭৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হয়েছে রংপুর। আর এক জয় ও ২ ড্রয়ে ২০.৫৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে সিলেট।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে বুধবার সিলেটের ইনিংস শেষ হয় ৫৪০ রানে। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান করে রংপুর। প্রথম ইনিংসে ১৮৬ রান করা সিলেটের অমিত হাসান জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।