নারীর সুরক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটাতে হবে

বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাস চলাকালে গত অর্থবছরে দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মোট ২১ হাজার ৭৮৯টি ঘটনা ঘটেছে, তার আগের অর্থবছরে সংখ্যাটি ছিল ১৮ হাজার ৫০২।

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এতদিন বলে আসছিল যে, মহামারীকালে দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বেড়েছে। সরকারের দেয়া পরিসংখ্যান থেকেও এখন একই তথ্য মিলল। গণমাধ্যমে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের খবর প্রায় প্রতিদিনই প্রকাশিত হয়। তবে অনেক ঘটনায় লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে যায়। খুব কম খবরই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বৈশ্বিক মহামারী করোনার মধ্যেও নির্যাতন-ধর্ষণ বন্ধ হয়নি বরং বেড়েছে। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি নারীরা মানসিক নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দেশে অনেক আইন আছে। ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করা হয়েছে। বাস্তবে এই আইনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। দেশে ধর্ষণ কমেনি। নারী নিজ পরিবারেই নির্যাতিত হচ্ছে বেশি। নারীর প্রতি সমাজে বিদ্যমান নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারী নির্যাতন বন্ধ করা যাচ্ছে না।

নির্যাভতনের বেশিরভাগ ঘটনায় আইনি প্রতিকার মেলে না। নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। অথচ ১০০ দিনের মধ্যে নির্যাতনের বিচার হওয়ার কথা। এক হিসাব অনুযায়ী, নারী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করার পর ১০ শতাংশের বেশি সাজা নিশ্চিত হয় না। অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

শুধু আইন করাই যথেষ্ট নয়, এর কঠোর প্রয়োগ ঘটানো জরুরি। আইন প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে নারী নির্যাতনের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নারীর প্রতি সব রকম সহিংসতা বন্ধে সবাইকে আরও সোচ্চার হতে হবে। নারীর সুরক্ষায় যেসব আইন আছে, সে সবের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১ , ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

নারীর সুরক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটাতে হবে

বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাস চলাকালে গত অর্থবছরে দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মোট ২১ হাজার ৭৮৯টি ঘটনা ঘটেছে, তার আগের অর্থবছরে সংখ্যাটি ছিল ১৮ হাজার ৫০২।

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এতদিন বলে আসছিল যে, মহামারীকালে দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বেড়েছে। সরকারের দেয়া পরিসংখ্যান থেকেও এখন একই তথ্য মিলল। গণমাধ্যমে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের খবর প্রায় প্রতিদিনই প্রকাশিত হয়। তবে অনেক ঘটনায় লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে যায়। খুব কম খবরই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বৈশ্বিক মহামারী করোনার মধ্যেও নির্যাতন-ধর্ষণ বন্ধ হয়নি বরং বেড়েছে। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি নারীরা মানসিক নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দেশে অনেক আইন আছে। ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করা হয়েছে। বাস্তবে এই আইনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। দেশে ধর্ষণ কমেনি। নারী নিজ পরিবারেই নির্যাতিত হচ্ছে বেশি। নারীর প্রতি সমাজে বিদ্যমান নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারী নির্যাতন বন্ধ করা যাচ্ছে না।

নির্যাভতনের বেশিরভাগ ঘটনায় আইনি প্রতিকার মেলে না। নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। অথচ ১০০ দিনের মধ্যে নির্যাতনের বিচার হওয়ার কথা। এক হিসাব অনুযায়ী, নারী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করার পর ১০ শতাংশের বেশি সাজা নিশ্চিত হয় না। অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

শুধু আইন করাই যথেষ্ট নয়, এর কঠোর প্রয়োগ ঘটানো জরুরি। আইন প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে নারী নির্যাতনের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নারীর প্রতি সব রকম সহিংসতা বন্ধে সবাইকে আরও সোচ্চার হতে হবে। নারীর সুরক্ষায় যেসব আইন আছে, সে সবের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।