শুরু হলো বুস্টার ডোজ

করোনাভাইরাস টিকার বুস্টার অর্থাৎ তৃতীয় ডোজের গণপ্রয়োগ শুরু হয়েছে। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে।

ঢাকায় ষাটোর্ধ্ব ও ‘ফ্রন্টলাইনারদের’ বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। আপতত শুধুমাত্র ঢাকায় বুস্টার ডোজের কর্মসূচি চলবে। বুস্টার হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফাইজারের টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে অ্যাস্টাজেনেকা ও মর্ডানার টিকারও বুস্টার ডোজ দেয়া হবে।

ঢামেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশরাফুর আলম জানিয়েছেন, ঢামেক থেকে সোমবার রাতে সাড়ে চারশ’ মানুষকে এসএমএস দেয়া হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন টিকা নিয়েছেন। ঢামেকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টিকা কর্মসূচি চলে।

রাজধানীর শ্যামলী টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, তারা এই কেন্দ্রে প্রথমদিন বুস্টার ডোজ দেয়ার জন্য আগেরদিন রাত থেকে এক হাজার মানুষকে এসএমএস পাঠায়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের কেন্দ্রে প্রায় ৪০০ মানুষকে বুস্টার ডোজ দেয়া হয়।

যাদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার অন্তত ছয় মাস পেরিয়েছে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে তৃতীয় ডোজ দেয়া হচ্ছে। সেজন্য নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। যারা তৃতীয় ডোজ পাওয়ার যোগ্য, তাদের কাছে এসএমএস চলে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত ১৯ ডিসেম্বর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএসএ) মিলনায়তনে পরীক্ষামূলকভাবে বুস্টার ডোজ দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওইদিন ৬০ জনকে বুস্টার ডোজ দেয়া হয়।

এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর প্রায় ১০ মাস ২০ দিন পর বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। গত নভেম্বরের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়। এরপর এটি শতাধিক দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও বুস্টার ডোজ দেয়ার পরামর্শ দেয় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’।

গবেষকরা বলছেন, দুই ডোজ টিকা ওমিক্রনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে না। সেজন্যই বুস্টার প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১২ কোটি ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৯ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন সাত কোটি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৩ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশের বেশি।

পূর্ণ ডোজ (দ্বিতীয়) পেয়েছেন চার কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৬ জন। এ সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২৯ শতাংশের বেশি।

বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ , ১৯ পৌষ ১৪২৮ ২৪ জমাদিউল আউয়াল

শুরু হলো বুস্টার ডোজ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ঢাকা মেডিকেলে বুস্টার ডোজ কার্যক্রম

করোনাভাইরাস টিকার বুস্টার অর্থাৎ তৃতীয় ডোজের গণপ্রয়োগ শুরু হয়েছে। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে।

ঢাকায় ষাটোর্ধ্ব ও ‘ফ্রন্টলাইনারদের’ বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে। আপতত শুধুমাত্র ঢাকায় বুস্টার ডোজের কর্মসূচি চলবে। বুস্টার হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফাইজারের টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে অ্যাস্টাজেনেকা ও মর্ডানার টিকারও বুস্টার ডোজ দেয়া হবে।

ঢামেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশরাফুর আলম জানিয়েছেন, ঢামেক থেকে সোমবার রাতে সাড়ে চারশ’ মানুষকে এসএমএস দেয়া হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন টিকা নিয়েছেন। ঢামেকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টিকা কর্মসূচি চলে।

রাজধানীর শ্যামলী টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, তারা এই কেন্দ্রে প্রথমদিন বুস্টার ডোজ দেয়ার জন্য আগেরদিন রাত থেকে এক হাজার মানুষকে এসএমএস পাঠায়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের কেন্দ্রে প্রায় ৪০০ মানুষকে বুস্টার ডোজ দেয়া হয়।

যাদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার অন্তত ছয় মাস পেরিয়েছে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে তৃতীয় ডোজ দেয়া হচ্ছে। সেজন্য নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। যারা তৃতীয় ডোজ পাওয়ার যোগ্য, তাদের কাছে এসএমএস চলে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত ১৯ ডিসেম্বর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএসএ) মিলনায়তনে পরীক্ষামূলকভাবে বুস্টার ডোজ দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওইদিন ৬০ জনকে বুস্টার ডোজ দেয়া হয়।

এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি দেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর প্রায় ১০ মাস ২০ দিন পর বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। গত নভেম্বরের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়। এরপর এটি শতাধিক দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও বুস্টার ডোজ দেয়ার পরামর্শ দেয় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’।

গবেষকরা বলছেন, দুই ডোজ টিকা ওমিক্রনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে না। সেজন্যই বুস্টার প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১২ কোটি ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৯ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন সাত কোটি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৩ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশের বেশি।

পূর্ণ ডোজ (দ্বিতীয়) পেয়েছেন চার কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯৬ জন। এ সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২৯ শতাংশের বেশি।