বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসী দলের গোলাগুলি, নিহত ২

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর মধ্যে গোলাগুলি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের দুই কিলো. নামক স্থানে গতকাল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের জানং চাকমা (৩৮) ও অন্যজন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) তজিম চাকমা (৩৫)। এ সময় একজন পথচারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল দুপুরের দিকে উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের দুই কিলো নামক এলাকায় বসে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা দোকানে চা পান করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের সদস্যরা গিয়ে অতর্কিত হামলা চালালে ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষের মধ্যে এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনাইটেড পিললস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের গণতান্ত্রিক দলের উপজেলা সমন্বয়ক জেনন চাকমা ও সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সেকশন কমান্ডার তজিম চাকমা নিহত হন। এ সময় জনসংহতি সমিতির সদস্য সুজন চাকমা ও পথচারী মো. মনু মিয়া নামের এক যুবকের হাটুতে গুলি লাগে। তাকে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহত সুজন চাকমাকে তার দলের সদস্য নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে ঘটনাস্থলে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার জনসংহতি সমিতির এমএন লারমা দলের সাধারণ সম্পাদক জোসি চাকমা দাবি করেছেন, জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা ইউপিডিএফের গণতান্ত্রিক সম্বয়ক জানং চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে। তজিম চাকমা নিজেদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে জেএসএস সন্তু লারমা দলের বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিপ চাকমা ওরপে দীপ বাবু এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের দলে কোন সন্ত্রাসী অস্ত্রধারী নেই। তার দল পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। তার দল জনগণের জন্য কাজ করছে।

বাঘাইছড়ি থানার ওসি আনোয়ার হোসেন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকা থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ , ২০ পৌষ ১৪২৮ ২৫ জমাদিউল আউয়াল

বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসী দলের গোলাগুলি, নিহত ২

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর মধ্যে গোলাগুলি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পার্বত্যাঞ্চল

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের দুই কিলো. নামক স্থানে গতকাল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের জানং চাকমা (৩৮) ও অন্যজন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) তজিম চাকমা (৩৫)। এ সময় একজন পথচারীসহ দুইজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল দুপুরের দিকে উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের দুই কিলো নামক এলাকায় বসে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা দোকানে চা পান করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের সদস্যরা গিয়ে অতর্কিত হামলা চালালে ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষের মধ্যে এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনাইটেড পিললস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের গণতান্ত্রিক দলের উপজেলা সমন্বয়ক জেনন চাকমা ও সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সেকশন কমান্ডার তজিম চাকমা নিহত হন। এ সময় জনসংহতি সমিতির সদস্য সুজন চাকমা ও পথচারী মো. মনু মিয়া নামের এক যুবকের হাটুতে গুলি লাগে। তাকে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহত সুজন চাকমাকে তার দলের সদস্য নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে ঘটনাস্থলে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার জনসংহতি সমিতির এমএন লারমা দলের সাধারণ সম্পাদক জোসি চাকমা দাবি করেছেন, জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা ইউপিডিএফের গণতান্ত্রিক সম্বয়ক জানং চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে। তজিম চাকমা নিজেদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে জেএসএস সন্তু লারমা দলের বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিপ চাকমা ওরপে দীপ বাবু এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের দলে কোন সন্ত্রাসী অস্ত্রধারী নেই। তার দল পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। তার দল জনগণের জন্য কাজ করছে।

বাঘাইছড়ি থানার ওসি আনোয়ার হোসেন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকা থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।