ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, হলি ফ্যামেলির শিক্ষক গ্রেপ্তার

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বড় মগবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরী ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. দৌলিতুজ্জামান বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন ও হুমকি দেয়ার অভিযোগটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত গঠিত কমিটিতে তদন্তাধীন। চাকরিবিধি অনুযায়ী এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিবিধি অনুযায়ী পরবর্তীতে অন্য কার্যক্রমের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান অধ্যাপক ড. মো. দৌলিতুজ্জামান।

এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন কলেজটির শেষ বর্ষের ওই ছাত্রী। পরে গত মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ওই শিক্ষকের নামে একটি মামলা দায়ের করেন ওই ছাত্রী।

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময় অশ্লীল, অনৈতিক ও বিব্রতকর টেক্সট করেছেন। যার ডিজিটাল প্রিন্ট রয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে বাসায় টিউশনির বিষয়ে প্রস্তাব করেছেন বলেও স্বীকার করেছন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

যৌন হয়রানির বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমার মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরী গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মেসেঞ্জারে আমাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে এক শিক্ষাবর্ষে অনেক বছর আটকে রাখবে বলে হুমকি দেয়। এরপর কলেজে বিভিন্নভাবে ডেকে আমাকে উনার দেয়া মেসেজ ফোন থেকে মুছে দিতে আর উনার সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করতে বলেন। ওই ছাত্রী আরও বলেন, এর আগে উনি আমাকে কলেজে প্রাইভেট পড়াবেন বলে দুই দফায় ২০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু পড়াননি।

পড়ার জন্য বারবার আমাকে তার বাসায় আসতে বলেন, যাতে আমি কখনই রাজি হইনি। এতে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হন। আমি আমার ও আমার পরিবারের মানসম্মানের ভয়ে এতদিন কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি। কিন্তু দিন দিন অবস্থা এতই খারাপ হয় যে, আমার কলেজে পড়ালেখা চরম হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এখন তিনি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন। আমি এরই মধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানায় এই মর্মে একটা জিডি করেছি। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে রমনা থানায় মামলা করি।

বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ , ২০ পৌষ ১৪২৮ ২৫ জমাদিউল আউয়াল

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, হলি ফ্যামেলির শিক্ষক গ্রেপ্তার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বড় মগবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরী ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. দৌলিতুজ্জামান বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন ও হুমকি দেয়ার অভিযোগটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত গঠিত কমিটিতে তদন্তাধীন। চাকরিবিধি অনুযায়ী এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিবিধি অনুযায়ী পরবর্তীতে অন্য কার্যক্রমের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান অধ্যাপক ড. মো. দৌলিতুজ্জামান।

এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন কলেজটির শেষ বর্ষের ওই ছাত্রী। পরে গত মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ওই শিক্ষকের নামে একটি মামলা দায়ের করেন ওই ছাত্রী।

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময় অশ্লীল, অনৈতিক ও বিব্রতকর টেক্সট করেছেন। যার ডিজিটাল প্রিন্ট রয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে বাসায় টিউশনির বিষয়ে প্রস্তাব করেছেন বলেও স্বীকার করেছন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

যৌন হয়রানির বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমার মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরী গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মেসেঞ্জারে আমাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে এক শিক্ষাবর্ষে অনেক বছর আটকে রাখবে বলে হুমকি দেয়। এরপর কলেজে বিভিন্নভাবে ডেকে আমাকে উনার দেয়া মেসেজ ফোন থেকে মুছে দিতে আর উনার সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করতে বলেন। ওই ছাত্রী আরও বলেন, এর আগে উনি আমাকে কলেজে প্রাইভেট পড়াবেন বলে দুই দফায় ২০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু পড়াননি।

পড়ার জন্য বারবার আমাকে তার বাসায় আসতে বলেন, যাতে আমি কখনই রাজি হইনি। এতে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হন। আমি আমার ও আমার পরিবারের মানসম্মানের ভয়ে এতদিন কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি। কিন্তু দিন দিন অবস্থা এতই খারাপ হয় যে, আমার কলেজে পড়ালেখা চরম হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এখন তিনি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন। আমি এরই মধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানায় এই মর্মে একটা জিডি করেছি। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে রমনা থানায় মামলা করি।