তাইওয়ান স্বাধীনতার দিকে আগালে ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ নেবে চীন

বেইজিংয়ের এক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাইওয়ান স্বাধীনতার দিকে আগালে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে চীন। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে চীন। অঞ্চলটিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে গত দুই বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ জোরালো করেছে চীন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে তাইপে। উদ্বেগ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র মা জিয়াওগুয়াং বলেছেন চীন শান্তিপূর্ণভাবে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা নিয়ে রেড লাইন অতিক্রম করলে ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ‘তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি যদি স্বাধীনতার উসকানি দেয়, রেড লাইন অতিক্রমের চেষ্টা করে তাহলে আমাদের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তাইওয়ানের মূল আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। চীন নিয়মিতভাবে বলে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হলো তাইওয়ান। মা জিয়াওগুয়াং বলেন, সামনের মাসগুলোতে স্বাধীনতাপন্থী শক্তির উস্কানি এবং বাইরের হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে এবং আরও তীব্র হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর তাইওয়ান উপত্যকার পরিস্থিতি আরও জটিল ও তীব্র হয়ে পড়বে।’ তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়াতে গত কয়েক মাসে বারবার বিমান মহড়া চালিয়েছে বেইজিং। তবে তারা হুমকি দিতে এগুলো পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছে।

মায়ানমারকে সাবমেরিন

উপহার দিল চীন

মায়ানমারকে নতুন একটি সাবমেরিন উপহার দিয়েছে চীন। গত ২৪ ডিসেম্বর মায়ানমার নৌবাহিনীর ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে চীনের তরফ থেকে ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন উপহার দেয়া হয়। এর মাধ্যমে মায়ানমারের নৌবাহিনী এখন দুটি সাবমেরিন মালিক হল। মায়ানমারের দৈনিক ইরাবতীর খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ইয়াঙ্গুনে সিনিয়র জেনারেল মান অং হ্লাইংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ সাবমেরিনটি চীনের তরফ থেকে হস্তান্তর করা হয়।

চীনের দেয়া নতুন এই সাবমেরিনটি দুই পদ্ধতি চালানো যাবে। এটি ডিজেল এবং ইলেকট্রিক- দুই ভাবে পরিচালিত হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের কাছ থেকে রাশিয়ার তৈরি একটি কিলো ক্লাস সাবমেরিন ক্রয় করে মায়ানমার। আইএনএস সিন্ধুবীর নামের ওই সাবমেরিনটি মায়ানমার নৌবাহিনীতে ইউএমএস মানে থেইনখাতু নামে যুক্ত হয়।

বর্তমানে যুক্ত হওয়া মান ইয়ে কিয়াও তিন নামক দ্বিতীয় এ সাবমেরিনটি চীনের তৈরি একটি মাং ক্লাস টাইপ ০৩৫ সাবমেরিন। এটি দেশটির নৌবাহিনীতে অ্যাটাক সাবমেরিন ও প্রশিক্ষণ সাবমেরিন উভয় হিসেবে কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ , ২০ পৌষ ১৪২৮ ২৫ জমাদিউল আউয়াল

তাইওয়ান স্বাধীনতার দিকে আগালে ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ নেবে চীন

image

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন

বেইজিংয়ের এক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাইওয়ান স্বাধীনতার দিকে আগালে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে চীন। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে চীন। অঞ্চলটিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে গত দুই বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ জোরালো করেছে চীন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে তাইপে। উদ্বেগ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র মা জিয়াওগুয়াং বলেছেন চীন শান্তিপূর্ণভাবে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা নিয়ে রেড লাইন অতিক্রম করলে ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ‘তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি যদি স্বাধীনতার উসকানি দেয়, রেড লাইন অতিক্রমের চেষ্টা করে তাহলে আমাদের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তাইওয়ানের মূল আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। চীন নিয়মিতভাবে বলে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হলো তাইওয়ান। মা জিয়াওগুয়াং বলেন, সামনের মাসগুলোতে স্বাধীনতাপন্থী শক্তির উস্কানি এবং বাইরের হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে এবং আরও তীব্র হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর তাইওয়ান উপত্যকার পরিস্থিতি আরও জটিল ও তীব্র হয়ে পড়বে।’ তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়াতে গত কয়েক মাসে বারবার বিমান মহড়া চালিয়েছে বেইজিং। তবে তারা হুমকি দিতে এগুলো পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছে।

মায়ানমারকে সাবমেরিন

উপহার দিল চীন

মায়ানমারকে নতুন একটি সাবমেরিন উপহার দিয়েছে চীন। গত ২৪ ডিসেম্বর মায়ানমার নৌবাহিনীর ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে চীনের তরফ থেকে ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন উপহার দেয়া হয়। এর মাধ্যমে মায়ানমারের নৌবাহিনী এখন দুটি সাবমেরিন মালিক হল। মায়ানমারের দৈনিক ইরাবতীর খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ইয়াঙ্গুনে সিনিয়র জেনারেল মান অং হ্লাইংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ সাবমেরিনটি চীনের তরফ থেকে হস্তান্তর করা হয়।

চীনের দেয়া নতুন এই সাবমেরিনটি দুই পদ্ধতি চালানো যাবে। এটি ডিজেল এবং ইলেকট্রিক- দুই ভাবে পরিচালিত হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের কাছ থেকে রাশিয়ার তৈরি একটি কিলো ক্লাস সাবমেরিন ক্রয় করে মায়ানমার। আইএনএস সিন্ধুবীর নামের ওই সাবমেরিনটি মায়ানমার নৌবাহিনীতে ইউএমএস মানে থেইনখাতু নামে যুক্ত হয়।

বর্তমানে যুক্ত হওয়া মান ইয়ে কিয়াও তিন নামক দ্বিতীয় এ সাবমেরিনটি চীনের তৈরি একটি মাং ক্লাস টাইপ ০৩৫ সাবমেরিন। এটি দেশটির নৌবাহিনীতে অ্যাটাক সাবমেরিন ও প্রশিক্ষণ সাবমেরিন উভয় হিসেবে কাজ করবে।